ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে কুমিল্লার বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে। ঐতিহাসিক নিদর্শন কুমিল্লার শালবন বিহার থেকে শুরু করে, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি- বার্ড, ময়নামতি ওয়্যার সিমেট্রি, নগর উদ্যান, ধর্মসাগরের পাড় হয়ে গোমতী নদীর তীরে গড়ে ওঠা বিনোদনকেন্দ্রগুলো নানা বয়সী শ্রেণি-পেশার মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিনোদনকেন্দ্রগুলোয় জমজমাট অবস্থা বিরাজ করে। ঈদের পঞ্চম দিন গত শুক্রবার কুমিল্লার দেড় ডজন বিনোদনকেন্দ্রের প্রায় সবই ছিল দর্শনার্থীতে ঠাসা। কোথাও কোথাও অবস্থা এমন হয়েছে- যেন তিলধারণেরও ঠাঁই নাই। ঈদের ছুটিতে পরিবার-পরিজনসহ আত্মীয়স্বজনকে সঙ্গে নিয়ে এসব স্থানে আনন্দে মাতেন নানা বয়সী মানুষ।
গত শুক্রবার কুমিল্লার বিনোদনকেন্দ্রগুলো ঘুরে সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থীর ভিড় দেখা গেছে ধর্মসাগরের পাড় এবং গোমতী নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন রিসোর্টে। ঈদের দিন থেকে শুরু করে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ধর্মসাগর পাড়ে তিলধারণের ঠাঁই ছিল না। এ ছাড়া নদীর পানি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় করেন কুমিল্লা নগরীসহ আশপাশ উপজেলার দর্শনার্থীরা।
শিক্ষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পাদপীঠ হিসেবে পরিচিত কুমিল্লা ‘পর্যটন জেলা’ হিসেবেও বেশ খ্যাতি পেয়েছে। নগরীর ধর্মসাগরের পাড়, শালবন বিহার, ময়নামতি জাদুঘর, ম্যাজিক প্যারাডাইস, রূপসাগর, ফান টাউন, ব্লু ওয়াটার পার্ক, গোমতী নদীর পাড় ঘিরে গড়ে ওঠা গোমতী টাচ, গোমতী বিলাস, কফি হাউসসহ বিনোদনকেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখা যায়, মনের আনন্দে নানা পোশাক পরে শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ ঘুরতে এসেছেন। কেউ এসেছেন অটোরিকশায়, কেউ এসেছেন মোটরসাইকেলে, কেউ প্রাইভেট কার, বাস ও মাইক্রোবাসে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যারা সরকারি চাকরি করেন তাদের ক্ষেত্রে ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে ঘোরাফেরা করা একেবারেই সম্ভব হয় না। তাই ঈদের ছুটিগুলোতে বাচ্চাদের নিয়ে যথেষ্ট সময় নিয়ে বেড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়। এ কারণে ঈদ বা বিশেষ দিনগুলোতে তারা ঘোরাঘুরি করেন।
ধর্মসাগর পাড়ে ঘুরতে আসা আমিনুল ইসলাম বলেন, এ বছর তুলনামূলক লম্বা ছুটি পেয়েছি। তাই পরিবারের ছোট-বড় সবাইকে নিয়ে ঘুরতে এলাম। শহরের ভেতরে একমাত্র বিনোদনকেন্দ্র হওয়ায় ধর্মসাগর পাড় ও নগর উদ্যান মানুষের ভিড়ে মুখরিত। ঈদের আনন্দে মানুষের কোলাহল দেখতে ভালো লাগে। তাই সবাইকে নিয়ে বের হয়েছি।
নগরীর কান্দিরপাড় থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গোমতী নদীর তীরে ঘুরতে আসা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান মনির বলেন, শহরের কাছাকাছি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য গোমতী নদীর রিসোর্টগুলো পছন্দনীয় জায়গা। ঈদের সময় বাচ্চাদের ঘুরতে ভালো লাগে। এ জন্য ঘুরতে আসা।
ধর্মসাগর পাড়ে ভেলপুরি ও ফুচকা বিক্রেতা আবদুল হালিম মোল্লা বলেন, এবারের ঈদ উদযাপন করার জন্য মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। সব মানুষের মনে কেমন জানি একটা আনন্দের উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। মানুষের সমাগম বেশি হওয়ায় বিক্রিও বেড়েছে।
কুমিল্লার কোটবাড়ি শালবন বিহারে ঘুরতে আসা স্কুলশিক্ষক আব্দুল হক বলেন, ঈদসহ বিশেষ দিনগুলোতে কুমিল্লার বিনোদনকেন্দ্রগুলো এমনিতেই মানুষের ভিড় থাকে। এবার ঈদের ছুটি দীর্ঘ হওয়ায় মানুষ যেন প্রাণ খুলে ঘুরতে বের হয়েছেন। এর প্রভাব পড়েছে বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবারের ঈদের ছুটিতে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে বিনোদনকেন্দ্রগুলো। শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন। আমরাও ঘুরতে বের হয়েছি পরিবারের সব সদস্যকে নিয়ে।
কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পরিচালক মোদাব্বির হোসেন নাসির বলেন, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে তিন থেকে চার গুণ বেশি মানুষ এখানে ঘুরতে আসছেন। মনের আনন্দে পরিবারের সদস্যরা মিলে এখানে একটু আনন্দঘন সময় কাটান। আমরাও চেষ্টা করেছি যেন দর্শনার্থীদের বিনোদনের সার্বিক চাহিদা মেটানো যায়।
গোমতী নদীর তীরে গড়ে ওঠা গোমতী টাচের পরিচালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঈদের দিন দুপুরের পর থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত (বৃহস্পতিবার বিকেল) দর্শনার্থীদের পদচারণা বাড়ছে। তিনি বলেন, ঈদের দিন ২০ হাজার, ঈদের দ্বিতীয় দিন ২৫ হাজার, তৃতীয় দিন ২৫ হাজার, চতুর্থ দিন ৩০ সহস্রাধিক দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নদীর পানি একসঙ্গে দেখার সুযোগ থাকায় এখানে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষণীয়।