চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে ১৯৪ একর সরকারি খাস জমিতে গড়ে ওঠা ডিসি পার্কে দুই গ্রুপের ব্যাপক সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা আটটা থেকে রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত ডিসি পার্কে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যেক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যা আটটার দিকে ডিসি পার্কে দুটি পক্ষে হঠাৎ মারামারি শুরু হয়। একপর্যায়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও পাথর, ইট নিক্ষেপ শুরু করে উভয়পক্ষ। আতঙ্কে দর্শনার্থীরা পার্ক ছাড়তে থাকেন। অনেকেই কোনমতে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন।
জিয়াউদ্দিন নামে এক পথচারী খবরের কাগজকে বলেন, ঘটনাটি কি কারণে ঘটেছে জানিনা। আমাদের একটি লরী ভাঙচুর করা হয়েছে। যতটুকু শুনেছি যানজট সৃষ্টির কারণে সড়কে থাকা চালকদের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে পর্যটকরা। সেখান থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত।
আবদুল হান্নান নামে এক পর্যটক বলেন, সেখান থেকে কোনমতে প্রাণে বেঁচে ফিরে আসি। কি হয়েছে সেটা বোঝার আগেই দৌঁড় দিতে হয়।
স্থানীয় বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত মঞ্জুর হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, আমরা শুনেছি চালকদের সঙ্গে মারামারি লেগেছে। বিএম কন্টেইনার ডিপোর একজন চালক একটা লরী গাড়ি সেখানে (পার্কের সামনে) রাখলে ডিসি পার্কের স্টাফরা তাকে সেটি একটু আলাদা জায়গায় রাখতে বলেন। এ সময় উভয়পক্ষ এটি নিয়ে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। আমরা স্থানীয়রা সেখানে যেতে চাইলেও যেতে পারিনি।
এ বিষয়ে জানতে সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম রফিকুলকে কল করা হলেও তারা সাড়া দেননি।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, আমি সংঘর্ষের মধ্যে আছি, আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। তারপর কথা বলব।
এদিকে জেলা প্রশাসকের স্টাফ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ডিসি পার্ক সংলগ্ন রাস্তায় ট্রাক, লরীর ড্রাইভার ও শ্রমিকদের দুপক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। যা পরে সহিংসতায় রুপ নেয়। এই সহিংসতা ডিসি পার্কেও ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটরা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মেহেদী/