দেশের ছয়টি জেলার নদ-নদীর চরাঞ্চলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১৩ লাখ পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। সুইজারল্যান্ড ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত হয়েছে মেকিং মার্কেটস ওয়ার্ক ফর দি চরস (এমফোরসি) প্রকল্প।
বুধবার (৪ ডিসেম্বর) বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় গবেষক ও কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।
সুইজারল্যান্ড সরকারের পক্ষে সুইচ কন্ট্রাক ও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে চর উন্নয়ন গবেষণাকেন্দ্র (সিডিআরসি) আরডিএ পাঁচ বছর আগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে উত্তরাঞ্চলের চার জেলা কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাটের পাশাপাশি জামালপুর ও শরীয়তপুরে বিভিন্ন নদ-নদীর চরাঞ্চলে জীবনমান উন্নয়নে কাজ শুরু করে। প্রকল্প পরিচালক ড. আব্দুল মজিদ জানান, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও যমুনাসহ ওই ছয় জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর চরে প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হয়েছে ৭৮ হাজার পরিবার। আর পরোক্ষভাবে উপকৃত হয়েছে আরও ১২ লাখেরও বেশি পরিবার।
বুধবার আরডিএ মিলনায়তনে দীর্ঘমেয়াদি চর উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত ওই আলোচনা সভায় বক্তরা জানান, চরে এখনো পশুখাদ্যের বড় বাজারে যেতে পারেনি ফিড কোম্পানিগুলো। তবে গবাদি পশুপালনে আধুনিক প্রযুক্তি ও চিকিৎসার সুযোগ নিচ্ছেন চরবাসিরা। চাষাবাদেও পরিবর্তন এসেছে আর আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার হচ্ছে।
প্রকল্প পরিচালক জানান, সঠিক পদ্ধতিতে পাট, ধান ও ভুট্টাসহ অন্য ফসল চাষে আধুনিক পদ্ধতি ও ভালো বীজ ব্যবহারের ফলে অনেক ফসলের ফলন বেড়েছে দুই গুণের বেশি। প্রকল্প সম্পর্কে পাওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, এ মডেলটি চরাঞ্চলে দেশের অন্য জেলার চরাঞ্চলে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচর পরিবর্তন হবে।
‘ভবিষ্যতের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া চর অঞ্চলের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আরডিএ মহাপরিচালক ছিলেন অতিরিক্ত সচিব ডা. এ কে এম ওয়ালী উল্লাহ ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দা জিনিয়া রশীদ। অনুষ্ঠানে আরডিএ এবং সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ চর উদ্যোক্তা, বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠান, গবেষক এবং নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন। দিনের উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল, দীর্ঘমেয়াদি চর উন্নয়ন পরিকল্পনার খসড়া উপস্থাপন করা।