নেত্রকোনা পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাত দখল করে বসছে কাঁচাবাজার। এতে বাধ্য হয়ে সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করছেন পথচারীরা। পাশাপাশি যেখানে-সেখানে পার্কিং করে রাখা হচ্ছে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। এর ফলে পৌরসভার সড়কগুলোতে প্রতিনিয়ত লেগে থাকছে তীব্র যানজট।
পৌরসভা ও ট্রাফিক পুলিশসূত্রে জানা গেছে, শহরের মোক্তারপাড়া, বারহাট্টা সড়ক, কাইলাটি, জর্জকোট সড়ক, জয়ের বাজার, ছোট বাজার, তেরি বাজার, থানার মোড়, সাতপাই রেলক্রসিং এলাকায় প্রতিদিন বসে কাঁচাবাজার। এসব এলাকায় কাঁচাবাজারের পাশাপাশি বসে ভাসমান ফলের দোকান। তাই ক্রেতাদের ভিড়ও থাকে বেশি। এর ফলে সৃষ্টি হয় যানজট। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন পথচারীরা।
এ ছাড়া পৌর শহরের মোক্তারপাড়়া সড়কের পাশে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেগুলো হলো- নেত্রকোনা উচ্চ বিদ্যালয়, নেত্রকোনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আঞ্জুমান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, কালেক্টরেট স্কুল, হলি চাইল্ড কিন্ডারগার্টেন ও সিটি কলেজ। এ ছাড়াও এ সড়কের পাশে রয়েছে বিভিন্ন কোচিং সেন্টার।
একদিকে ফুটপাত দখল; অন্যদিকে যানজটের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটির পর প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এর মধ্যে গত বছর মোক্তারপাড়া সড়কে দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা নিহত হন।
বড় বাজারের বাসিন্দা দিলীপ সরকার জানান, যানজটে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ ছাড়া বাজারের ময়লা-আবর্জনার কারণে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।
মোক্তারপাড়ার ব্যবসায়ী জহির উদ্দিন জানান, অপরিকল্পিত কাঁচাবাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতার ভিড় জমে। এ সুযোগে প্রতিদিন ঘটছে পকেটমারের মতো ঘটনা। মাঝে মধ্যে দোকানেও চুরির ঘটনা ঘটছে।
নেত্রকোনা পৌরসভার প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শহরের বিভিন্ন সড়কে এ রকম বাজার বসে আসছে। এর আগে প্রধান সড়ক থেকে দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছিল। কয়েক দিন পর সে জায়গায় আবার বাজার বসানো হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
নেত্রকোনা পুলিশ সুপার সায়েম মাহমুদ বলেছেন, ইতোমধ্যে কালারের ভিত্তিতে স্থানীয় পরিবহন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে শহরের পরিবহন সংখ্যা কিছুটা কমে গেছে। এ ছাড়া বারহাট্টা সড়ক ও থানা রোডে মগড়া নদীর ব্রিজের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।
এসব কারণেও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। সড়কের পাশে প্রতিদিন যারা দোকান বসাচ্ছেন, তার অধিকাংশ মানুষ বাইরে থেকে আসেন। তবে বিষয়টি নিয়ে পৌরসভা ও ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে কথা বলে পদক্ষেপ নেব।