জামালপুরে বেসরকারি এম এ রশিদ হাসপাতালে আগ্নেয়াস্ত্রসহ হামলা ও ভাঙচুর এবং বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও ফাঁকা গুলিবর্ষণের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সুপার জানান, গত ২৮ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) মধ্য রাতে শহরের সরদারপাড়া এলাকায় বেসরকারি এম এ রশিদ হাসপাতালের সামনের রাস্তা পারাপার নিয়ে হাসপাতালের কর্মকর্তা সিব্বির ও শাহীনের সঙ্গে শহরের স্টেশন রোড এলাকার এম শুভ পাঠানের সঙ্গে তর্কবিতর্ক হয়। এ কারণে সেই রাতেই শুভ ও তার সহযোগীরা হাসপাতালে আগ্নেয়াস্ত্রসহ প্রবেশ করে এবং হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও চারজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মারধর করে।
পরবর্তীতে স্টেশন রোডে জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে হামলা, অস্ত্র প্রদর্শন ও ফাঁকা গুলি করে। এছাড়াও শহরের চালাপাড়া এলাকায় শাহীনের বাড়ীতে ভাঙচুর ও আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে।
আর এসব ঘটনায় সিব্বির ও শাহীন জামালপুর সদর থানায় পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করেন।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রবিবার (২২ ডিসেম্বর) গভীর রাতে রাজধানী ঢাকার গুলশান এলাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে স্টেশন রোড এলাকার মৃত ওবায়দুল হাসান টিপুর ছেলে এম শুভ পাঠান (৩৪), বসাকপাড়া এলাকার আবুল হাসেমের ছেলে মো. রিপন হোসেন হৃদয় (২৫), চালাপাড়া এলাকার মো. মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মাসুম মিয়া (৩৩) ও মো. রাজু (২৫) এবং সন্দেহভাজন ছনকান্দা এলাকার মো. নাসিরের ছেলে ঝুটন মিয়াকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেন।
পুলিশ সুপার আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানিয়েছে ঘটনার দিন তারা খেলনা পিস্তল প্রদর্শন করেছিল, তবে এটি আমাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। অস্ত্রের সন্ধানে তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আজ তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং দশ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে।
আসিফ/তাওফিক/