দুর্গাপূজা শেষে লক্ষ্মীপূজা করতে পূর্ণিমা শুরু হতেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে বাড়িতে চলে লক্ষ্মী দেবীর আরাধনার তোড়জোড়।
তাই সিলেটে বুধবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকেই সনাতনীদের বাড়িতে ছিল প্রদীপের আলোর সমাহার।
দেবী লক্ষ্মীর প্রতিমা, ঘট কিংবা লক্ষ্মী-নারায়ণের ছবির সামনে ভোগ দিয়ে সাধ্যমতো সবাই লক্ষ্মীপূজা করেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ পেতে নিজেদের সাধ্যমতো পূজা-অর্চনা করে থাকেন।
ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই এই পূজা করেন। কারণ, সবার মনে প্রার্থনা একটাই- আগামী এক বছর যেন মা লক্ষ্মী পরিবারের একজন হয়েই তাদের ঘরে বিরাজ করেন। এবার লক্ষ্মীপূজার পূর্ণিমা শুরু হয়েছিল বুধবার রাত ৮টা ১২ মিনিটে এবং পূর্ণিমা শেষ হবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৫টা ৪৭ মিনিটে। তাই বুধ ও বৃহস্পতি দুদিনই লক্ষ্মীপূজা সম্পন্ন করতে পারবেন।
সনাতনীরা বিশ্বাস করেন, ধনসম্পদ ও ঐশ্বর্যের দেবী লক্ষ্মী। তাই বুধবার সন্ধ্যা থেকেই প্রতিমা অথবা ঘট প্রতিস্থাপনের মাধ্যম শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। এরপর চাল, কলা, লুচি, সুজি, মুড়ি ও বিভিন্ন ধরনের ফল ও ফুল দিয়ে পূজার নৈবেদ্য (ভোগ) তৈরি করা হয়। এই ভোগ দেওয়া হয় লক্ষ্মী দেবীর প্রতিমার সামনে। শাঁখ বাজিয়ে, সুগন্ধি ধূপ দিয়ে আরতি করা হয়। পাঁচালি পড়ে শেষ হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা।
এ ছাড়াও লক্ষ্মীপূজায় ঘরের মেঝেতে চালের গুঁড়া দিয়ে আলপনা আঁকা হয়। বিভিন্ন ধরনের ফুল দিয়ে সাজানো হয় দেবীর চারপাশ।
লক্ষ্মীপূজার আরাধনায় উপবাসও করা হয়। এই উপবাস নারী-পুরুষ উভয়ে করতে পারলেও প্রধানত ঘরের নারীরাই এই উপবাস করেন।
সিলেট নগরীর সনাতনীদের প্রায় সব বাড়িতেই লক্ষ্মীপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নগরীর সোবহানিঘাট এলাকার সীমা রানী দাশ খবরের কাগজকে বলেন, “আমি লক্ষ্মীপূজার জন্য উপবাস করেছি। সন্ধ্যায় ঘট বসিয়ে পূজা করব। এরপর পাঁচালি পাঠ করব। সৌভাগ্য ও ধনসম্পদের দেবী মা লক্ষ্মী। সৌভাগ্য ও মঙ্গল কামনায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে প্রার্থনা করব।”
শাকিলা ববি/অমিয়/