জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে অনিয়ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করায় এক শিক্ষার্থীকে মাস্টার্সে ভর্তি না নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বিভাগীয় চেয়ারম্যান - এমন অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম রেজা।
চারুকলা বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মাহমুদুর রহমান (শিমুল) ৬ আগস্ট (বুধবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগে বিষয়টি তুলে ধরেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ‘ছয় মাসেও প্রকাশ হয়নি চারুকলা বিভাগের ফল’- এমন শিরোনামে দৈনিক খবরের কাগজে একটি প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক গ্রুপে শেয়ার করা হলে তিনি সেখানে বিভাগের দুরবস্থা নিয়ে মন্তব্য করেন। এর জের ধরেই তাকে মাস্টার্সে ভর্তি না নেওয়ার হুমকি দেন বিভাগীয় চেয়ারম্যান।
লিখিত অভিযোগে মাহমুদুর রহমান উল্লেখ করেন, "চারুকলা বিভাগের ৪৯ ব্যাচের পরীক্ষার ৬ মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরেও যখন ফলাফল প্রকাশ হচ্ছিল না তখন ২ টি সংবাদমাধ্যমে এই অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদন গুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার হয়, তখন সেখানে আমি বিভাগের এইসব অনিয়ম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করি। এই ঘটনার পর আমাদের ৪৮ ব্যাচের একদল শিক্ষার্থী মাস্টার্সের ভর্তির বিষয়ে বিভাগের চেয়ারম্যান স্যারের সাথে দেখা করতে যায়। সেখানে তিনি আমাদের মাস্টার্সের ভর্তির বিষয়ে জানতে চান। এসময় তিনি ঐ শিক্ষার্থীদের বলেন, “ সবাই ভর্তি হলেও মাহমুদুর রহমান (শিমুল) ভর্তি হতে চাইলেও, তাকে আমি ভর্তি হতে দিবো না।”
তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করেন অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম রেজা। তিনি বলেন, “সে (শিমুল) আমার মুখ থেকে কিছু শোনেনি, অন্যের মুখে শুনে অভিযোগ করেছে। এটাকে কতটা যুক্তিসঙ্গত বলা যায়?”
তিনি আরও জানান, মিথ্যা অভিযোগের কারণে তিনি মানহানি ও হেনস্তার শিকার হচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, “আমরা অভিযোগপত্র পেয়েছি। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছি এবং তারা সন্তুষ্ট হয়েছে।”
অভিযোগকারী শিক্ষার্থী মাহমুদুর রহমান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “এই ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে আমার মাস্টার্সে ভর্তি ও অনার্স ফাইনালের ফলাফল যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় - এজন্য আমি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।”
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) বলেন, “উপাচার্য মহোদয় প্রয়োজন মনে করলে তদন্ত কমিটি করবেন।”