চট্টগ্রাম অমর একুশে বইমেলার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া বই হলো শিশুদের বই। দৃষ্টিনন্দন রঙিন মলাটে শিশুদের ছড়া, গল্পসহ নানা ধরনের বইয়ের চাহিদা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। অভিভাবকরা তাদের শিশুদের বায়না পূরণে বই কিনে দিচ্ছেন। সেই হিসেবে বলা যায়, এবারের বইমেলায় বই কেনার ক্ষেত্রে শিশুরাই এগিয়ে।
বইমেলার অধিকাংশ স্টলের কর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য উঠে এসেছে। তারা জানান, প্রতিদিন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দুই থেকে তিনটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা মেলায় আসে। এ ছাড়া সুস্থ পরিবেশ থাকায় অভিভাবকরাও মেলায় তাদের সন্তানদের নিয়ে আসেন। রঙিন মলাটের চোখ জুড়ানো বই দেখে শিশুরা কেনার বায়না ধরে। অভিভাবকরাও সানন্দে তাদের বই কিনে দিচ্ছেন।
মেলা প্রাঙ্গণে কথা হয়, শিশু সাহিত্যে বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি ও সাংবাদিক রাশেদ রউফের সঙ্গে। খবরের কাগজকে তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর বইমেলায় আমরা দেখি ছোটদের বই সবচেয়ে বেশি প্রকাশিত হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এবারের মেলায় ছোটদের অনেক বই বের হয়েছে। এবারের সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে। ঢাকা এবং চট্টগ্রামে একই দিনে বইমেলা শুরু হয়েছে। এর ফলে চট্টগ্রামের শিশু সাহিত্যিকরা একসঙ্গে দুটো বইমেলা পেয়েছে। দুটো মেলাকে সামনে রেখে বই প্রকাশনা করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত বছরের ৫ আগস্টের পর বইমেলা নিয়ে এক ধরনের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ছিল। নানা সংকট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা ছিল সাহিত্যকর্মীদের মাঝে। কিন্তু সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হচ্ছে এবারও স্বতঃস্ফূর্তভাবে মেলার আয়োজন হয়েছে। বলতে পারি, প্রত্যাশার চেয়েও এবারের মেলা ভালো হচ্ছে। মেলায় প্রতিদিন যেসব অনুষ্ঠান হয়। এর মধ্যে এক দিন শিশু-সাহিত্যিকদের জন্য রাখা হয়েছিল।’
এই শিশুসাহিত্যিক আরও বলেন, ‘বইমেলায় ছোটদের বই আমাদের শিশু সাহিত্যিকরা প্রকাশ করেছেন, তাকে সম্পূর্ণ সফল না বললেও আশাহত করেছে, সেই কথা বলা যাবে না। অতীতে ছোটদের বইয়ের যেসব প্রকাশনা ছিল, তারা আরও বেশি বর্ণিলভাবে এসেছে। মুদ্রণ, বাঁধাই সবকিছুতে আধুনিকতা এসেছে। গুটিকয় বইয়ের মান নিয়ে হয়তো কিছুটা প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। দুয়েকটি বইয়ের লেখা হয়তো দুর্বল। কিন্তু মোটাদাগে বলতে গেলে আমাদের শিশুসাহিত্য সমৃদ্ধ হচ্ছে।’
রাশেদ রউফ বলেন, ‘ছোটদের বই কিনে দেন অভিভাবকরা। বাবা-মা, বড় ভাই তাদের বই কিনে দেন। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিজে বইপড়ার সময় পান কি না, তা নিয়ে দ্বিধা তৈরি হতে পারে। কিন্তু তাদের সন্তানরা যাতে বই পড়ে, সেই বিষয়ে তারা সতর্ক থাকে। অভিভাকরা যদি এভাবে তাদের সন্তানদের হাতে বই তুলে দেন, তাহলে আমাদের শিশুসাহিত্য আরও সমৃদ্ধ হবে। বইয়ের প্রচার-প্রসার আরও বাড়বে।’
বড়দের কবিতার বই ‘আমি সূর্য তুমি সূর্যমুখী’। কিশোর কবিতার বই ‘আয়রে আমার রূপালী রূপকথা।’ এ ছাড়া ‘শিশু সাহিত্য’ নামে একটি সম্পাদনা করেছেন। এই বইটি এবারের মেলায় প্রকাশিত হয়েছে।