শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার ও সারাদেশে ধারাবাহিক টার্গেট কিলিংয়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হিউম্যান রাইটস সোসাইটি।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বেলা ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনারের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় জবি হিউম্যান রাইটস সোসাইটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতি, জকসুর নবনির্বাচিত একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জাহিদ হাসানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি দেশে চলমান বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও পরিকল্পিত সহিংসতার বহিঃপ্রকাশ। একের পর এক টার্গেট কিলিং সংঘটিত হলেও দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে, যা নাগরিক নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।’
মানববন্ধনে জকসুর নির্বাচিত একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমরা সবাই হাদি ভাইয়ের আদর্শ ধারণ করতে চাই। কিন্তু হাদি হতে গিয়ে রিকশায় আমাদের গুলি খেয়ে মরতে হবে না এই নিশ্চয়তা এই সরকার দিতে পারবে না। সরকারের প্রতি আহ্বান, হাদি ভাইসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার সুনিশ্চিত করা হোক এবং যারা হাদির আদর্শে চলতে চায় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।’
মানববন্ধনে সংগঠনটির মিডিয়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. সোহেল রানা বলেন, ‘শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ড শুধু একজন ব্যক্তির মৃত্যু নয়; এটি রাষ্ট্রব্যবস্থা, আইনশাসন ও মানবাধিকারের জন্য গভীর প্রশ্ন তৈরি করেছে। পরিকল্পিতভাবে একজন মানুষকে হত্যা করা তার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল, যা সংবিধান ও মানবাধিকারের নীতির পরিপন্থী। ধারাবাহিক টার্গেট কিলিং সমাজে ভীতি ও অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।’
সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান কায়েস বলেন, ‘শহিদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু শুধু একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়; এটি ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্বের প্রতি একটি বড় সংকেত। তিনি দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।’
সহ-সভাপতি ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘ওসমান হাদির বিচার সর্বস্তরের চাওয়া। ওসমান হাদিও বলে গিয়েছিলেন, যদি তিনি কারও দ্বারা হত্যার শিকার হন, তবে যেন তার বিচার নিশ্চিত করা হয়। যে মানুষটি তার শত্রুর সঙ্গেও ইনসাফ চেয়েছিলেন, সেই মানুষটির সঙ্গে যেন ইনসাফ করা হয় ইন্টেরিম সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।’
সভাপতি জুনায়েদ মাসুদ বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের ২৯ দিন পার হলেও এখনো হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি কিংবা বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। প্রশাসনের এ ধরনের কালক্ষেপণ বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও স্টেট ভায়োলেন্সকে উৎসাহিত করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের টার্গেট করে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলেও রাষ্ট্রের নীরবতা নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।’
মানববন্ধন থেকে শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার দ্রুত, সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সারাদেশে টার্গেট কিলিং বন্ধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
মুজাহিদবিল্লাহ/রিফাত/