চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বটতলা হাট এলাকার একটি মন্দিরে দুর্গাপ্রতিমা ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। এ নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শনিবার (৫ অক্টোবর) রাতে কোনো এক সময় পৌরসভার বটতলা হাটে মা ভবানী দুর্গা ও কালীমাতা মন্দিরে ভাঙচুর হয়।
আজ রবিবার সকালে বিষয়টি নজরে আসে মন্দির কমিটির।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
স্থানীয় ভক্ত রীতা রানী জানান, ‘বছরে একবার পূজা করে থাকি। হিন্দু-মুসলিম এক সঙ্গে বসবাস করেও প্রতিমা ভাঙচুর হচ্ছে। এটা খারাপের দিকে যাচ্ছে। আমরা নিজেদের ধর্ম পালন করতে না পারলে কি করব? নিজেদের ধর্ম পালন করা কঠিন হয়ে পড়বে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচার করতে হবে।’
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা দীপ্তি বলেন, ‘শেষ মুহূর্তে প্রতিমা ভাঙচুর করে আমাদের উৎসবে বাধা প্রদান করা হচ্ছে। আমাদের খুব খারাপ লাগছে। আমরা তো কারও ক্ষতি করিনি। আমরা বিচার চাই।’
মা ভবানী দুর্গা ও কালীমাতা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক জয় চন্দ্র কর্মকার বলেন, ‘রাত ১টার দিকে প্রতিমার কাজ শেষে বাড়ি যাই সবাই। পরে সকালে আমার মা জানান, কে বা কারা প্রতিমা ভাঙচুর করেছে। এসে দেখি প্রতিমার হাত, পাসহ বিভিন্ন অঙ্গ ভাঙচুর করেছে। যে এই কাজটি করেছে ভালো করে নাই। এটার বিচার চান আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।’
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্রী ধনঞ্জয় চ্যাটার্জী বলেন, ‘বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান না হলে জেলায় পূজা উদযাপন করা হবে কি না তা নিয়ে ভাবছেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ। এর আগে কোনো দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জে এ ধরনের প্রতিমা ভাঙচুর হয়নি। তবে এ বছর প্রতিমা ভাঙচুর হওয়ায় জেলার হিন্দু সম্প্রদায় ভয়ের মধ্যে রয়েছে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম গোলাম জাকারিয়া বলেন, সকালে পুলিশের পক্ষ থেকে জেলা পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা মন্দির পরিদর্শন করেছেন। অপরাধীদের ধরতে মাঠে কাজ করছি আমরা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আব্দুস সামাদ জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
জহুরুল জহির/জোবাইদা/অমিয়/