সম্প্রতি ভারত থেকে আসা উজানের ঢলে প্লাবিত হয়েছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ১১টি জেলা। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। খুইয়েছেন বসতভিটা, গবাদি পশু-পাখিসহ শেষ সহায়সম্বলটুকু। এমন পরিস্থিতিতে বন্যাদুর্গতদের উদ্ধার, অর্থ-তহবিল তোলা ও ত্রাণ বিতরণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দও। প্রদান করেছেন তাদের একদিনের বেতন। এছাড়াও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে গণত্রাণ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, সামাজিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে বানভাসিদের উদ্ধারের জন্য শুরু থেকে ক্যাম্পাস ত্যাগ করে বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে ছুটে যায় শিক্ষার্থীরা। এর পাশাপাশি ক্যাম্পাস এবং চট্টগ্রাম নগরে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা বন্যার্তদের সহায়তায় তহবিল, ত্রাণ সংগ্রহ করে পৌঁছে দিচ্ছেন পানিবন্দি মানুষের কাছে।
এদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য বন্যাকবলিত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে একদিনের বেতন প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ।
এ বিষয় চবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এ বি এম আবু নোমান খবরের কাগজকে বলেন, বন্যাকবলিত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতার জন্য শিক্ষকদের মতামতের ভিত্তিতে একদিনের বেতন প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী ২৭ আগস্ট পর্যন্ত আমাদের ফান্ডে টাকা প্রদান করবেন শিক্ষকবৃন্দ। এছাড়াও আমাদের আলাদা ফান্ড আছে। সম্ভবত ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকার মতো সংগ্রহ হতে পারে বলে আমরা আশা করছি। এ টাকা আমরা প্রধান উপদেষ্টার ফান্ডে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী নুরশেদ ইসলাম জনি বলেন, বন্যার্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ফান্ড কালেক্ট করে ত্রাণ ক্রয় করি এবং তা পোঁছে দেওয়ার জন্য আমরা বন্যাকবলিত এলাকায় যাচ্ছি। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজ বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে উদ্ধার ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করছেন।
অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বলেন, এ বন্যায় আগাম সতর্কতার ব্যাপারে না জানার ফলে প্রায় অনেক পরিবারই গৃহবন্দি হয়ে পড়ে। তাদেরকে উদ্ধারের জন্য অন্যান্যদের মতো মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাদের জন্য তহবিল সংগ্রহ করে শুকনা খাবার অতিপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করি। যদিও সকলের কাছে পৌঁছানো সম্ভব না হলেও আমরা তাদের জন্য কিছুটা করার চেষ্টা করি। পাশাপাশি আমরা তহবিল সংগ্রহ করে তহবিলের অর্থ ও ত্রাণসামগ্রী বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি।
এদিকে বন্যাকবলিত মানুষকে সহায়তার জন্য গণত্রাণ কর্মসূচি পালন করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশনে এ কর্মসূচি পালন করছে তারা। গণত্রাণ কর্মসূচিতে আর্থিক অনুদানসহ, শুকনা খাবার, পোশাকসহ প্রয়োজনীয় দ্রব্য অনুদান করছেন সাধারণ জনগণ।
মাহফুজ শুভ্র/এমএ/