ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. শেখ আবদুস সালামের মৎস্যঘের বেদখলে নিয়েছেন কথিত বিএনপি নেতা কোহিনুর হাওলাদার।
আগস্টের পটপরিবর্তনের পর গত ৫ ফেব্রুয়ারি কথিত ওই বিএনপি নেতা গায়ের জোরে ঘেরটি দখল করে নেন। শিক্ষাবিদ ও নিপাট ভদ্রলোক হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম মৎস্যঘেরটি দখলদারদের কবল থেকে মুক্ত করতে দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও প্রতিকার মিলছে না।
জানা গেছে, বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ঝনঝনিয়া গ্রামের কথিত বিএনপি নেতা কোহিনুর হাওলাদারের নেতৃত্বে তার ৬-৭ জন সহযোগী মৎস্যঘেরটি দখল করে নিয়েছেন। এ ঘটনায় রামপাল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ঘেরের মালিক ড. আবদুস সালামের ছোট ভাই শেখ আবুল কালাম। উল্লেখ্য, কোহিনুর হাওলাদার নিজেকে বিএনপি নেতা হিসেবে এলাকায় পরিচয় দিলেও তার কোনো সাংগঠনিক পরিচয় নেই। তিনি বিএনপি ও দলটির কোনো অঙ্গসংগঠনের সঙ্গেও জড়িত নন।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, অধ্যাপক শেখ আবদুস সালাম ২০০০ সালে রামপাল উপজেলার তালবুনিয়া মৌজায় জনৈক এসএ মালিকের কাছ থেকে ২ দশমিক ৪৯ একর জমি ক্রয় করেন। পরে জমির চারপাশে বেড়িবাঁধ তৈরি করেন এবং পিলার ও তারকাঁটা দিয়ে ঘিরে দেন। ঘের পাহারা দেওয়ার জন্য একটি টিনের ঘরও নির্মাণ করেন। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ড. আবদুস সালাম ঘেরে মাছ চাষ করে আসছেন। ভূমি জরিপে বিএস ১৪৭৬ নম্বর খতিয়ানভুক্ত এই জমি ড. আবদুস সালামের নামে রেকর্ড হয়েছে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি দলবল নিয়ে কোহিনুর হাওলাদার ঘেরটি দখলে নেন। ঘেরের ঘরে থাকা যাবতীয় মালামাল ও মাছ লুট এবং ভাঙচুর করেন। এ সময় শেখ আবুল কালামকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৮ মার্চ দুপুর ১২টায় রামপালের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সার্ভেয়ার ঘের তদন্ত করতে আসেন। তদন্তের পর সহকারী কমিশনার চলে যান। তিনি চলে যাওয়ার পর সার্ভেয়ার ও ড্রাইভারের সামনে কোহিনুর হাওলাদার ও তার লোকজন শেখ আবুল কালামকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং এই বলে হুমকি দেন, ‘তুই যদি কখনো এই ঘেরে আসিস, তাহলে তোকে মেরে হাড়গোড় ভেঙে দেব।’
ঘেরের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা শেখ আবুল কালাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমার বড় ভাই ড. শেখ আবদুস সালাম ২০০০ সালে তালবুনিয়া মৌজায় জমি ক্রয় করে সেখানে মাছ চাষ করে আসছেন। গত ৫ ফেব্রুয়ারি এলাকার কোহিনুর হাওলাদার ও মিজানুর হাওলাদারের নেতৃত্বে আমাদের ঘের দখল করা হয়। এ নিয়ে আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। থানার ওসির কথা তারা মানছে না। তারা কারো কথাই শুনছে না।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রামপালের কয়েকজন খবরের কাগজকে বলেন, ‘গত ৫ আগস্টের পর কথিত নেতা কোহিনুরের নেতৃত্বে এলাকায় ব্যাপক দখল, হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। আমরা ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছি না।’
অভিযোগের বিষয়ে কোহিনুর হাওলাদার খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এই ঘেরে আমাদের পৈতৃক তিন বিঘা জমি রয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে আমাদের এই জমি তারা জোর করে ভোগ দখল করে আসছেন। পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পেতে আমরা এই ঘের দখলে নিয়েছি।’
রামপাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম রেজা খবরের কাগজকে বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে এসিল্যান্ড যাবেন। জমি মাপের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মাহফুজ/