ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
লাল কার্ডের পর বসনিয়ার জালে সুইজারল্যান্ডের গোল উৎসব অসুস্থ মেসির বাবা, গুজব ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ পরিবার গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে সুইজারল্যান্ড-বসনিয়া অবশেষে কাটল ভিসা জটিলতা, কানাডায় খেলতে পারবেন ওয়াহি বিশ্বকাপে সহজ ম্যাচ বলে কিছু নেই: ডগলাস সান্তোস বিশ্বকাপে সৌদি আরবের জন্য ভিন্ন নিয়ম পেনাল্টি গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে রুখে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা অপ্সরার আন্তর্জাতিক অভিষেক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা গণপিটুনির শিকার তিন ডিবি সদস্য, উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি মেনে নাও, মেসি সেরা: রোনালদো নাজারিও কেইনের প্রেরণা এমবাপ্পে-হালান্ড কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ড: গ্রেপ্তার শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল টাঙ্গাইলে প্রতিমন্ত্রী টুকুর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে চেক প্রজাতন্ত্র টাকার অভাবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত, সহায়তার আবেদন রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ নেইমার ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ সাবেক মন্ত্রী হারুণ অর রশীদ অর নেই কুমিল্লায় মাদক মামলায় কারাবন্দি যুবদলকর্মীর মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হাইতির বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিলকে সুখবর দিল ফিফা ওয়ালটন পিসিবিএ'র রপ্তানি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ কনফারেন্স ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, গণপিটুনির শিকার তিন পুলিশ বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ইইউর ১.৪ কোটি ইউরো অনুদান বিশ্বকাপে বড় ধাক্কা খেল আইভরি কোস্ট, কানাডার ভিসা পেলেন না ওয়াহি মাগুরায় নবজাতককে বিক্রি করলেন বাবা

আনিসুলের বিরুদ্ধে সমালোচনা করলেই দিতেন মামলা

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৪, ০১:৫২ পিএম
আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৪, ০৯:৫৭ পিএম
আনিসুলের বিরুদ্ধে সমালোচনা করলেই দিতেন মামলা
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

সাবেক আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিসভায় টানা তৃতীয়বারের মতো জায়গা করে নিয়েছিলেন অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি পরপর তিন মেয়াদে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হন। তার বিরুদ্ধেও রয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে করেছেন অনেক অপকর্ম। নিজ সংসদীয় এলাকায় অনেক কিছু করার প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত তা ফাঁকা বুলিতে পরিণত হয়েছে। মসজিদে দাঁড়িয়ে বলা কথাও রাখতে পারেননি। তাকে নিয়ে কেউ সমালোচনা করলে তার বিরুদ্ধে দেওয়া হতো ডিজিটাল আইনসহ বিভিন্ন মামলা।

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মালিকানাধীন সিটিজেন্‌স ব্যাংক পিএলসির একটি শাখা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ২০২২ সালের ১২ নভেম্বর চালু হয়। এরপর থেকে আনিসুল হকের সংসদীয় আসন কসবা ও আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বড় ব্যবসায়ীদের ওপর নেমে আসে অ্যাকাউন্ট খোলা কিংবা এফডিআর, ডিপিএস করার চাপ। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে চাপ দিয়ে অন্য ব্যাংক থেকে প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির টাকা সিটিজেন্‌স ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে নিয়ে যাওয়া হতো। আখাউড়ার বাসিন্দা ওই ব্যাংকের এক কর্মকর্তা রাজনীতিবিদদের এ কাজে সহায়তা করতেন। কার কার বেশি টাকা আছে এসব তথ্য ওই কর্মকর্তা রাজনীতিবিদদের দিতেন। এরপর রাজনীতিবিদরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের চাপ দিতেন।

আবার কেউ কেউ আনিসুল হককে খুশি করতে তার ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলেছেন, এফডিআর কিংবা ডিপিএস করেছেন। আখাউড়ায় এক ডজনের মতো সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক থাকলেও ওই পৌরসভার টাকার একটি বড় অংশ রাখা হতো কসবার সিটিজেন্‌স ব্যাংকের শাখায়। কেননা, ওই সময় পৌর মেয়র ছিলেন সাবেক আইনমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. তাকজিল খলিফা কাজল। আখাউড়াতে তাকজিল খলিফাই মূলত প্রভাব খাটিয়ে সিটিজেন্‌স ব্যাংকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের টাকা রাখতে বাধ্য করাতেন। কসবাতে ব্যাংকের আর্থিক অবস্থান দৃঢ় করতে কাজ করতেন সাবেক আইনমন্ত্রীর আরেক ঘনিষ্ঠজন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. রাশেদুল কায়সার ভূঁইয়া জীবন।

তবে গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। চাপ দিয়ে যাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল তাদের অনেকেই টাকা উঠাতে শুরু করেন। অনেকে আবার ব্যাংক কী অবস্থায় পড়ে- সেই ভয় থেকেও টাকা উঠিয়ে ফেলেন। চাপ দিয়ে টাকা আনার কাজে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখা এক ব্যাংক কর্মকর্তা ইতোমধ্যেই ওই শাখা থেকে বদলি হয়ে ঢাকায় চলে গেছেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর সিটিজেন্‌স ব্যাংক পিএলসি বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পায় ও এটিকে তফসিলি ব্যাংক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন আনিসুল হকের মা বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহানারা হক। তিনি মারা যাওয়ার পর মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন তৌফিকা আফতাবকে ব্যাংকের চেয়ারম্যান বানানো হয়। ২০২২ সালের জুলাইয়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই কসবার নয়নপুর বাজার শাখার উদ্বোধন হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা জানান, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বড় অঙ্কের টাকা তার এখানে এফডিআর করা ছিল। মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন তাকজিল খলিফা প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্টদের চাপ দিয়ে ওই টাকা সিটিজেন্‌স ব্যাংকে নিয়ে যান। আখাউড়া পৌরসভার একটি সূত্র জানায়, তৎকালীন মেয়র একক সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠানের বড় একটি অঙ্কের টাকা সিটিজেন্‌স ব্যাংকে নিয়ে রেখে দেন। তখন এ বিষয়ে কেউ কিছু বলারও সাহস পাননি। তবে শিগগিরই ওই টাকা সেখান থেকে আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বর্তমানে একাধিক মামলায় কারাগারে আছেন। তার ঘনিষ্ঠজন সিটিজেন্‌স ব্যাংকের চেয়ারম্যান তৌফিকা আফতাবও বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তিনি সন্তানদের সঙ্গে কানাডায় অবস্থান করছেন বলে আলোচনা আছে। তৌফিকা আফতাব দেশ থেকে হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এ বিষয়ে তদন্ত করছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

মসজিদে দাঁড়িয়ে বলা কথাও রাখতে পারেননি, আওড়াতেন ফাঁকা বুলি

‘আমি যা বলি তা করি’ নিজ নির্বাচিত এলাকায় আয়োজিত বিভিন্ন সভা-সমাবেশে নিয়মিতই এ কথাটা বলতেন সাবেক আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের এ সংসদ সদস্য প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর কথা ও কাজের মিল রেখে তার নির্বাচনি এলাকা কসবা ও আখাউড়া উপজেলার মানুষের মন জয় করে নেন। নির্বাচনে জেতার পর সারা দেশে যখন মন্ত্রী-এমপিরা দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে স্বর্ণ কিংবা রুপার নৌকাসহ এটা-সেটা নেওয়া শুরু করেন, তখন গণসংবর্ধনায় উপস্থিতদের মধ্যে পাঁচ হাজার গাছের চারা বিতরণ করে প্রশংসা কুড়ান আনিসুল হক। সাধারণ মানুষের ফোন তিনি ধরেন- এ প্রশংসাও ছিল মুখে মুখে।

তবে দিন যত যায় এমন পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে থাকে। তার কথা ‘ফাঁকা বুলি’ হিসেবে প্রমাণিত হতে থাকে। চাটুকারবেষ্টিত থাকা সাবেক এ মন্ত্রী মিল রাখতে পারেননি কথা ও কাজের। তিনি নিজে কিছু বললেও চাটুকারদের স্বার্থ উদ্ধার না হলে তারা ওই কাজটি করতে দিতেন না। নিয়মিত ফোন ধরার বিষয়টি থেকেও তিনি সরে আসেন । সবচেয়ে খারাপ বিষয় হয়ে দাঁড়ায় চাকরি দেওয়ার বিনিময়ে টাকা না নেওয়ার যে কথা বলতেন, সেটি শেষ পর্যন্ত ধোপে টেকেনি। মন্ত্রী সরাসরি টাকা না নিলেও তার একাধিক ঘনিষ্ঠজন চাকরি দেওয়ার নাম করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অথচ একটা সময় ছিল যখন মন্ত্রী হাতে থাকা ইন্টারভিউ কার্ড দেখে কে গরিব সেটি খোঁজ করতেন। পরবর্তী সময়ে সেই প্রক্রিয়া তিনি ধরে রাখতে পারেননি।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আখাউড়ায় একটি মিনি স্টেডিয়াম করার ঘোষণা দিয়েছিলেন আনিসুল হক। একাধিক সভা-সমাবেশে তিনি এ ঘোষণা দেন। কোথায় করবেন সে বিষয়ে একটি প্রাথমিক সিদ্ধান্তের কথাও জানান। কিন্তু এ প্রতিশ্রুতি দীর্ঘ পাঁচ-সাত বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। এ বছরের নির্বাচনে আগে তিনি এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আখাউড়া উপজেলার আজমপুর রেলওয়ে স্টেশনে দুটি আন্তনগর ট্রেন যাত্রাবিরতির প্রতিশ্রুতি দেন। এমনও বলেন যে, ‘নির্বাচিত হয়ে আমি যেদিন আসব এর আগে থেকেই এখানে ট্রেন থামবে। অর্থাৎ আমি যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করেই আসব।’ ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি এলাকায় একাধিকবার এলেও ট্রেনের যাত্রাবিরতির বিষয়টি ফাঁকা বুলি হিসেবেই রয়ে যায়।

বছরখানেক আগে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার পথে রাস্তার বেহাল দেখে বেশ চটেন আনিসুল হক। এ সময় তিনি হাসপাতালটি দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্যত্র স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে কাগজে-কলমে এ কাজ বেশি দূর এগোয়নি। তবে আনিসুল হকের ঘনিষ্ঠজন তাকজিল খলিফা চাচ্ছিলেন তার মালিকানাধীন জায়গা যেখানে আছে, সেখানে যেন হাসপাতালটি হয়। দলীয় রাজনীতিতেও বেশ অপরিপক্বতার পরিচয় দেন আনিসুল হক। কথায় কথায় কসবা ও আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগকে মডেল হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিলেও সেটা তিনি করতে পারেননি। নিজেই বনে যান কসবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। ঘনিষ্ঠজন ও এপিএস অ্যাডভোকেট রাশেদুল কায়সার জীবনকে বানান সাধারণ সম্পাদক।

আখাউড়ায় প্রবীণ সব রাজনীতিবিদকে তিনি ‘মাইনাস’ করে রাখেন। সাধারণ সম্পাদক করেন আরেক ঘনিষ্ঠজন পৌর মেয়র মো. তাকজিল খলিফা কাজলকে। আর পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদদের বাদ দিয়ে তাকজিল খলিফার পছন্দের লোক মোহাম্মদ আলী ভূঁইয়াকে সভাপতি করেন। যে কারণে আখাউড়া আওয়ামী লীগের পুরো নিয়ন্ত্রণ চলে আসে তাকজিল খলিফা কাজলের হাতে। কয়েক মাসের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কয়েক বছরেও আখাউড়া আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেননি আনিসুল হক। মূলত, তাকজিল খলিফা তার নিয়ন্ত্রণকে হাতছাড়া না করতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে দিতেন না। তাকজিল খলিফা একই সঙ্গে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়কের পদ ধরে রাখেন। প্রায় ১০ বছর ধরে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করার কথা বললেও আনিসুল হক সেটা করতে পারেননি।

চলতি বছরে কসবা উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের সময় মসজিদে দাঁড়িয়ে বলা প্রতিশ্রুতিও রাখতে পারেননি আনিসুল হক। চেয়ারম্যান পদে আনিসুল হকের ফুফাতো ভাই মো. সাইদুর রহমান স্বপন ও সাবেক এপিএস রাশেদুল কায়সার ভূঁইয়া জীবন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মন্ত্রী ভোটকে সামনে রেখে গত ১৭ মে স্থানীয় মডেল মসজিদে দেওয়া বক্তব্যে দুজনকে আপনজন উল্লেখ করে নিজেকে নিরপেক্ষ দাবি করে সুষ্ঠু ভোটের আশ্বাস দেন। তবে সেখানে সুষ্ঠু ভোট না হওয়ার বিষয়টি ছিল ওপেন সিক্রেট। নির্বাচনের পর চেয়ারম্যান প্রার্থী রাশেদুল কায়সার ভোট কারচুপির অভিযোগ আনেন আনিসুল হক ও তার ঘনিষ্ঠজনদের বিরুদ্ধে।

আনিসুল হকের গ্রেপ্তারের খবরে ওই সময়ে কসবা ও আখাউড়ায় একাধিক আনন্দ মিছিল-সভা বের করে বিএনপি। এসব কর্মসূচি থেকে অভিযোগ করা হয়, আনিসুল হক মুখে রাজনৈতিক সহাবস্থানের কথা বললেও কসবা ও আখাউড়ায় বিএনপিকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দেননি। তিনি অনেককে মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। চাকরি দেওয়ার নাম করে তার লোকজন কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এলাকার রাস্তাঘাট দেখলেই বোঝা যায় তিনি উন্নয়নের নামে ফাঁকা বুলি আউড়ে গেছেন। 

মন্ত্রীকে নিয়ে সমালোচনা করলেই হতো ডিজিটাল আইনসহ বিভিন্ন মামলা

শুধু বিএনপি নেতা-কর্মীই নন, সাবেক আইনমন্ত্রীর খড়্গ থেকে রক্ষা পাননি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও। এমনকি আওয়ামী লীগদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ আলমের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়। এসব মামলার বেশির ভাগই আইনমন্ত্রী কিংবা তার ঘনিষ্ঠজনদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখালেখির কারণে করা হয়।

নেতা-কর্মীরা জানান, মন্ত্রী কিংবা তার কোনো ঘনিষ্ঠজনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখা ছাড়াও সভা-সমাবেশে মন্তব্য করে হয়রানিমূলক মামলার শিকার হয়েছেন। দলীয় নেতা-কর্মীসহ অন্যদের বিরুদ্ধে কসবা ও আখাউড়া থানায় ডিজিটাল আইনে অন্তত ২০টির মতো মামলা ও জিডি হয়। এসব মামলায় অনেককেই জেল খাটতে হয়েছে। এ ছাড়া মন্ত্রীর নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি খোলার অভিযোগেও ঢাকাতে জিডি হয়। 

সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের মার্চ মাসেই সাতটি মামলা করা হয় কসবা থানায়। রাশেদুল কায়সার ভূঁইয়া জীবনসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ফেসবুক পোস্ট দেওয়ার অভিযাগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় এসব মামলা করা হয়। মামলায় আওয়ামী লীগদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য মো. শাহআলম, এমপি প্রার্থী শ্যামল রায়, সৈয়দ মো. মহসীন, তসলিমুর রেজাসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। 

২০২০ সালের জুন মাসে ‘হক কথা তিতা লাগে’ নামে একটি ফেসবুক আইডিতে তৎকালীন আইনমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় মামলা হয়। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইব্রাহিম মিয়ার করা মামলায় উপজেলার কায়েমপুর গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে মাঈন উদ্দিন সরকারকে আসামি করা হয়।

আনিসুল হকের বিরুদ্ধে বলায় ২০২০ সালের ২ জুলাই আখাউড়াতে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি (তৎকালীন ডাকসুর ভিপি) নুরুল হক নূরের বিরুদ্ধে মিছিল হয়। মিছিল শেষে নূরের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। এ সময় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তার বিরুদ্ধে আইনিব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

গণপিটুনির শিকার তিন ডিবি সদস্য, উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম
গণপিটুনির শিকার তিন ডিবি সদস্য, উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও সোনারগাঁও উপজেলার সীমান্তবর্তী শান্তিরবাজার এলাকায় গণপিটুনির শিকার হয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দক্ষিণ বিভাগের তিন সদস্য। পরে আড়াইহাজার থানা-পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন, ওই তিনজন নিজেদের পুলিশ পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করতেন। তবে পুলিশের দাবি, তাঁরা একটি মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিবি দক্ষিণ বিভাগের চার সদস্যের একটি দল রূপগঞ্জের গাউছিয়া এলাকায় একটি মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে যায়। এ সময় আসামিপক্ষের লোকজন তাঁদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তিন সদস্যকে মারধর করে একটি পিকআপে তুলে আড়াইহাজার উপজেলার উচিতপুরা ইউনিয়নের শান্তিরবাজার এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের আবারও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আহত ব্যক্তিরা হলেন উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন, এএসআই আমান ও কনস্টেবল কবির। তারা কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায় কর্মরত বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ডিবির আরেক সদস্য কনস্টেবল আকাশ আহমেদ হামলার সময় পাশের একটি ওয়াশরুমে থাকায় রক্ষা পান। পরে তিনি তাদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাস নিয়ে আড়াইহাজার থানায় গিয়ে বিষয়টি জানান।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে ওই ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় নানা অভিযোগ ছিল। ঘটনার দিন তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় লোকজন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। একপর্যায়ে অনেকে তাদের ভুয়া ডিবি সদস্য সন্দেহে আটক করেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের মারধর করে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইল বা অর্থ আদায়ের অভিযোগ থাকলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কাউকে আটক করে চোখ বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা কেন ঘটেছে এবং এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

নারায়ণগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) মেহেদী ইসলাম বলেন, ডিবি সদস্যরা কী উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন এবং পুরো ঘটনার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

মো: ইমরান হোসেন/এসএন

কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ড: গ্রেপ্তার শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:১২ পিএম
কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ড: গ্রেপ্তার শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় আলোচিত ধর্ষণকাণ্ডে গ্রেপ্তার জিসান মিয়ার মামলা নিয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারী ও অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (জিপি-পিপি) মো. ফারুক হোসাইন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে ওই চিঠিতে নিয়োগ বাতিলের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

চিঠির অনুলিপি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা ও দায়রা জজ, পাবলিক প্রসিকিউটরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে আইন ও বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশের জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর জারি করা নিয়োগ সংক্রান্ত স্মারকের মাধ্যমে তাদের যে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছিল, নির্দেশিত হয়ে তাদের নিয়োগ সংক্রান্ত আদেশ বাতিল করা হলো।

একাধিক সূত্র জানায়, সম্প্রতি দেশব্যাপী আলোচিত ও ধর্ষণকাণ্ডে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়া ছাত্রশিবির নেতা জিসান মিয়ার পক্ষে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে ছিলেন ওই দুই আইনজীবি। ওই বক্তব্যের কারণেই তাদেরকে এপিপির নিয়োগ বাতিল করা হয়।  

এ বিষয়ে এপিপি অ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারি বিকালে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অধিকাংশ এপিপি নিজ আদালতের বাইরে আসামি পক্ষে সব ধরনের মামলা পরিচালনা করছেন, এর প্রমানও আছে। আমরা দুই এপিপি আসামির পক্ষে ওকালতনামায় স্বাক্ষর দিতে হয়নি। জিসানের পক্ষে তার ভাই অ্যাডভোকেট রাসেল আহমেদ ওকালত নামায় স্বাক্ষর করেছেন। আমরা শুধু আসামির পক্ষে আদালতের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেছিলাম। তবে এ কারণে আমাদের নিয়োগ বাতিল করা করা হয়েছে কিনা চিঠিতে  তেমন কিছু উল্লেখ নেই।

এদিকে আদালত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে ‘সরকার নিযুক্ত একজন এপিপি কোন মামলার বিষয়ে সরকারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যে (মিডিয়া) এভাবে বক্তব্য রাখতে পারেন না। তাই কেউ হয়তো আইন মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি অবহিত করার পরই দুই জনের নিয়োগ বাতিলের  সিদ্ধান্ত আসে।

কুমিল্লা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুলহ হক রিংকু বলেন, আমরা পিপি এবং এপিপিরা কি করতে পারবো আর কি পারবো না, তা বিধিতে বলা আছে। সরকারের নিযুক্ত হয়ে এপিপিরা সরকারের বিরুদ্ধে কোন মামলায় বক্তব্য দেয়ার সুযোগ নেই। আমাদের এপিপি দুই সহকর্মীকে পদ থেকে প্রত্যাহারের চিঠি পেয়ে দুপুরে তাদের নিকট পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, এর আগে গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকালে জিসানকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩নং আমলী আদালতের বিচারক তৈয়ব উদ্দিনের আদালতে হাজির করা হয়। পরে তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন বিচারক। এ সময় আদালত প্রাঙ্গনে আসামি পক্ষে এপিপি মনির হোসেন পাটোয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুরু থেকেই পুলিশ মামলা নিয়ে লুকোচুরি খেলছে। মামলার শুনানী করতে আইনজীবীদের ওকালত নামায় স্বাক্ষর নেয়ার সুযোগ না দিয়ে পুলিশ জিসানকে কারাগারে নিয়ে গেছে। ধর্ষণ মামলার অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা আদালতে জিসানের সুচিকিৎসার আবেদন করেছি। অপর এপিপি সাইদুল ইসলামও অনুরুপ বক্তব্য দেন।

প্রসঙ্গত, গত ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) রাতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা পশ্চিম অঞ্চলের সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধান নিখোঁজ হন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। পরদিন এ বিষয়ে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয় দাউদকান্দি মডেল থানায়। ডায়েরি করার দিন রাত ৮টা-৯টার দিকে জেলার লাকসাম জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, ২৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারী বাদি হয়ে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই নারী উল্লেখ করেন, গত ৫-৬ মাস আগে শিবির নেতা জিসানের সঙ্গে ওই নারীর সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে দুইজন প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। গত ২০ মে শিবির নেতা জিসান তার দাউদকান্দির ভাড়া বাসায় নিয়ে ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করেন। পরে ওই নারী গর্ভবতী হয়ে পড়লে জিসান বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চাপ দেন। জিসান তার চাচাতো ভাই সজীবকে দিয়ে বাচ্চা নষ্ট করার ওষুধ পাঠান। ওই নারীর রক্তক্ষরণ শুরু হলে তা পুনরায় সজীবকে জানান তিনি। জিসান সজীবকে দিয়ে পুনরায় ওষুধ পাঠান। পরে ওই নারী সুস্থ হয়ে উঠে জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

শুক্রবার (১২ জুন) উভয়ের বিয়ের কথা ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে সেই বিয়ে থেকে বিরত থাকতেই নিখোঁজের নাটক সাজান শিবির নেতা জিসান। শনিবার (১৩ জুন) সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে জিসানকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।

জহির শান্ত/এসএন

টাঙ্গাইলে প্রতিমন্ত্রী টুকুর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:০৮ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:১৩ পিএম
টাঙ্গাইলে প্রতিমন্ত্রী টুকুর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১
ছবি: খবরের কাগজ।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপির নাম ব্যবহার করে বাংলাদেশ পুলিশে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মো. এরশাদ আকন্দ (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা বাজার এলাকায় শাহবাগ থানা ও ভূঞাপুর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।

তিনি উপজেলার অর্জুনা বাজার এলাকার বাসিন্দা।

বুধবার (১৭ জুন) রাতে রাজধানীর শাহবাগ থানায় প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার খাষ ঘুনিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. রাজা মন্ডল।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) আব্দুল গাফফার হিমেল জানান, এরশাদ আকন্দ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে আরও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রাজা মন্ডলের ছেলেকে পুলিশে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পরিচয় ব্যবহার করে অভিযুক্তরা।

চাকরি দেওয়ার বিনিময়ে তিনি ১২ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে গত ৪ মে রাজধানীর শাহবাগ এলাকার একটি হোটেলের রেস্টুরেন্টে রাজা মন্ডলের কাছ থেকে নগদ ৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা গ্রহণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি অর্থ চাকরি হওয়ার পরে দেওয়ার কথা ছিল।

তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও চাকরির ব্যবস্থা করতে না পারায় ভুক্তভোগী টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তার সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ হয়ে যায়। তাই ভুক্তভোগী বুধবার (১৭ জুন) রাতে থানায় মামলা করেন।

শাহবাগ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গ্রেপ্তারকৃত এরশাদ আকন্দ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে শুক্রবার সকালে আদালতে প্রেরণ করা হবে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জুয়েল/আমান

টাকার অভাবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত, সহায়তার আবেদন

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
টাকার অভাবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত, সহায়তার আবেদন
ছবি: সংগৃহীত

দারিদ্র্য কখনো কখনো মানুষের স্বপ্নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তেমনই এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন বান্দরবানের দুর্গম এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থী উখ্যাইংওয়ং মারমা। দীর্ঘ সংগ্রাম, কঠোর পরিশ্রম ও মেধার স্বাক্ষর রেখে তিনি দেশের অন্যতম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়-এর বিবিএ (মার্কেটিং) বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম চান্দা হেডম্যান পাড়া গ্রামের বাসিন্দা উখ্যাইংওয়ং মারমা। সীমিত আয়ের পরিবারে জন্ম নেওয়া এই শিক্ষার্থী ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছেন। জীবনের অনেকটা সময় তিনি সরকারি শিশু সদনে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। প্রতিকূল পরিবেশ সত্ত্বেও তিনি কখনো শিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন থেকে সরে যাননি।

উখ্যাইংওয়ং জানান, ২০২৩ সালে ফরহাদাবাদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি জিপিএ ৪.৬১ অর্জন করেন। পরে ২০২৫ সালে হাটহাজারী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪.২৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। ধারাবাহিক এই সাফল্যের ফল হিসেবে তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেধাতালিকায় ৩৫৩৯তম স্থান অর্জন করেন এবং বিবিএ (মার্কেটিং) বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ভর্তি ফি, আবাসন, যাতায়াতসহ প্রাথমিক খরচ মিলিয়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকার প্রয়োজন। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব না হওয়ায় এখনো ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারেননি তিনি।

কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে উখ্যাইংওয়ং বলেন, "পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন নিয়ে নিজের মেধা আর পরিশ্রমের ওপর ভর করে এতদূর এসেছি। কিন্তু এখন অর্থের অভাবে যদি ভর্তি হতে না পারি, তাহলে শুধু আমার নয়, আমার বাবা-মায়েরও বহুদিনের স্বপ্ন ভেঙে যাবে। আমি চাই পড়াশোনা করে সমাজ ও দেশের জন্য কিছু করতে।"

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, উখ্যাইংওয়ং মারমার মতো মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও মানবিক মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। সামান্য আর্থিক সহায়তা একটি মেধাবী তরুণের জীবন বদলে দিতে পারে এবং তাকে দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।

বর্তমানে উখ্যাইংওয়ং মারমা তার ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তি, দাতা সংস্থা ও বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। সময়মতো প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা না হলে তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থমকে যেতে পারে।

মেধা ও ইচ্ছাশক্তি থাকা সত্ত্বেও যেন অর্থের অভাবে একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ হারিয়ে না যায়— এমনটাই প্রত্যাশা তার পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।

রিজভী রাহাত/নাঈম

রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
অভিযুক্ত মাসুদ খান/ ছবি: খবরের কাগজ

রাজবাড়ীতে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আপন ফুফাকে গ্রেপ্তার করেছে রাজবাড়ী সদর থানার পুলিশ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে রাজধানী ঢাকার হাতিরঝিল এলাকা থেকে অভিযুক্ত মাসুদ মন্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযুক্ত বালিয়াকান্দি উপজেলার রামদিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্র জানায়, কোরবানীর ঈদের আগে মাসুদ খান শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যায়। ২৭ মে শিশুটিকে ঘরে রেখে তার মা বাইরে কাজ করতে যাওয়ার সুযোগে এ ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় শিশুর মা বাদী হয়ে ২ জুন তারিখে রাজবাড়ী সদর থানায় মামলা করেন।

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ জানান, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার একমাত্র আসামি মাসুদ মন্ডলের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর রাজধানী ঢাকার ডিএমপির হাতিঝিল থানা এলাকা হতে তাকে গ্রেপ্তার করে রাজবাড়ী আনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে তাকে রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়।

সুমন/আমান