চলতি বছরও বাংলাদেশে তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ইতোমধ্যে বগুড়াসহ উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের অনেক জেলার খাল-বিল, জলাধার শুকিয়ে গেছে। ফলে কৃষি ও জীববৈচিত্র্যে বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
ৱআবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা মৃদু, ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি মাঝারি এবং ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রিকে তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি ছাড়ালেই তা অতিতীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়।
এ বছর রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনার ঈশ্বরদী, নাটোর, যশোর, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবহাওয়ার তথ্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে এসব অঞ্চলে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। আগামী কয়েক দিনে বগুড়াসহ আরও কিছু জেলায় তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন জানান, গত রবিবার ঈশ্বরদীতে ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। কয়েক দিন আগেও সেখানে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রিতে পৌঁছেছিল।
এ ধরনের উচ্চতাপমাত্রা বর্ষাকালের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানান আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ। তিনি বলেন, ‘আগে দেখা যেত বর্ষা শুরু হলে তাপমাত্রা কমে যেত। এখন বর্ষাকালে কখনো অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়, কখনো বা একদমই হয় না। এর কারণে তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এখন প্রতি ১০ বছরে বর্ষায় গড়ে শূন্য দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ছে। রাজশাহী ও সিলেট বিভাগে তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি বাড়ছে। সবচেয়ে কম রংপুর বিভাগে, গত বাড়ছে ১০ বছরে শূন্য দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে।’
১৯৮০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময়ের আবহাওয়ার ধারা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শীত, প্রাক-বর্ষা, বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে তাপপ্রবাহ, শৈত্যপ্রবাহ, অতিবৃষ্টি ও বর্ষার সময়কালেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। একটি গবেষণায় প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বগুড়ায় মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি তাপপ্রবাহ থাকে। একই অবস্থা ঈশ্বরদী, যশোর, ফরিদপুর, মোংলা, সাতক্ষীরা, দিনাজপুরসহ আরও কয়েকটি জেলা ও উপজেলায়।
স্থানীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বরের পর থেকে চলতি বছরের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের বেশির ভাগ জেলাতেই উল্লেখ করার মতো বৃষ্টিপাত হয়নি। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় বৃষ্টিপাতের সঙ্গে ঝড়েরও শঙ্কা রয়েছে।
বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার কৃষক মো. খোরশেদ আলম বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও দাড়িগাছা সোহাগী গ্রামে খালের পানি ব্যবহার করে ধান ও অন্য ফসল আবাদ করতাম। কিন্তু এখন খাল শুকিয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে সেচ দিতে হচ্ছে।’