ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ, ভাঙা হৃদয়ে অবসর ঘোষণা মৃত্যুকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হিরো গিমেনেজ আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুসংবাদ হঠাৎই অবসরে উইলিয়ামসন সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি সনকে নিয়ে অস্বস্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি নাটকীয় সমাপ্তিতে ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি সিলেটে ফাহিমা হত্যার ১ মাস পর চার্জশিট দিল পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়, ছয় লেন সড়ক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন; প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসীর যত প্রত্যাশা হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬ স্থায়ী নিয়োগসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে কর্মচারীদের সমাবেশ সোনারগাঁওয়ে আইফোনসহ ১৪৬ মোবাইল চুরি, প্রায় কোটি টাকা ক্ষতি শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৬৪৭ কার্টুন সিগারেট জব্দ প্রথম ম্যাচে খেলা হচ্ছে না ডেভিসের নওগাঁয় দুইদিন মাইকিং করেও মেলেনি ব্রাজিল সমর্থক বর্তমান বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন শেষ ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের ছয় হাসপাতালকে আদ্‌-দ্বীনের রোগী ভর্তি নিতে নির্দেশ হজ পালন শেষে দেশে ফিরলেন ৫২, ৪৯১ হাজি সরকার ব্যাংকমুখী নয় গণমানুষের বাজেট ঘোষণা করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘণ্টাব্যাপী বিভ্রাটের পর স্বাভাবিক ফেসবুক চট্টগ্রামে ডেঙ্গু মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণ দেশপ্রেমের কালজয়ী কণ্ঠকে শিল্পকলার বিশেষ সম্মাননা
Nagad desktop

শ্বেতপত্রের প্রেক্ষিতে সামিট গ্রুপের প্রতিক্রিয়া

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৬:২৬ পিএম
আপডেট: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৬:৪৫ পিএম
শ্বেতপত্রের প্রেক্ষিতে সামিট গ্রুপের প্রতিক্রিয়া

সম্প্রতি সরকারের শ্বেতপত্রে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের শাসনকার্য সংক্রান্ত খসড়ার প্রেক্ষিতে সামিট গ্রুপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।

তারা বলছে, ‘সামিট বাংলাদেশের সর্বোচ্চ মানের করপোরেট সুশাসন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সর্বদা স্বচ্ছতাকে স্বাগত জানায়।’

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা সম্পর্কে খসড়া শ্বেতপত্রের সংস্করণ গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়েছে। ওই নথিতে বলা হয়েছ, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা, গ্যাস আমদানির ওপর মাত্রাধিক নির্ভরশীলতা এবং স্থানীয় প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনে অনীহা সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

সামিট করপোরেশন লিমিটেড এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ সম্পর্কে শ্বেতপত্রে উল্লেখিত বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সামিটের প্রতিক্রিয়া-

১) খসড়া শ্বেতপত্রে সামিট গ্রুপকে একটি ‘বিশেষ বৃহৎ ব্যবসায়িক গোষ্ঠী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্প আয়ের ওপর ছাড় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে উদ্ভূত আয়ের ওপর ছাড় উপভোগ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

উল্লেখিত ছাড়গুলো একটি বৃহত্তর নীতিগত উদ্যোগের অংশ যা দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের  জন্য প্রযোজ্য বলে জানিয়েছে সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল। মূলত ১৯৯৬ সালে দেশের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে ‘বাংলাদেশ বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন নীতি’ তৈরি করা হয়েছিল। এই আইনের ফলশ্রুতিতে প্রায় ১০৪টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত আছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিভিন্ন ধরনের ছাড় শুধুমাত্র সামিট গ্রুপকে একচেটিয়াভাবে দেওয়া হয়নি বরং দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ও জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এই পদক্ষেপ ছিল সামগ্রিক একটি জ্বালানি  খাতভিত্তিক কৌশল।

২) শ্বেতপত্রে Other Common Malpractice সেকশন অভিযোগে বলা হয়েছে,  চুক্তি স্বাক্ষরের পর সামিটের সঙ্গে শর্তাবলী পরিবর্তন করা হয়েছিল এবং বিশেষভাবে উদাহরণ দেওয়া হয়েছে যে সামিট মেঘনাঘাট ৩৩৫ ডুয়েল ফুয়েল পাওয়ার প্ল্যান্ট হেভি ফুয়েল অয়েল (HFO) থেকে হাইস্পিড ডিজেল (HSD) জ্বালানিতে পরিবর্তন করেছে। তবে ক্যাপাসিটি পেমেন্ট বা হিট রেট পরিবর্তন করা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে সামিটের ব্যাখ্যা হলো- ওই সময় সরকারের জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) মূল চুক্তিতে উল্লেখিত জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয় এবং এর পরিবর্তে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সঙ্গে একটি সমঝোতার ভিত্তিতে বিকল্প জ্বালানি (হাইস্পিড ডিজেল) সরবরাহের সিদ্ধান্ত হয়।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম চালু রাখা এবং প্রতিশ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সামিট মেঘনাট এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য ছিল। তবে মূল টেন্ডারের শর্তাবলী অনুযায়ী জ্বালানি তেল (হেভি ফুয়েল অয়েল) গ্রহণের জন্য আমরা এখনো প্রস্তুত।

সামিট করপোরেশনের অধীনে সামিট গ্রুপ মোট ১৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা করে, যার মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ২৫৫ মেগাওয়াট। দেশের ১৭.৩ কোটি মানুষের জন্য মোট বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার (ইনস্টলড) প্রায় ১৭ শতাংশ।

৪) শ্বেতপত্রে অভিযোগ করা হয়েছে বাংলাদেশ অয়েল, গ্যাস অ্যান্ড মিনারেল করপোরেশরে (পেট্রোবাংলা) অধীনে প্রাকৃতিক গ্যাসের রিজার্ভ থাকা সত্ত্বেও সামিট গ্রুপ বাংলাদেশের দ্বিতীয় ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) পরিচালনা করে, চড়া দামে এলএনজি সরবরাহ করছে। ফলে সরকারি অর্থের অপব্যবহার হচ্ছে।

অথচ সামিটের এফএসআরইউ কখনই গ্যাস সরবরাহে দায়িত্বে ছিল না। সুতরাং সামিট এখন পর্যন্ত গ্যাস আমদানি বা সরবরাহ করেনি। সেই সময়ের অন্যান্য সব চুক্তি যেমন ওমানের ওকিউ ট্রেডিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাক্সিলারেট এনার্জির তুলনায় সামিট অয়েল অ্যান্ড শিপিং কোম্পানি লিমিটেড এবং পেট্রোবাংলার মধ্যে স্বাক্ষরিত দীর্ঘমেয়াদী গ্যাস সরবরাহ চুক্তিটি ছিল সর্বনিম্ন মূল্যের। আমরা আবারও বলতে চাই, সামিট আজকে পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী (গ্যাস) সরবরাহ চুক্তির অধীনে বাংলাদেশে কোনো গ্যাস আমদানি করেনি।

এ ছাড়া সামিট এফএসআরইউ পরিচালনায় কোনো বিশেষ ছাড় পায়নি। উপরন্তু সামিটের দৈনিক ট্যারিফ/চার্টার রেট মহেশখালীতে অবস্থিত অ্যাক্সিলারেট এনার্জির মালিকানাধীন ভাসমান এলএনজি টারমিনালের তুলনায় কম।

বাংলাদেশের দুটি এফএসআরইউর মধ্যে অ্যাক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউটি হলো প্রথম। উল্লেখিত প্রণোদনাগুলো সামগ্রিক (এফএসআরইউ) শিল্পখাতের জন্য নির্ধারিত ছিল যা অ্যাক্সিলারেট এবং সামিট উভয়ের জন্য প্রযোজ্য।

একটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে সামিট গ্রুপ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে একটি সফল রেকর্ড রেখেছে। সামিট গ্রুপ বাংলাদেশে (সামিট করপোরেশন) ও সিঙ্গাপুরে (সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল) সর্বদা উভয় দেশের আইনকে সম্মান এবং অনুসরণ করে পরিচালিত হচ্ছে।

সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, আমরা বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশে আমাদের কার্যক্রম সব সময় দেশের আইন অনুসরণ করেছে। আমরা সততা এবং করপোরেট সুশাসনের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে পেরে গর্বিত।

সামিট আরও জানিয়েছে, জাতি গঠনের নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে আমরা সব অংশীদারের সঙ্গে সংলাপের জন্য প্রস্তুত আছি। আমরা শ্বেতপত্র প্রণয়নকারী কমিটির সম্মানিত সদস্যদের যেকোনো প্রয়োজনে সংশোধনী বা ব্যাখ্যা জানতে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগকারী হিসেবে সামিট গ্রুপ সব সময় তার কার্যক্রম স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করে চলেছে এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড: সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (এসপিআইএল) দেশের বৃহত্তম স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী (আইপিপি) প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি দেশের বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতের মোট ইনস্টলড ক্যাপাসিটির ১৭ শতাংশ ও দেশের মোট ইনস্টলড ক্যাপাসিটির ৭ শতাংশ সরবরাহ করে। সামিট মোট ১৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বাংলাদেশের দ্বিতীয় ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটের (এফএসআরইউ) মালিকানা ও পরিচালনার দায়িত্বে আছে যা দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি পুনরায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপান্তরিত করতে সক্ষম।

এসপিআইএল একটি সিঙ্গাপুর নিবন্ধিত বেসরকারি কোম্পানি, যেখানে মুহাম্মদ আজিজ খানের পরিবারের ৭৮ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। ২০১৬ সালে এসপিআইএল বাংলাদেশে নিবন্ধিত সামিট করপোরেশন লিমিটেড (এসসিএল) অধিগ্রহণ করে, যা বিশ্বব্যাংকের বেসরকারি খাত বিষয়ক শাখা ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) দ্বারা আর্থিকভাবে সমর্থিত ছিল। সামিট করপোরেশন বাংলাদেশে বিভিন্ন অবকাঠামো সম্পদের মালিকানা আছে। ২০১৯ সালে জাপানের বৃহত্তম পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি জেরা এসপিআইএলের ২২ শতাংশ অংশীদারত্ব গ্রহণ করে এবং বর্তমানে এটি এসপিএলের দ্বিতীয় বৃহত্তম অংশীদার।

বিজ্ঞপ্তি/সুমন/ 

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বিইউএফটি’তে দু’দিনব্যাপী কর্মসূচি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বিইউএফটি’তে দু’দিনব্যাপী কর্মসূচি
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি) এর পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও পরিবেশ বিষয়ক ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে ১০ ও ১১ জুন ২০২৬ তারিখে দু’দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। 
পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে ছিল বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, র‌্যালি, স্পোগোমি টুর্নামেন্ট, গোলটেবিল আলোচনা এবং বিইউএফটি ও চারটি পরিবেশবিষয়ক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ফারুক হাসান। এতে সভাপতিত্ব করেন মনোনিত উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার আইয়ুব নবী খান। 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য মোহাম্মদ নাছির, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (ভারপ্রাপ্ত) ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর হোসেন, প্রাণ-প্রকৃতি পরিবেশ প্রতিবেশ রক্ষা জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুর রহমান, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল জলিল, রেজিস্ট্রার মো. রফিকুজ্জামান, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থীরা।

অন্তরা/

আব্দুল মোনেম লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
আব্দুল মোনেম লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন
আলহাজ আব্দুল মোনেম-এর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল

আব্দুল মোনেম লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ আব্দুল মোনেম-এর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

আব্দুল মোনেম ২০২০ সালের ৩১ মে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

দেশের অবকাঠামো নির্মাণে তার প্রতিষ্ঠান অনন্য অবদান রেখেছে। নির্মাণ খাতের পাশাপাশি তিনি খাদ্য, পানীয় এবং ওষুধ শিল্পের মতো বিভিন্ন খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন।

পেশায় প্রকৌশলী আব্দুল মোনেম ১৯৩৭ সালের ৫ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। এই দূরদর্শী উদ্যোক্তা ১৯৫৬ সালে আব্দুল মোনেম লিমিটেড (এএমএল) প্রতিষ্ঠা করেন।

বিজ্ঞপ্তি/

সুশাসন জোরদার, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সম্প্রসারণ এবং টেকসই মূলধন কাঠামো গঠনের অঙ্গীকার ইউসিবির

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
সুশাসন জোরদার, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সম্প্রসারণ এবং টেকসই মূলধন কাঠামো গঠনের অঙ্গীকার ইউসিবির
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংক ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি)-এর ৪৩তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শেয়ারহোল্ডারদের সর্বসম্মত অনুমোদনে ব্যাংকের সুশাসন জোরদার, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সম্প্রসারণ এবং টেকসই মূলধন কাঠামো গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) সকাল ৯টায় রাজধানীর কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে অনুষ্ঠিত এজিএমে সভাপতিত্ব করেন ইউসিবির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শরীফ জহীর। সভায় উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক ও ভাইস-চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন, পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মো. তানভীর খান, স্বতন্ত্র পরিচালক ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ইমাম হাসান এফসিএ, স্বতন্ত্র পরিচালক ও রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মো. ইউসুফ আলী এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিএফও ফারুক আহাম্মদ, এফসিএ ।

সভায় জানানো হয়, নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ২০২৫ সালে ইউসিবি ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এই সময়ে ব্যাংকটি তার ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২৩ শতাংশ আমানত প্রবৃদ্ধি অর্জন করে, যা দেশের ব্যাংকিং খাতের গড় প্রবৃদ্ধির (১১ শতাংশ) তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এর ফলে ব্যাংকের মোট আমানত প্রায় ১৩,০০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৬৮,৩৯৪ কোটি টাকায় উন্নীত হয় এবং একই সময়ে প্রায় ৬ লাখ ৭৮ হাজার নতুন গ্রাহক হিসাব যুক্ত হয়।

দক্ষ ব্যালান্স শিট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্যাংকটি তার ঋণ-আমানত অনুপাত ৯১.৩ শতাংশ থেকে ৮৩ শতাংশে নামিয়ে এনে তারল্য অবস্থানকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করেছে। ঋণ ও অগ্রিম খাতে ৮ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি খেলাপি বা রাইট-অফ ঋণ থেকে প্রায় ১১৪ কোটি টাকা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় তিনগুণ। নতুন নিয়ন্ত্রক নীতিমালার কারণে এক পর্যায়ে শ্রেণিকৃত ঋণের হার ১৯ শতাংশে পৌঁছালেও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধারের বিশেষ তৎপরতায় তা প্রায় ৪ শতাংশ কমিয়ে ১৫.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

ইসলামি ব্যাংকিং কার্যক্রমেও অসাধারণ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যেখানে আমানত ১৬৩ শতাংশ এবং বিনিয়োগ ১৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে ইউসিবির এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম প্রথমবারের মতো মুনাফার মুখ দেখেছে এবং সুশৃঙ্খল ব্যয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অন্যান্য পরিচালন ব্যয় প্রায় ৯৭ কোটি টাকা হ্রাস করা হয়েছে। মাত্র ৩ শতাংশ জনবল বৃদ্ধি করেই এই অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

প্রযুক্তিগত খাতে দেশের প্রথম মাইক্রোসার্ভিসভিত্তিক ‘ওপেন এপিআই ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম’ এবং ইউসিবি ওয়ান অ্যাপ চালুর মাধ্যমে ইউসিবি তার ডিজিটাল সক্ষমতা অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যার ফলে বর্তমানে ব্যাংকের মোট লেনদেনের প্রায় ৬৫ শতাংশই ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। সভায় শেয়ারহোল্ডাররা ইউসিবির সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। 

সভা শেষে কোম্পানি সেক্রেটারি তানভীর এ সিদ্দিকী এফসিএ শেয়ারহোল্ডার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সহযোগিতা ও আস্থার জন্য ধন্যবাদ জানান। পরে চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে তিনি সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন। 

সুশাসন জোরদার, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সম্প্রসারণ এবং শক্তিশালী মূলধন কাঠামোর মাধ্যমে একটি টেকসই ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের মধ্যে দিয়ে বার্ষিক সাধারণ সভা শেষ হয়।

আমান/

মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের নতুন কান্ট্রি ম্যানেজার জাকিয়া সুলতানা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের নতুন কান্ট্রি ম্যানেজার জাকিয়া সুলতানা
জাকিয়া সুলতানা। ছবি: বিজ্ঞপ্তি

আন্তর্জাতিক পেমেন্ট নেটওয়ার্ক বা পেমেন্ট গেটওয়ে সিস্টেম মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের নতুন কান্ট্রি ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাকিয়া সুলতানা।

বুধবার (১০ জুন) প্রতিষ্ঠানটির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নিয়োগটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৈয়দ মোহাম্মদ কামালের স্থলাভিষিক্ত হয়ে মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন জাকিয়া সুলতানা। অন্যদিকে মাস্টারকার্ডে দীর্ঘ ১৩ বছরের দায়িত্ব পালন শেষে সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল চলতি বছরের শেষ দিকে অবসরে যাচ্ছেন।

গত এক দশকের বেশি সময় তিনি বাংলাদেশে মাস্টারকার্ডের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং দেশের ডিজিটাল পেমেন্টস ইকোসিস্টেমের ভিত্তি শক্তিশালী করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছেন। তার সেই অবদানের ভিত্তিতেই মাস্টারকার্ডের কার্যক্রম ও অংশীদারত্বের পরবর্তী ধাপকে এগিয়ে নিতে কাজ করবেন জাকিয়া।

২০১৫ সাল থেকে মাস্টারকার্ডের সঙ্গে কাজ করে আসছেন জাকিয়া সুলতানা। সর্বশেষ মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তার সহযোগিতায় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং ব্যবসা সম্প্রসারণসংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে, যা দেশে মাস্টারকার্ডের কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি এবং অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করেছে।

নতুন দায়িত্বে জাকিয়া সুলতানা বাংলাদেশে মাস্টারকার্ডের কার্যক্রম পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবেন। ডিজিটাল পেমেন্টসের ব্যবহার আরও বিস্তৃত করা, গ্রাহক ও ইকোসিস্টেম অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সংযুক্ত পেমেন্টস পরিবেশ গড়ে তোলা হবে তার অগ্রাধিকার। তিনি বাংলাদেশ, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কার দায়িত্বপ্রাপ্ত গ্রুপ কান্ট্রি ম্যানেজার সান্দুন হাপুগোদাকে রিপোর্ট করবেন।

মাস্টারকার্ডের সাউথ এশিয়া ডিভিশন প্রেসিডেন্ট গৌতম আগারওয়াল বলেন, ‘দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তর এবং উদ্ভাবনী পেমেন্ট সল্যুশনের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে বাংলাদেশ মাস্টারকার্ডের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং উচ্চ সম্ভাবনাময় একটি বাজার। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে মাস্টারকার্ডের শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সৈয়দ মোহাম্মদ কামালের নেতৃত্ব ও অবদানের জন্য আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ। জাকিয়া সুলতানার নিয়োগ উচ্চ সম্ভাবনাময় বাজারগুলোয় স্থানীয় নেতৃত্বকে আরও ক্ষমতায়নের প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। বাংলাদেশের বাজার সম্পর্কে তার গভীর জ্ঞান এবং শক্তিশালী ইকোসিস্টেম-ভিত্তিক সম্পর্ক আমাদের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এবং দেশজুড়ে অংশীদারত্ব আরো গভীর করতে সহায়ক হবে।’

মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের নতুন কান্ট্রি ম্যানেজার জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, এমন একটি সময়ে এ দায়িত্ব নিতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। আমাদের গ্রাহক, অংশীদার এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে একযোগে কাজ করে আমরা নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদ্ভাবনী পেমেন্ট সমাধান প্রদান অব্যাহত রাখব, যা দেশের ব্যক্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটির জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।’

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, টেলিযোগাযোগ, আর্থিক সেবা এবং বৃহৎ পরিসরের রূপান্তরমূলক কর্মসূচিতে জাকিয়া সুলতানার ২৬ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক চালু করা, দ্রুত বর্ধনশীল কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বৃহৎ পরিসরে ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা ও পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিভিন্ন খাতে তার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের বিকাশমান পেমেন্টস ইকোসিস্টেমে আরও গভীর সহযোগিতা ও সমন্বয় গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জাকিয়া সুলতানা কর্মজীবন শুরু করেন গ্রামীণফোনে প্রজেক্ট অ্যান্ড চেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট বিভাগে। পরবর্তীতে প্রায় এক দশক এয়ারটেলে হেড অব অপারেশনাল এক্সেলেন্স (পিএমও ও কিউএ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি বাংলালিংকের ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেন এবং এয়ারটেল ও বাংলালিংক উভয় প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব ও বোর্ড-পর্যায়ের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া তিনি এইচএসবিসিসহ শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন।

অন্তরা/

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে সামার ২০২৬ শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১০:০৮ এএম
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে সামার ২০২৬ শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি সামার ২০২৬ সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করেছে। এই উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (৯ জুন) ২০২৬ মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কমনওয়েলথভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংগঠন দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটিজ (এসিইউ) এর সেক্রেটারি জেনারেল ও সিইও কলিন রিওর্ডান সিবিই। তিনি চার দিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশে এসেছেন।

নবীন বরণ অনুষ্ঠানের আগে কলিন রিওর্ডান ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও এএসিইউ আয়োজিত বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক একটি আলোচনায় অংশ নেন। তিনি এতে একটি প্রেজেন্টেশন দেন। এই আলোচনায় দেশের এএসিইউর সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিনিধিরা ছাড়াও সদস্যপদ পাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ২৪ জন উপাচার্যসহ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।

ওরিয়েন্টেশনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কলিন রিওর্ডান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই জীবনটা মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সুন্দর সময়গুলোর একটি। এই সময়ে শিক্ষার্থীরা জীবনের নানা দিক সম্পর্কে জানতে পারে এবং নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করে আর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই গড়ে ওঠে আজীবনের বন্ধুত্ব।

তিনি আরো বলেন, আপনাদের নিজের বিচারবোধের ওপর আস্থা রাখতে হবে। মনোযোগ দিয়ে অন্যের কথা শুনতে হবে কারণ এতে নতুন কিছু শেখা যায়। তিনি সব পরিস্থিতিতে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এগুলো এমন গুণ যা মানুষ পছন্দ করে এবং আমাদের অন্যের থেকে আলাদা করে।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার বলেন, পৃথিবী এখন খুব প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে মাত্র ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী সময়মতো স্নাতক শেষ করতে পারে। তিনি আরও বলেন, স্নাতক শেষ করার পর প্রথম বছরে ৪০ শতাংশ গ্র্যাজুয়েট কোথাও চাকরি পায় না।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা শুধু নিজের জন্য বাঁচি না। একা একা আমাদের পক্ষে কিছু করা সম্ভব না। সমাজের অংশ হলেই আমরা নিজের পরিচয় খুঁজে পাই। তিনি বলেন, এটাই হলো আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য। পৃথিবীর জন্য কিছু করা। সমাজের জন্য কিছু করা।

প্রফেসর আনোয়ার শিক্ষার্থীদের তাদের নিজের বাবা-মায়ের ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, আপনাদের এই জায়গায় পৌঁছে দিতে আপনাদের পিতামাতা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এখন আপনাদের ভাবতে হবে, আপনারা কীভাবে তাদের সেই ত্যাগের প্রতিদান দেবেন।

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখতে বলেন। তিনি তাদের কৌতূহলী হতে, কঠোর পরিশ্রম করতে ও অন্যের সেবা করার মানসিকতা গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। তিনি শিক্ষার্থীদের নিজের সক্ষমতাকে কখনো ছোট করে না দেখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে চারজন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন অর্জনের পুরস্কার হিসেবে সম্মাননা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেন প্রফেসর কলিন রিওর্ডান, প্রফেসর আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী, ট্রেজারার আরিফুল ইসলাম এবং রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড।

সম্মাননা পাওয়া ঋষিন তালুকদার ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী। গত এপ্রিলে নটরডেম কলেজে আয়োজিত একটি দাবা প্রতিযোগিতায় তিনি চ্যাম্পিয়ন হন।

ফারহাত মাইশা আরপা আইন বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি উপকূলীয় বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে একটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন।

জিয়া মোহাম্মদ সায়েফ উল্লাহ ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি একটি গ্রামীণ পানি বিশুদ্ধকরণ ব্যবস্থা উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দেন। নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পটি একটি ইনকিউবেশন প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার-আপ হয়।

সম্মাননা পাওয়া আরেক শিক্ষার্থী সমর্পিতা সাহা ছোঁয়া। তিনি মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি গুরুতর শারীরিক প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য পুনঃব্যবহারযোগ্য স্যানিটারি প্যাড উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দেন। এই উদ্যোগটি একটি প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার-আপ হয়।

অনুষ্ঠানে অডিওভিজ্যুয়ালের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামনে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইতিহাস ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের শিক্ষাদর্শন তুলে ধরা হয়। রেসিডেন্সিয়াল সেমিস্টার, বিভিন্ন ক্লাব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্কুল অব জেনারেল এডুকেশনের ডিন প্রফেসর সামিয়া হক এবং প্রক্টর ড. রুবানা আহমেদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্টুডেন্ট লাইফের এডিশনাল ডিরেক্টর ও হেড তাহসিনা রহমান। কালচারাল ক্লাবের সদস্যরা অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানের শেষে গান পরিবেশন করে ব্যান্ড সহজিয়া।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের ডিন প্রফেসর মোহাম্মদ মুজিবুল হক, অফিস অব কমিউনিকেশন্সের ডিরেক্টর খায়রুল বাশার, ইংলিশ অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগের চেয়ারপারসন প্রফেসর ফিরদৌস আজিম, ডিপার্টমেন্ট অফ ম্যাথমেটিকস অ্যান্ড ফিজিকাল সায়েন্সেস এর চেয়ারপারসন ফিরোজ হাসানুল হক, ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারপারসন শারমিন্দ নীলোৎপল, বায়োটেকনোলজি বিভাগের চেয়ারপারসন ইফতেখার বিন নাসের, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারপারসন নাদিয়া সুলতানা দীন, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেসের ডিরেক্টর প্রফেসর শায়লা সুলতানাসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ।

আমান/