ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে জরায়ুমুখে ক্যানসারের এইচপিভি ভ্যাকসিন নেওয়ার পর ৬০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে গেনদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় আতঙ্কের কারণে এমনটা হয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রাথমিক তদন্তে মানসিক কারণে একজনের দেখাদেখি অন্যরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে জানান সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. শেখ সুফিয়ান রুস্তম।
এদিকে অসুস্থ হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রথমে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে ৬ জনের অবস্থার অবনতি হলে তাদের ভোলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে আতঙ্কের কিছু নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ ঘটনায় পৃথক দুটি কমিটি করেছে জেলা প্রশাসক। সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে অধিকাংশ শিক্ষার্থী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। জেলা প্রশাসক আজাদ জাহান বলেন, ‘ঘটনায় আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সুনিশ্চিত করতে একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।’
স্কুল অভিভাবক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের গেনদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সকাল থেকে স্কুলের শিক্ষার্থীদের এইচপিভি টিকা দেওয়া শুরু হয়। ১৬২ জন শিক্ষার্থীর টিকা সম্পন্ন হওয়ার পরে দুপুরের দিকে হঠাৎ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে।
জেলার ৫২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে এই টিকা কার্যক্রম চলছে। এই ভ্যাকসিন কার্যক্রমের আওতায় পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণি বা সমমান অধ্যয়নরত এবং ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বহির্ভূত কিশোরীদের বিনামূল্যে এইচপিভি টিকা দেওয়া হবে। ভোলায় ১ লাখ ২১ হাজার ৫৮০ জন কিশোরীকে প্রথমবারের মতো বিনামূল্যে এইচপিভি টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।