ঢাকা ৩ ফাল্গুন ১৪৩১, রোববার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
English
রোববার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ৩ ফাল্গুন ১৪৩১

ভোলায় নতুন জাতের ধান চাষে ভালো ফলন

প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৮:৪৯ এএম
ভোলায় নতুন জাতের ধান চাষে ভালো ফলন
ধানখেত পরিচর্যা করছেন একজন কৃষক। ছবি: খবরের কাগজ

ভোলার লালমোহন উপজেলায় প্রথমবারের মতো উচ্চফলনশীল ব্রি ধান-১০৩ চাষ শুরু করেছেন কৃষকরা। কৃষি অফিসের সহায়তায় তারা বিনামূল্যে বীজ, সার ও কীটনাশক পেয়েছেন। ৪০০ শতাংশ জমিতে এই ধান চাষ করেছেন। আগামী ১০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে ধান কাটা শুরু হবে। কৃষি অফিসের সহায়তায়, এই জাতের ধান চাষে ভালো ফলন পাওয়া যাবে। এতে কৃষকরা লাভবান হবেন। খবর বাসসের।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পার্টনার প্রকল্পের আওতায় এই ধান চাষ শুরু হয়েছে। উপজেলার কালমা ইউনিয়নের চরছকিনা এবং পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের কলেজপাড়া এলাকার মোট ছয়জন কৃষক ব্রি ধান-১০৩ চাষ করেছেন। তাদের মধ্যে কালমা ইউনিয়নের কৃষকরা আগামী ১০ দিনের মধ্যে ধান কাটতে শুরু করবেন, আর পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের কৃষকরা একটু দেরিতে আবাদ করায় ২০-২৫ দিনের মধ্যে ধান কাটার প্রস্তুতি নেবেন।

এবার মোট ৪০০ শতাংশ জমিতে ব্রি ধান-১০৩ আবাদ করা হয়েছে। এসব ধান বাজারে বীজ হিসেবে বিক্রি করা হবে। কৃষকরা বাজারে প্রতি কেজি বীজ পাইকারি ৫০-৬০ টাকা এবং খুচরা ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন।

উপজেলার কালমা ইউনিয়নের চরছকিনা এলাকার কৃষক মো. বাবুল, মো. সেলিম এবং শেখ সাদি জানান, তারা চলতি আমনের মৌসুমে ২০০ শতাংশ জমিতে ব্রি ধান-১০৩ চাষ করেছেন। কৃষি অফিস থেকে তাদের বিনামূল্যে ধানের বীজ, সার, কীটনাশক ও বীজ সংরক্ষণের জন্য ড্রাম দেওয়া হয়েছে। 
তারা জানান, এই জমিতে ধানের চাষে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, যার মধ্যে জমির চাষাবাদ, শ্রমিক, বালাইনাশক এবং অন্যান্য খরচ অন্তর্ভুক্ত। তবে তাদের আশা, সবকিছু ঠিক থাকলে তারা ২০০ শতাংশ জমি থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকার ধানের বীজ বিক্রি করতে পারবেন। 

এদিকে, লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের কলেজপাড়া এলাকার কৃষক মো. নান্নু, মোস্তফা কামাল ও কাকলি রানিও ব্রি ধান-১০৩ চাষ করেছেন। তাদের জমির পরিমাণও ২০০ শতাংশ। তবে অতিবৃষ্টির কারণে তাদের এলাকায় ধান আবাদ করতে কিছুটা দেরি হয়েছে। তারা আশা করছেন, আগামী ২০-২৫ দিনের মধ্যে তাদের ক্ষেত থেকে ধান কাটার জন্য প্রস্তুত হবে। তাদেরও আশা, এই ধান থেকে তারা বাজারে প্রায় দেড় লাখ টাকার বীজ বিক্রি করতে পারবেন। 

লালমোহন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবু হাসনাইন জানান, বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে খাদ্যের চাহিদা বাড়ছে। তাই উচ্চফলনশীল ফসলের আবাদ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। এই কারণে ব্রি ধান-১০৩ জাতের আবাদ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে চলতি বছরে এই প্রকল্পে লালমোহন উপজেলার দুটি ব্লকের মোট ৬ জন কৃষককে বিনামূল্যে সার, বীজ, কীটনাশক এবং বীজ সংরক্ষণের জন্য ড্রাম দেওয়া হয়েছে। এই প্রথম চাষিরা ব্রি ধান-১০৩ চাষে সফলতা পেয়েছেন এবং তারা এবার এই ধান থেকে বীজ সংগ্রহ করে পরবর্তীকালে তাদের এলাকায় আরও বেশি পরিমাণে এ ধানের আবাদ করবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশাবাদী, এ বছর ধান চাষের মাধ্যমে কৃষকরা ভালো ফলন পাবেন। যদি আবহাওয়া অনুকূল থাকে, তাহলে অন্য চাষিরা এ বছর ভালো ফলন পাবেন। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের ক্ষতি না হতে সাহায্য করতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। এর ফলে কৃষকরা যেকোনো সমস্যায় দ্রুত সমাধান পেতে পারেন।

ব্রি ধান-১০৩ জাতটি একটি উচ্চফলনশীল জাত, যা কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই ধান দ্রুত পাকে এবং এতে রোগবালাই কম হওয়ার সুবিধা রয়েছে। এই জাতের ধান চাষে কৃষকরা কম খরচে বেশি লাভের আশা করছেন। বিশেষ করে, কৃষকদের যেহেতু কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বীজ, সার এবং কীটনাশক দেওয়া হচ্ছে, তাই তাদের ব্যয় কম হচ্ছে এবং লাভের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

 

গোলাপ চাষে লাভবান চাষিরা

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৯:১০ এএম
গোলাপ চাষে লাভবান চাষিরা
গোলাপ ফুলের বাগান পরিচর্যা করছেন এক চাষি। খবরের কাগজ

ভালোবাসা, বসন্তবরণ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ফুলচাষিরা। এখানে গোলাপ ফুলের চাহিদা ও দাম বাড়ছে। চাষিরা প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা আয় করছেন। চাষিরা গোলাপ চাষে সফলতা পাচ্ছেন। এতে এলাকার আর্থিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। 

বিরল উপজেলার ভান্ডার ঘাঘরপাড়া ও কাজী পাড়ায় ফুল চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। গ্রামের চাষিরা গোলাপ চাষ করে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে ফেলেছেন। ফেব্রুয়ারিতে গোলাপ ফুলের চাহিদা বাড়ে, তাই গোলাপের দামও বেড়ে যায়। সাধারণত তিন থেকে চার টাকায় বিক্রি হলেও ভালোবাসা দিবসে ১০ থেকে ১২ টাকা পিস বিক্রি হয়। 

গোলাপ ফুলের বাগানে বিশেষ নজরদারি ও পাহারা দেওয়া হয়। শীতের সময় বাগানে লাল, সাদা, হলুদ, কালো গোলাপসহ ১৪ ধরনের গোলাপ ফোটে । এখানকার চাষিরা প্রতিদিন ফুল বিক্রি করে সহজেই নগদ আয় পাচ্ছেন। এই সাফল্যে তরুণরা গোলাপ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। 
কাজীপাড়ায় গোলাপ ফুলের চাষ এখন এতটাই প্রসারিত। গ্রামটি গোলাপ ফুলের গ্রাম হিসেবে পরিচিত। এখানকার চাষিরা গোলাপ চাষের পাশাপাশি রজনীগন্ধা, কাঠবেলি, গাঁদা ফুলও চাষ করছেন। 

ভান্ডার ঘাঘরপাড়ার চাষি বজ্রনাথ রায় (৬০) ও পুলিন চন্দ্র রায় (৪৫) আলাদা আলাদা গোলাপ ফুলের বাগান করেছেন। বজ্রনাথ রায় ২৫ শতক জমিতে ১ হাজার ৮০০ গোলাপ গাছ লাগিয়েছেন। প্রতিদিন ২০০-৩০০ পিস গোলাপ বিক্রি করে তিনি বেশ ভালো টাকা আয় করছেন। পুলিন চন্দ্র রায়ও তার ১৮ শতক জমিতে গোলাপ গাছ লাগিয়েছেন। প্রতি বছর আড়াই লাখ টাকা আয় করছেন। 

কাজীপাড়ায় গোলাপ ফুলের ব্যবসা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় ফুলচাষিরা লাভবান হচ্ছেন। এখানকার প্রতিটি গোলাপ চার থেকে পাঁচ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়। এতে প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার ফুল বিক্রি করছেন চাষিরা। 

গোলাপ চাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ছয় বছর আগে প্রথম গোলাপ চাষ শুরু করি। এখন আমি আর্থিকভাবে সচ্ছল। প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার ফুল বিক্রি করি।’

ফুল চাষের দিকে ঝুঁকেছেন একাধিক শিক্ষিত যুবকও। তাদের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ফুল ব্যবসা করে আর্থিকভাবে অনেক চাষি স্বাবলম্বী হয়েছেন। গোলাপ ফুলের পাশাপাশি আমরা গাঁদা, রজনীগন্ধা, বেলি ফুলও চাষ করছি।’

বিরলের রবিপুর এলাকার ফুল চাষি শমশের জানান, ‘৮ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ফুল চাষ করেছি। ভালো ফলন পেয়েছি। আগামীতে এক বিঘা জমিতে ফুল চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ 

মোকাররম নামে এক চাষি বলেন, ‘গোলাপ ফুলের দাম দিনভর ওঠানামা করে। বিশেষ দিনগুলোতে দাম বেশি হয়। গোলাপ বিক্রি করে প্রতিদিন আমি পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা আয় করি।’

বিরল উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা হাসান ইমাম বলেন, ‘দিনাজপুরের এই অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া ফুল চাষের জন্য আদর্শ। এখানকার কৃষকরা গোলাপ চাষ করে প্রচুর লাভবান হচ্ছেন।’ 

বিরল উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল আলম জানান, গোলাপ চাষের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে চাষিদের সাহায্য করা হচ্ছে। এই অঞ্চলে ফুল চাষের দিকে আগ্রহ বাড়ছে। আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।

নেত্রকোনায় গোলাপ ফুলের বাণিজ্যিক চাষ

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৯:০৫ এএম
নেত্রকোনায় গোলাপ ফুলের বাণিজ্যিক চাষ
নেত্রকোনায় জামাল উদ্দিনের গোলাপ ফুলের বাগান। বাসস

নেত্রকোনায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ হয়েছে। ধানের পাশাপাশি গোলাপ চাষে লাভবান কৃষকরা, অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হচ্ছে এলাকা। কৃষকরা বলছেন, তুলনামূলক কম জায়গায় বেশি লাভ হওয়ায় ফুল চাষের প্রতি বাড়ছে আগ্রহ। খবর বাসসের।

ধানখেতের পাশেই লাল গোলাপে ভরা বাগান। রং, সৌন্দর্য আর সুগন্ধ ছড়িয়ে দিচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। নেত্রকোনার মাটিতে এবারই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে ফুল চাষ।

শখের বশে শুরু, এখন সেটাই মূল পেশা। কৃষক জালাল উদ্দিন ছয় বছর আগে চট্টগ্রামে হাতে-কলমে শিখে গড়ে তুলেছেন ৪৫ শতাংশ জমিতে গোলাপের বাগান। প্রায় ৯ হাজার গোলাপগাছে ফুটছে লাল গোলাপ। প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে এক হাজারের বেশি ফুল। বিশেষভাবে ফেব্রুয়ারিতে ভালো চাহিদা থাকায় এ মাসে আয়ের লক্ষ্য দেড় লাখ টাকা।

জালাল উদ্দিন বলেন, ‘ধান চাষে বছরে দুবার করা যাচ্ছে। কিন্তু এই ফুল রাত পেরোলেই প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ টাকা আসবেই। প্রতিদিনই ফুল থেকে আয় হয়।’

এলাকায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ হওয়ায় স্থানীয়দের আগ্রহ বাড়ছে। কেউ আসছেন ফুল কিনতে, কেউবা আসছেন শুধু সৌন্দর্য উপভোগ করতে। এ বাগান করে দিয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও। স্থানীয়দের একজন বলেন, ‘আমি মামার সঙ্গে সময় দিচ্ছি। মামা একা বাগান সামলে উঠতে পারছেন না।’ দর্শনার্থীদের একজন বলেন, ‘পুরোনো যে কৃষিব্যবস্থা রয়েছে, সেখান থেকে আমরা বের হতে পারছি না। যারা বের হতে পারছেন, তারাই সফল হচ্ছেন।’

স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এই ফুল ছড়িয়ে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায়। ফুলের দোকানে যেখানে একটি গোলাপ ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হয়, সেখানে বাগান থেকে তা বিক্রি হচ্ছে ১০-১৫ টাকায়। তবে ধান উৎপাদননির্ভর এ জেলায় ফুলের বাগান একেবারেই নতুন। এ ছাড়া অধিক লাভজনক হওয়ায় প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ নিয়ে ফুলের বাগান তৈরিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন অনেকে।

কৃষি বিভাগ জানায়, ধানের পাশাপাশি কৃষকদের বিকল্প চাষে উৎসাহিত করার ফলে সঠিক পরিচর্যা ও বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে আরও বাড়বে ফুল চাষ। নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, ‘যেসব চাষি ফুল চাষ আবাদ করবেন তাদের আমরা কৃষি বিভাগ থেকে পরামর্শ দেব।’

নেত্রকোনায় বর্তমানে প্রায় পাঁচ হেক্টর জমিতে গোলাপসহ বিভিন্ন ফুল চাষ হচ্ছে। তবে উৎপাদন ও বিপণনব্যবস্থা সহজলভ্য হলে এর পরিমাণ আরও বাড়বে।

ঝিনাইদহে ফুলচাষিদের ব্যাপক প্রস্তুতি

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৮:৫৯ এএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৯:০২ এএম
ঝিনাইদহে ফুলচাষিদের ব্যাপক প্রস্তুতি
ছবি: খবরের কাগজ

বসন্তবরণ, ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ঝিনাইদহের ফুলচাষিরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। ফুলের চাষ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তারা। চাষিদের আশা, এসব দিবস ঘিরে অন্তত শতকোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে। এরই মধ্যে মাঠে শোভা পাচ্ছে রংবেরঙের ফুল। 

ঝিনাইদহ সদর, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে জারবেরা, গোলাপ, গ্লাডিওলাস, লিলিয়াম, টিউলিপ, রজনীগন্ধা, গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা, জিপসিসহ বিভিন্ন ফুলের জাত। এবারের মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে ফুলের উৎপাদন আগের তুলনায় অনেক বেশি। চাষিরা এখন ফুলের পরিচর্যায় মনোযোগী, যাতে ফুলগুলো ভালোবাসা দিবস, বসন্ত উৎসব ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বাজারে বিক্রির উপযোগী থাকে।

ফুলচাষি টিপু সুলতান বলেন, ‘ভালোবাসা দিবসে রজনীগন্ধা ও গোলাপ, ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে গাঁদা ফুল বেশি বিক্রি হয়। ফুলের মান ধরে রাখতে পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করতে নিয়মিত কীটনাশক ব্যবহার করছি। আবহাওয়া ভালো থাকায় ফুলের উৎপাদন অনেক বেশি হয়েছে। দামও দিন দিন বাড়ছে।’ 

ফুলচাষি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর দুই বিঘা জমিতে গোলাপ চাষ করেছি। খরচ হয়েছে ৮ লাখ টাকা। আশা করছি, ৩০ লাখ টাকার ফুল বিক্রি করতে পারব।’ আর রেজাউল ইসলাম তার দেড় বিঘা জমিতে লাল, সাদা, কমলা, হলুদ এবং গোলাপি রঙের গোলাপ চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ভালোবাসা দিবসের জন্য এই রঙের ফুলের কদর বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফুলের উৎপাদন অনেক বেশি হয়েছে।’ ঝিনাইদহের ফুলচাষিরা বিশ্বাস করছেন, এবারের ফুলের মৌসুম তাদের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

ঝিনাইদহ জেলা ফুলচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. জমির উদ্দিন বলেন, ‘সারা বছর ফুল বিক্রি কম হলেও এই তিন উৎসবের সময় ব্যবসা ভালো হয়। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফুলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হয়েছে। এসব উৎসবের মাধ্যমে আমরা অন্তত শতকোটি টাকার ফুল বিক্রি করতে পারব।’ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ষষ্টি চন্দ্র রায় বলেন, ‘ঝিনাইদহের ফুলচাষিরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ফুলের চাহিদা মেটাচ্ছেন। আবহাওয়া ভালো থাকায় এই বছর ফুলের উৎপাদন বেশি হয়েছে। আশা করছি, গত বছরের তুলনায় এবার বেশি টাকা আয় করবেন চাষিরা।’

হাঁসের খামারে দিন বদল

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৯:৪৮ এএম
হাঁসের খামারে দিন বদল
সুনামগঞ্জের হাওরে একটি হাঁসের খামার। বাসস

সুনামগঞ্জে দেশি হাঁসের খামার করে দারিদ্র্যের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছেন তরুণরা। একসময় যাদের পরিবার কৃষিকাজ করে কোনোরকমে জীবন কাটাত। তারা এখন মাস শেষে লাখ টাকা উপার্জন করছেন। এই খামারে তাদের দিন বদল হয়েছে। খবর বাসসের।

সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের মনোয়ার হোসেন (৪২) প্রথম সফল হন হাঁসের খামার শুরু করে। তার দেখাদেখি এখন অনেক তরুণ হাঁসের খামারি হয়ে সফল উদ্যোক্তা হয়েছেন। 

মনোয়ারের পরিবারের ১৩ বিঘা কৃষিজমি ছিল। তাতে কোনোরকমে সংসার চলত। তিনি কৃষিকাজে বাবাকে সহায়তা করতেন, তবে বেকার ছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি ৩৩ হাজার টাকা দিয়ে ১২৫টি হাঁসের বাচ্চা কিনে খামার শুরু করেন। পাঁচ মাস পর প্রথম ১০৯টি হাঁস ডিম দেওয়া শুরু করে। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি মনোয়ারকে।

বর্তমানে তার খামারে এক হাজার হাঁস রয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ৭০০ হাঁস প্রতিদিন ডিম দেয়। প্রতিটি ডিম ১৫ টাকায় বিক্রি হয়। প্রতিদিন ১১ হাজার ২৫০ টাকা আয় হয়। মাসে ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা আয় হয়। খামারের খরচ, খাবার, ওষুধসহ মোট মাসিক খরচ ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। তিনি চার কর্মীকে মাসিক বেতন দেন।

এই আয় থেকে তিনি কৃষিজমি কিনেছেন। তার বাবার ১৩ বিঘা জমির পাশাপাশি এখন তার কাছে ২৪ বিঘা জমি রয়েছে। ছোট ভাইয়েরাও এখন স্বাবলম্বী। এক ভাই গরু পালন করেন, অন্য ভাই কৃষিকাজে সম্পৃক্ত। মনোয়ারের পরিশ্রম এবং সফলতার ফলে তার পরিবার সুখী। 

তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে শিক্ষায় এগিয়ে যাচ্ছে। বড় ছেলে এসএসসি পরীক্ষা দেবে, মেয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে, ছোট ছেলে প্রথম শ্রেণিতে। হাঁসের খামারের আয়ে তিনি পরিবারের চিকিৎসা, খরচ ও ছেলেমেয়েদের শিক্ষা খরচ পূরণ করছেন। 

মনোয়ার বলেন, ‘এ বছরের এপ্রিলের শেষে হাঁসগুলো বিক্রি করব। তারপর মে মাসে নতুন বাচ্চা কিনব। পাঁচ-ছয় মাস পর তারা ডিম দেবে’। এভাবে হাঁসের খামারের আয় থেকে চলবেন। তিনি জানালেন, চট্টগ্রামের দুই-তিনটি কোম্পানি এপ্রিলের শেষের দিকে তার হাঁস কিনে নেবে। 

মনোয়ারের খামার দেখে তার চাচাতো ভাই ফয়সল আহমদও হাঁসের খামার শুরু করেন ২০১৫ সালে। প্রথমে তেমন লাভ না হলেও, মনোয়ারের পরামর্শে ফয়সল এখন সফল খামারি। তার খামারে সাড়ে ৪০০ হাঁস রয়েছে। ওই হাঁসগুলো ডিম দেয়। 

ফয়সল বলেন, ‘আমার বাবা পাওয়ার টিলার মেকানিক। এখন হাঁসের খামারের মাধ্যমে আমরা স্বাবলম্বী। বাবাকে আর কাজ করতে হয় না।’ 

হাওর অঞ্চলে হাঁসের খামার স্থাপন করা হয়েছে। মনোয়ার ও ফয়সল তাদের হাঁস হাওর থেকে নিয়ে খামারে 
এনে রাখেন। হাওরের মাছ ধরা শেষ হলে হাঁসের খামার সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। 

জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মনোয়ার হোসেন সফল ও অভিজ্ঞ হাঁসের খামারি। জেলায় প্রায় ২ হাজার ৮০০ হাঁসের খামার রয়েছে। যেখান থেকে বছরে ২৭ কোটি ৫৫ লাখ ১১ হাজার ডিম উৎপাদিত হয়।’

‘আমরা কৃষিবিপ্লব ঘটাতে পারব’

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৯:৪০ এএম
আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৯:৪২ এএম
‘আমরা কৃষিবিপ্লব ঘটাতে পারব’
পেঁয়াজ খেত পরিচর্যা করছেন রায়হান আহমেদ। খবরের কাগজ

শ্রীমঙ্গলের খলিলপুর গ্রামে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ করে সফল হয়েছেন রায়হান আহমেদ। বাড়ির পাশের এক শতক জমিতে ৩০ গ্রাম বীজ ছিটিয়ে, প্রাকৃতিক সার ও সময়মতো পানি দিয়ে তিনি সফলতার মুখ দেখেছেন। পেঁয়াজগাছ বড় হয়ে উঠেছে, মাটির নিচে বড় বড় পেঁয়াজ দাঁড়িয়ে আছে। 

রায়হান বলেন, ‘লালতীরের মাঠকর্মীরা এসে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষের পরামর্শ দেন। আমি এক শতক জমি প্রস্তুত করে বীজ ছিটিয়ে দিয়েছিলাম। কিছুদিনের মধ্যে গাছের চারাগুলো উঠল। পরে ছত্রাকনাশকও প্রয়োগ করি। এখন পেঁয়াজ গাছগুলোতে বড় বড় পেঁয়াজ ফলেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশি পেঁয়াজের মতোই স্বাদ। এক শতক জমিতে চাষ করে সফল হওয়ায় এখন বড় জমি নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করার পরিকল্পনা আছে।’ কৃষি পরিবারের সদস্য হিসেবে রায়হান গর্বিত। তিনি বলেন, ‘বাবার মৃত্যুর পর লেখাপড়ার পাশাপাশি কৃষিতে জড়িয়ে পড়ি। সরকার ও কৃষি বিভাগের কাছে আমার আবেদন, কৃষকের পাশে দাঁড়ান। আমরা তরুণ চাষিরা কৃষিবিপ্লব ঘটাতে পারব।’

কৃষক জাহেল মিয়া বলেন, ‘রায়হান সফল হয়েছেন, আমরাও তার দেখাদেখি পেঁয়াজ চাষ করব।’ 

লালতীর সিড লিমিটেডের তাপস চক্রবর্তী বলেন, ‘সিলেটে আগে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ হয়নি। আমরা রায়হানকে উদ্বুদ্ধ করি। বিজিএস ৪০৩ জাতের পেঁয়াজে ভালো ফলন হয়েছে। ৩০ গ্রাম বীজ দিয়ে এক শতকে চাষ করা যায়। ১৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের পেঁয়াজ হয়। কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না।’ 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বলেন, ‘এখানে বৃষ্টি বেশি হয়, তাই গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ চ্যালেঞ্জ। তবে এবার খলিলপুরে ভালো ফলন হয়েছে। পেঁয়াজ চাষ লাভজনক। সরকারের পক্ষ থেকেও প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়, তবে গ্রীষ্ম ও শীতকালীন পেঁয়াজ চাষ করলে আমদানি কমে যাবে। রপ্তানি বাড়বে। এতে কৃষকরা লাভবান হবেন, আমদানিনির্ভরতা কমবে। বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।’