বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং অভ্যন্তরীণ নানা ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) রেকর্ড মুনাফা করেছে বাটা সু কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড। এ সময়ে কোম্পানিটির নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে রাজস্ব আয়ও বেড়েছে ১৯ শতাংশ।
সোমবার (২৭ জুলাই) কোম্পানিটির প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে বাটা বাংলাদেশের রাজস্ব আয় হয়েছে ১৮৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেশি।
এদিকে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) কোম্পানিটির মোট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ৫৬৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় বেড়েছে ১০ শতাংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরের প্রথমার্ধে কর-পরবর্তী মুনাফা ৮৬ শতাংশ বেড়ে ৫০ কোটি ৪০ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ে এ মুনাফা ছিল ২৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ১৯ দশমিক ৮৭ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৬ দশমিক ৮৭ টাকা।
বাটা বাংলাদেশ জানিয়েছে, চলমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানির দাম পুনর্বিন্যাস, অর্থনৈতিক শ্লথগতি এবং মৌসুমি বাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে। সুপরিকল্পিত ব্যবসায়িক কৌশল, পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রাহককেন্দ্রিক উদ্যোগ এ সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
কোম্পানিটির মতে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নতুন জুতার কালেকশন এবং সমন্বিত বিপণন কার্যক্রম বিক্রি বাড়াতে সহায়তা করেছে। পরে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নেওয়া লক্ষ্যভিত্তিক বাণিজ্যিক উদ্যোগও প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।
তবে দীর্ঘ সময় ধরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের বেশি থাকায় ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাইরে ব্যয়ের সক্ষমতা চাপে ছিল। এ ছাড়া বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনার কারণে দৈনিক বিক্রির সময়ও কমে যায়, যা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেছে।
এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং ব্র্যান্ডটির প্রতি আস্থা রাখায় গ্রাহকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বাটা বাংলাদেশ।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, আগামী দিনেও উদ্ভাবন, পরিচালন দক্ষতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টির প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিজ্ঞপ্তি