মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য এক আবেগের মাস মাহে রমজান। মুসলিম জাতি সংযমের মাধ্যমে এ মাসে সিয়াম সাধনা করে থাকেন। বিপরীতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অমুসলিম শিক্ষার্থীরা কেমন আছেন? কীভাবে তাদের রমজানের দিনগুলো কাটছে? তাদের পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন নিয়ামতুল্লাহ মুনিম।
পংকজ রায়
এবারের রমজানের পরিবেশ অন্যবারের চেয়ে ভিন্ন। সেশনজট থেকে রক্ষা পেতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ক্লাস-পরীক্ষা চালু রেখেছে। যা শিক্ষার্থীরা ভালোভাবেই নিয়েছে। তবে রমজান মাসে দুপুরের খাওয়া নিয়ে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছি। রোজার মাসে দিনের বেলা ডাইনিং, ক্যান্টিন ও খাবারের বেশিরভাগ দোকান বন্ধ থাকছে। তবে খুব বেশি সমস্যা হচ্ছে না প্রশাসনের দায়িত্বশীল আচরণের কারণে। এজন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
শিক্ষার্থী
ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগ
সৌরভ দত্ত
রমজানে খারাপ আছি এটা বলা ঠিক হবে না। খাওয়ার একটু সমস্যা হচ্ছে, তবে এটা অন্য সময়েও হয়। খাওয়ার সমস্যা থাকলেও বিভাগে পরীক্ষা চলমান, যা আমাদের জন্যই মঙ্গল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৫ রোজা পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা নিলে ভালো হতো। বেশকিছু বিভাগ বন্ধ হয়ে গেছে। যদি সবগুলো বিভাগ খোলা থাকত তবে খাওয়ার কোনো সমস্যা হতো না হয়তো। প্রশাসনের কাছে দাবি থাকবে, আগামী থেকে যেন সব বিভাগ ১৫ রোজায় একসঙ্গে বন্ধ হয়।
শিক্ষার্থী
অর্থনীতি বিভাগ
তুষার মালাকার
রমজানে ক্যাম্পাস শান্ত ও পড়াশোনার অনুকূল থাকলেও অমুসলিমদের জন্য খাবার সমস্যা তৈরি হয়। অনেক সময় খাবার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। হল ক্যান্টিন ও ক্যাম্পাসের দোকানগুলো বন্ধ থাকায় কখনো বাসি খাবার খেতে হচ্ছে, কখনো বেশি খরচ করে বাইরে থেকে আনতে হচ্ছে। রান্না করাও সময়সাপেক্ষ। তা ছাড়া এতে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে যায়। আমার
কাছে দিন দিন বিষয়টা কষ্টকর হয়ে উঠছে।
শিক্ষার্থী
হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগ
প্রবাসী চাকমা
রমজান মুসলমানদের জন্য একটি পবিত্র মাস। যেহেতু মুসলিম বন্ধুরা এ মাসে রোজা রাখে তাই অমুসলিম শিক্ষার্থীদের খাবার নিয়ে কিছুটা অসুবিধা দেখা যেতে পারে। বেশির ভাগ শিক্ষার্থী মুসলিম হওয়ায় প্রকাশ্যে খাওয়া-দাওয়া ভালোভাবে গ্রহণ করা হয় না সাধারণত। তবে এ পরিস্থিতি সামলানোর জন্য আগেভাগে খাবারের ব্যবস্থা করতে পারি আমরা। আমি মনে করি, মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
শিক্ষার্থী
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
কুষ্টিয়া
মহিতোষ দাস
রমজান মাসে আমরা অমুসলিম শিক্ষার্থীদের নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়। বিশেষ করে খাবার নিয়ে। তবে এ সময় ক্লাস ও পরীক্ষার সময়সূচির শিথিলতা এবং শান্ত পরিবেশ পড়াশোনার জন্য সহায়ক। বিভাগ ও বিভিন্ন সংগঠন ইফতার আয়োজন করে পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করে। তবে এ মাসে দিনের বেলায় ডাইনিং ও ক্যান্টিন বন্ধ থাকায় খাবারের ব্যবস্থা করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। অনেক সময় দুপুরে না খেয়ে দিন পার করতে হচ্ছে আমাদের।
শিক্ষার্থী
আইন বিভাগ
/রিয়াজ