গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে আবদুল হান্নান মণ্ডল নামের এক চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে (১৯) ধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। তবে ঘটনার পাঁচদিন অতিবাহিত হলেও মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
অভিযুক্ত আবদুল হান্নান মণ্ডলের (৬৫) বাড়ি পলাশবাড়ী উপজেলার খামার বালুয়া গ্রামের। এক সময় আবদুল হান্নান মন্ডল পুলিশের কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু ধর্ষণের দায়ে কয়েক বছর আগে তিনি তার পুলিশের চাকরি হারান। আবারও তিনি একই অপরাধে আসামি হয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই হান্নান মণ্ডল পলাতক রয়েছে।
জানা গেছে, ঘটনার পর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য স্থানীয় মাতব্বর ধর্ষষের বিষয়টি অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপার দেওয়ার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে ওই গৃহবধূকে জোরপূর্বক সালিশ নামায় স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে ভুক্তভোগির পরিবার। খবর পেয়ে পুলিশ ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে। হান্নান মন্ডল এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ার তার অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলে না।
এ ঘটনায় ওই গৃহবধু নিজেই বাদি হয়ে রবিবার (৯ মার্চ) পলাশবাড়ী থানায় আবদুল হান্নানকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
মামলা সুত্রে জানা গেছে, পলাশবাড়ী উপজেলার কিশামত কেওয়াবাড়ি এলাকার প্রতিবেশি গৃহবধূর বাড়িতে নানা শ্বশুর হিসেবে যাতায়াত করতেন হান্নান মণ্ডল। তিনি নানা প্রলোভন দিয়ে ওই গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ওই গৃহবধূর স্বামী চায়ের দোকানে কাজ করেন। গত ৭ মার্চ ধর্ষণে শিকার ওই গৃহবধূ ইফতার করে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এসময় আসামি আবদুল হান্নান মণ্ডল অর্তকিতভাবে বাড়িতে প্রবেশ করে। কিছু বোঝার আগেই ওই গৃহবধূর মুখ চেপে ধরে জোড়পূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে আসামি মুখ ছেড়ে দিলে চিৎকার করতে থাকে ওই গৃহবধূ। পরে আশপাশের লোকজন আসলে মান্নান পুলিশ পালিয়ে যায়। এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ওই গৃহবধুর স্বামীর ওপর চাপ সৃষ্টি করেন হান্নান মণ্ডল।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন পলাশবাড়ি থানার ওসি জুলফিকার আলী ভুট্টো। তিনি বলেন, এঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। মামলার পর আসামি পলাতক রয়েছে। তবে আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রফিক খন্দকার/মাহফুজ