ঢাকা ৭ শ্রাবণ ১৪৩১, সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪

গৌরনদীতে ট্রাকচাপায় নিহত ২

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০২:৫৬ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৪:১২ পিএম
গৌরনদীতে ট্রাকচাপায় নিহত ২
ছবি : খবরের কাগজ

বরিশালের গৌরনদীতে ট্রাকের চাপায় দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের একজন ভ্যানচালক ও অপরজন মাছ ব্যবসায়ী।

সোমবার (২৪ জুন) ভোরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বাটাজোর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

নিহতরা হলেন, বাবুগঞ্জ উপজেলার আগরপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ভ্যানচালক আয়নাল প্যাদা (৬০) এবং গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের মাছ ব্যবসায়ী বরুণ চন্দ্র দাস (৫০)।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রসুল জানান, আজ ভোরে মাছ ব্যবসায়ী বরুণ ব্যাটারিচালিত ভ্যানে মাছ নিয়ে স্থানীয় বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বাটাজোর এলাকায় বরিশালগামী একটি ট্রাক ভ্যানটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বরুণ ও আয়নাল নিহত হন। 

মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ট্রাকটি জব্দ করা হলেও চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছেন।

মঈনুল ইসলাম/অমিয়/

রাজশাহীতে সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ২০

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৮:৪২ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৮:৪২ পিএম
রাজশাহীতে সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ২০
ছবি : খবরের কাগজ

রাজশাহীর পৃথক স্থানে আওয়ামী লীগ, তার অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী ও পুলিশের সঙ্গে কোটা সংস্কারপন্থিদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দুই পুলিশ সদস্যসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ডাকা ‘কমপ্লিট শাট ডাউন’ কর্মসূচি চলাকালে এসব ঘটনা ঘটে। 

জানা যায়, সারা দেশে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ও পুলিশি হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে নগরীর নিউ মার্কেট এলাকা থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মহিলা কলেজের সামনে এলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় শিক্ষার্থীরা পুলিশের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ ছাড়া পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এ সময় পুলিশ আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দেয়। কয়েক রাউন্ট রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রায় ৩০ মিনিট চলা এই সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় পুলিশের দুই সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, রাজশাহী নগরীর শিরোইল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহাদৎ হোসেন ও জেলা পুলিশ লাইনে কর্মরত মো. আলাউদ্দিন। 

এর আগে, বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজশাহীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এলাকায় অবস্থান নেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরাও সেখানে গিয়ে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটলে পুরো সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের পর আহত অবস্থায় অন্তত পাঁচজনকে রামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় সব ধরনের যান চলাচলও। পথচারী ও সাধারণ মানুষ প্রাণভয়ে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর মহানগরের সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এলাকা দখলে নেয় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

এ সময় আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘আন্দোলনের নামে যদি আর কেউ অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে তা হলে এর জবাব দিতে আমরা প্রস্তুত।’

তিনি আন্দোলনের নামে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানান। না হলে এর দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. সংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘আহত দুই পুলিশ সদস্য ও ৯ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে নাটোরের এক ছাত্র আছেন। তার গায়ে রাবার বুলেটের ক্ষত আছে।’

উদ্ভূত পরিস্থিতি এড়াতে নগরজুড়ে র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি যৌথ টহল দিচ্ছে। 

এদিকে বেলা আড়াইটার দিকে বিনোদপুর বাজার থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের তিনশতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ সময় আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি অবস্থান নেয় পুলিশ ও বিজিবি। তবে শান্তিপূর্ণভাবে বিকেল ৪টায় অবস্থান কর্মসূচি শেষ করেন শিক্ষার্থীরা।

শাবিপ্রবির ফটকে সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত অর্ধশত

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৮:০০ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৮:০০ পিএম
শাবিপ্রবির ফটকে সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত অর্ধশত
ছররা গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থী। ছবি : মামুন হোসেন

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটক ও আশপাশে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশের ছয় সদস্যসহ অর্ধশত মানুষের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। 

শাবিপ্রবির ফটকসহ আশপাশের এলাকা ও ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) কমপ্লিট শাট ডাউন কর্মসূচি চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মদিনা মার্কেটসহ সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়।

বেলা দেড়টার দিকে শাবিপ্রবির প্রধান ফটকে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় পুলিশ। পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাসের শেল, শটগান ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। শিক্ষার্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়েন; তা থেমে থেমে প্রায় ২ ঘণ্টা চলে। 

সকাল ৮টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, গোলচত্বর, ছাত্র-ছাত্রীদের হলসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ, সোয়াট, সিআরটি টিমের পাঁচ শতাধিক সদস্য জলকামানসহ অবস্থান নেন। দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাসের শেল, রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। 

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও হলগুলোর প্রভোস্টকে সঙ্গে নিয়ে হলে হলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়া হয়। তবে  হল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক দিয়ে বের হওয়ার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে লাথি ও কিল-ঘুষি মারে পুলিশ। এর প্রতিক্রিয়ায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পুলিশের হামলায় অন্তত ৩০-৪০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ইফরাতুল হাসান নামের এক শিক্ষার্থীর মাথায় রাবার বুলেটের আঘাত রয়েছে। ছররা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন শিক্ষার্থী রাফিদ, নাঈম, রাহিম, শাফায়েত, লুবনা, তৌফিক, রাশেদ, রহিম, মাহিদ। আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৬ জন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। 

সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ খবরের কাগজকে বলেন, শাবিপ্রবির ফটকের সামনে অনেক বহিরাগত অবস্থান নিয়েছিলেন। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। এ সময় ছয়জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট, শটগান ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। ১০ জনকে আটক করা হয়েছে।

কোটা আন্দোলন : চট্টগ্রামে দফায় দফায় সংঘর্ষ

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৪:১৮ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৮:৩৩ পিএম
কোটা আন্দোলন : চট্টগ্রামে দফায় দফায় সংঘর্ষ
ছবি : খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের বাকলিয়ার রাহাত্তারপুল ও বহদ্দারহাট এলাকায় পুলিশ-আন্দোলনকারী-ছাত্রলীগের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও পাথর নিক্ষেপে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বিভিন্ন স্থানে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস ছুড়ে। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বেলা ১টার পর কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিলে নগরের বাকলিয়ার রাহাত্তারপুল ও বহদ্দারহাটে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সরেজমিনে দেখা যায়, বেলা সাড়ে ১২টার পর শিক্ষার্থীরা বাকলিয়া সরকারি কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে শাটডাউন সফলের পক্ষে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে পাথর নিক্ষেপ হয়। পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছুড়ে। পরে সেখানে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে যোগ দেয় ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীরা।  প্রায় আধা ঘণ্টা চলে ত্রিমুখী সংঘর্ষ। পরে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে তারা রাহাত্তারপুল ইসলামিয়া মার্কেটের পাশের গলিতে অবস্থান নেয়।

এদিকে বেলা দেড়টায় বহদ্দারহাটের কাঁচাবাজার ও পুলিশ বক্সের সামনে আন্দোলকারীরা অবস্থান নেয়। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী সেখানে জড়ো হওয়ার খবরে পুলিশ তাদের ফোর্স বাড়িয়ে দেয়। একপর্যায়ে বেলা ২টায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় তারা আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট, টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় আন্দোলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। এতে দুই শিক্ষার্থী আহত হন। তারা হলেন আরেফিন শুভ (২৫) ও মো. মোর্শেদ (২৬)। আহত আরেফিন শুভ সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য। আর মোর্শেদ রিকশাচালক। মোর্শেদ টিয়ারগ্যাসে ও শুভ আন্দোলনকারীদের মারধরে আহত হন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

নগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন হতে পারে না। তাদের মধ্যে উগ্র ও মারমুখী আচরণ ছিল। জনগণের জানমালের ক্ষতির লক্ষ্যে তারা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক অবরোধ করতে চেয়েছিল। আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।’

মনির/সালমান/

মৌলভীবাজারে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৪:০৮ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৪:০৮ পিএম
মৌলভীবাজারে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা
ছবি: খবরের কাগজ

মৌলভীবাজারে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের উদ্যোগে কোটা সংস্কারের নামে ‘দেশব্যাপী নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড ইউনিটের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

এ সময় একাত্মতা প্রকাশ করেন পৌরসভার মেয়র মো. ফজলুর রহমান।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি শিক্ষার্থীদেরকে ভুল বুঝিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিষোদগার করাচ্ছে। ঐ কুচক্রী মহল দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের মহান গৌরবকে কটাক্ষ করছে, মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মানিত করছে। এই কুচক্রী মহলকে শাস্তির আওতায় আনতে সরকারের দৃষ্টি কামনা করছি।’

পাশাপাশি কোটা বহাল রাখার দাবি জানান তারা।

পুলক পুরকায়স্থ/পপি/

কমপ্লিট শাটডাউনে থমথমে চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৪:০৪ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৪:১৪ পিএম
কমপ্লিট শাটডাউনে থমথমে চট্টগ্রাম
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের কমপ্লিট শাটডাউন (সর্বাত্মক অবরোধ) কর্মসূচিতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যানজটে ঠাসা ব্যস্ত নগরীর সড়কে আজ যান চলাচল ও মানুষের আনাগোনা কম দেখা গেছে। মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সকাল থেকে যানবাহন কম থাকায় বিপাকে পড়েন পেশাজীবীরা। ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার বাস।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) নগরীর আগ্রাবাদ, দেওয়ানহাট, টাইগারপাস, লালখান বাজার, জিইসি, দুই নম্বর গেইট ও মুরাদপুর এলাকা সরেজমিনে দেখা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই পয়েন্টগুলোতে অন্যান্য সময়ের তুলনায় সীমিত যান চলাচল করতে দেখা গেছে। 

এসব জায়গায় লোকে লোকারণ্য থাকলেও আজকের দৃশ্য ছিল ভিন্ন। এসব এলাকায় অনেক দোকানপাট বন্ধ দেখা যায়। নগরীর গরিবুল্লাহ শাহ এলাকায় কিছু বাস কাউন্টার বন্ধ দেখা যায়। খোলা কাউন্টারগুলোতে অলস সময় পার করছেন দায়িত্বরতরা।

নগরীর গরীবুল্লাহ শাহ এলাকায় শ্যামলী বাস কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মুসা খবরের কাগজকে বলেন, ‘কোনো আন্দোলন হলেই সব গণপরিবহন ও দূরপাল্লার বাসের ওপর দিয়ে যায়। কেউ কেউ কাউন্টার বন্ধ রেখেছে। কিন্তু আমরা খোলা রেখেছি কিন্তু লাভ হয়নি। স্বাভাবিক সময়ে এসি বাস ভোর ৫টা থেকে আধা ঘন্টা পর পর চট্টগ্রাম ছেড়ে যায়। বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পরিস্থিতি ভালো না। তার ওপর আজ সকাল থেকে কোনো যাত্রী কাউন্টারে আসেনি। তাই আমাদের দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি।’

এদিকে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বারইয়ারহাটে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা করা হলেও কোনো ধরণের বিক্ষোভ মিছিল এখন পর্যন্ত হয়নি। 

কমপ্লিট শাটডাউনের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও পরিবহণের সংখ্যা কম। মিরসরাই থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

মিরসরাই থেকে ঢাকায় যাওয়ার জন্য কাউন্টারে আসা ফরিদ উদ্দিন বলেন, সকাল ৯টা থেকে কাউন্টারে বসে আছি। কিন্তু কোনো গাড়ি পাচ্ছি না। কি করবো বুঝতে পারছি না।

দুর্ভোগে পড়া মোহাম্মদ করিম বলেন, আমি পারিবারিক কাজে সুফিয়া থেকে মিরসরাই যাব। তবে প্রতিদিন যেভাবে খুব সহজে যেতে পারতাম। আজ গাড়ি কম হওয়ায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এজন্য অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে।

বারইয়ারহাট থেকে বড় দারোগার রুটে চলাচল করা লেগুনাচালক সন্দীপ কুমার দাশ বলেন, অবস্থা খুবই খারাপ। প্রতিদিন যে পরিমাণ যাত্রী পেতাম আজ তা পাচ্ছি না। তেলের টাকা জোগাড় করা কষ্টকর হয়ে গেছে।

অপরদিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চলমান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘোষিত কমপ্লিট শার্টডাউন কর্মসূচির প্রভাব পড়েছে। এতে বিড়ম্বনায় পড়েছে দুরপাল্লার যাত্রীরা। সীতাকুণ্ড উপজেলার পৌরসদর বাস কাউন্টার এলাকায় প্রায় সবকটি টিকেট কাউন্টার বন্ধ রয়েছে। মালবাহী ট্রাক ও ছোট গাড়ি দেখা গেলেও যাত্রীবাহী বাস একদমই নেই মহাসড়কে। এ পরিস্থিতিতে চরম ভোগান্তিতে জনসাধারণ।

যাত্রীরা জানান, দীর্ঘক্ষণ বাস কাউন্টারে দাঁড়িয়ে থেকেও পাওয়া যাচ্ছে না দূরপাল্লার বাস। কয়েক ঘন্টা পর সিডিএম বাস আসলেও সিট পাওয়া যাচ্ছে না। এই বাসগুলো ফেনী অথবা কুমিল্লা পর্যন্ত যাচ্ছে বলে জানান তারা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

তবে, উপজেলার সরকারি সব দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। উপজেলার ভূমি অফিসসহ অন্যান্য সব দপ্তরে সেবা প্রার্থীরা সরকারি সেবা নিতে দেখা গেছে। প্রতিদিনের মতো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটডোর -ইনডোর রোগীদের ভিড় রয়েছে। শাটডাউন হাসপাতালে সেবাদানে কোনো ধরনের প্রভাব পড়েনি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ১২ পর্যন্ত আউটডোর ৫০০ উপরে রোগী ছিল বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নুর উদ্দীন রাশেদ।

তাছাড়া শিক্ষার্থীদের পূর্বনির্ধারিত কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির প্রভাব পড়েছে সাতকানিয়া উপজেলায়। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কেরানিহাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার শহরে যোগাযোগের একমাত্র মহাসড়ক কেরানিহাট-বান্দরবান মহাসড়কে দূরপাল্লার কোনো বাস চলাচল করছে না। তবে লোকাল বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ ছোটখাটো যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল করছে। মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।

কেরানিহাটের লাইনম্যান মো. আবুল বশর জানান, সকাল থেকে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির প্রভাব পড়েছে সাতকানিয়ায়। যান চলাচলের পরিমাণ খুবই কম। ছোটখাটো যানবাহন ও কিছু পরিবহনের লোকাল বাস চলাচল করছে। তবে বান্দরবানের পূরবী-পূর্বাণী পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

তারেক মাহমুদ/ইসরাত চৈতী/অমিয়/