ছয় মাস পার হলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) চারুকলা বিভাগের ৪৯ তম ব্যাচের তৃতীয় পর্বের ফলাফল ঘোষণা হয়নি। বিভাগের ক্রাফট অ্যান্ড ফ্যাশন ডিজাইন, গ্রাফিক ডিজাইন ও পেইন্টিং ডিসিপ্লিনের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল এখনো হাতে পাননি শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা অধ্যাদেশ অনুযায়ী ৭৫ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকলেও সেই নিয়ম মানা হয়নি। এতে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের মাঝে।
পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী, ডিসিপ্লিনটির সর্বশেষ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় গত ২০ জানুয়ারি। অথচ এখন পর্যন্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের উপপরিচালক মো. আওছাদ হোসেন বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী ৭৫ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করতে হয়। তবে বিভাগ থেকে ফলাফল না এলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের কিছু করার থাকে না।’
ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণ জানতে যোগাযোগ করা হলে, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কমিটির সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক শ্বাশতী মজুমদার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকাসহ কিছু কারণে রেজাল্ট দিতে দেরি হচ্ছে। এতে পরীক্ষা কমিটির কিছুই করার নেই।’
তবে এ যুক্তিকে পুরোপুরি অগ্রাহ্য করেছে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর। তারা জানিয়েছে, খাতা মূল্যায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয় এবং সেটি ছুটির দিনসহ হিসাব করেই হয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকা ফলাফল প্রকাশে বৈধ অজুহাত হতে পারে না। এ ছাড়া জানুয়ারির পর বিশ্ববিদ্যালয় বেশি দিন বন্ধও ছিল না।
চারুকলা বিভাগের সভাপতি মোহাম্মদ শামীম রেজা পরীক্ষার ফল প্রকাশে বিলম্বের জন্য দায়ী করছেন দ্বিতীয় পরীক্ষককে। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় পরীক্ষক অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের হওয়ায় খাতা মূল্যায়নে দেরি হচ্ছে। এতে পরীক্ষা কমিটি বা সভাপতির কিছু করার থাকে না।’
কিন্তু পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় পরীক্ষকদের প্রতিদিন পাঁচটি করে খাতা মূল্যায়নের হিসাব ধরেই সময় নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত তারা সময়ের মধ্যেই খাতা ফেরত পাঠান। কোনো কারণে কিছু খাতা দেরি হলেও সেটা এত দীর্ঘ সময়ের জন্য হয় না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ছালেহ আহাম্মদ খান বলেন, ‘প্রত্যেকটি পরীক্ষার জন্য একটি পরীক্ষা কমিটি থাকে। পরীক্ষা নেওয়া থেকে শুরু করে ফলাফল প্রস্তুত পর্যন্ত সব দায়িত্ব ওই কমিটির ওপর বর্তায়। পরীক্ষাবিষয়ক কোনো সমস্যা হলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়।’
এদিকে ছয় মাসেও ফলাফল না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট পর্বের শিক্ষার্থীরা। এতে সংশ্লিষ্ট পর্ব ছাড়াও অন্য পর্বের শিক্ষার্থীরাও সেশনজটে পড়েছেন। তাই দ্রুত ফলাফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।