যশোরে ডিম সিন্ডিকেট ভাঙতে নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে এই সিন্ডিকেট ডিমের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে রাখছে বলে ভোক্তাদের অভিযোগ।
সোমবার (২১ অক্টোবর) সিন্ডিকেট হোতা যশোর অঞ্চলের সর্ববৃহৎ ডিম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আফিল অ্যাগ্রোসহ চার প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাজার মনিটরিং টাস্কফোর্স। এদিন দুপুর ১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত যশোর শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা আদায় করা হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ডিমের বাজার স্থিতিশীল ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলামের নেতৃত্বে যশোর শহরের বড় বাজার, চাঁচড়া চেকপোস্ট মোড় ও আরবপুর এলাকায় অভিযান চালায় বাজার মনিটরিং টাস্কফোর্স। এ সময় তারা বিভিন্ন দোকানে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে ডিম বিক্রি করার প্রমাণ পান।
সূত্র আরও জানায়, খুচরা দোকানিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাজার মনিটরিং টাস্কফোর্স পাইকারি বাজারে অভিযান চালিয়ে বেশি মূল্যে ডিম বিক্রির প্রমাণ পায়। এসময় বড় বাজারের দুই পাইকারি ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বাজার মনিটরিং টাস্কফোর্সের কাছে উৎপাদকের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যে ডিম না পাওয়ার অভিযোগ করলে টাস্কফোর্স শহরের চাঁচড়া চেকপোস্ট এলাকায় আফিল অ্যাগ্রোর বিপণন কেন্দ্রে অভিযান চালায়। সেখানে উৎপাদককে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ডিম বিক্রি না করায় ওই প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে আরেকটি উৎপাদক প্রতিষ্ঠান শহরের আরবপুরে চাঁদ অ্যাগ্রোর বিপণন কেন্দ্রে অভিযান চালায়ে মনোপলি ব্যবসার প্রমাণ পাওয়ায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম জানান, যশোরের উৎপাদকরা নিজেরাই পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী হিসেবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। তাদের সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদক হিসেবে ১০ টাকা ৩৮ পয়সা দামে ডিম বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা না মানলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, গতকাল যশোরের দুটি উৎপাদকসহ চার প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করে আদায় করা হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।