মৌলভীবাজারে কারফিউ শিথিলের সময় বাড়লেও আয়-রোজগারে মন্দা কাটছে না।
জেলায় কারফিউ শিথিলের সময় গেল শুক্র ও শনিবার ১২ ঘণ্টা এবং রবিবার ও সোমবার তা বাড়িয়ে ১৫ ঘণ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ড. উর্মি বিনতে সালাম।
তিনি জানান, ভোর ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কারফিউ চলমান থাকবে।
তবে কারফিউ শিথিলের মেয়াদ বাড়লেও মৌলভীবাজারে আয় রোজগারে মন্দা কাটছে না। এখনো জনজীবনে পুরোপুরি স্বস্তি ফিরে আসেনি। লোকজন ভয়ে ভয়ে চলাচল করছে। দোকানপাট খুললেও ক্রেতার উপস্থিতি খুবই কম। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে।
পর্যটনের ভরা মৌসুমে এই খাত এখন লোকসানের মুখে।
সোমবার (২৯ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, কাঁচা বাজারে সবজি, মাছ, মাংস, ফল ও মুদি দোকানে ভিড় থাকলেও কাপড়, জুতা, কসমেটিকস প্রভৃতি পণ্যের দোকানে ক্রেতা নেই।
এদিকে পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের জায়গা চায়ের রাজ্য মৌলভীবাজার। কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ভরা মৌসুমেও পর্যটক নেই এখানে। এর ফলে ধস নেমেছে পর্যটন খাতে। বাতিল হয়ে গেছে অনেক হোটেলের আগাম বুকিং। পর্যটন ব্যবসা স্থবিরতায় বেকার হয়ে পড়েছেন হোটেল ও পরিবহন শ্রমিকেরা। চলতি জুলাইয়ের মধ্যবর্তী সময়েও পর্যটকদের কোলাহল ছিল জেলার শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে। এখন সেখানে সুনসান নীরবতা।
শ্রীমঙ্গলের চাঁন্দের গাড়ির মালিক সবুজ মিয়া জানান, শ্রীমঙ্গল থেকে অন্তত ২০-৩০টি চাঁন্দের গাড়ি জেলা বিভিন্ন এলাকায় পর্যটক নিয়ে বের হয়। কিন্তু এই সপ্তাহে একটি গাড়িও যায়নি। বেকার হয়ে পড়েছে পরিবহন শ্রমিকরা। স্বাভাবিক অবস্থায় না ফিরলে শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা থমকে যাবে।
দিনমজুর মইন আলী বলেন, ‘কয়েকদিন ঘর থেকে বের হইনি কাজও পাইনি। দুদিন ধরে ভয়ে ভয়ে কাজে যাচ্ছি, এভাবে চললে খাবো কি?’
সবজি বিক্রেতা রুবেল মিয়া বলেন, ‘এখন সবজির আমদানি কম, ক্রেতাও নেই। তাই আয়-রোজগার কমে গেছে।’
পৌরশহরের সেন্ট্রাল রোডের কাপড় ব্যবসায়ী সঞ্জিত দাস বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে যে সহিংসতা ও জ্বালাও-পোড়াও হয়েছে, তাতে মানুষ এখনও আতঙ্কে রয়েছেন। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য খারাপ যাচ্ছে।’
শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম আহমেদ বলেন, ‘জুলাই মাসের শুরু থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত সব হোটেল রিসোর্টে ভালো পর্যটক ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে দেশে ছাত্র আন্দোলনে নিমিষেই সব শেষ হয়ে যায়। এ কারণে অনেক পর্যটক বুকিং বাতিল করে দিয়েছেন। এতে পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’
জেলা বিজনেস ফোরামের সদস্যসচিব শাহাদাৎ হোসাইন বলেন, ‘এখনও মানুষের মধ্যে একধরনের আতঙ্ক রয়েছে। তাই ক্রেতা মিলছে না। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বেশি চাপে আছেন। অনেক ব্যবসায়ী ব্যাংক ঋণে জর্জরিত। আবার অনেকেই কর্মচারীদের বেতন ও দোকান ভাড়া কীভাবে মেটাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।’
লাউয়াছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, পর্যটন মৌসুমে হাজার হাজার পর্যটক দেখা যেত। বর্তমানে পর্যটকের দেখা নেই বললেই চলে।
জেলা প্রশাসক জানান, মৌলভীবাজার জেলায় সব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জেলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় ভোর ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকবে।
পুলক পুরকায়স্থ/জোবাইদা/