ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়ায় ছেলের বিরুদ্ধে হাঁস ও কবুতর চুরির অভিযোগ তুলে তার মাকে নাকে খত দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলুর নেতৃত্বে এক সালিশি বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ইউনিয়নের মধ্যম মাথিয়ারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গতকাল রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দুই নারীকে নাকে খত দেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।
ভুক্তভোগী সাজেদা বেগম সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম মাথিয়ারা গ্রামের মহিন উদ্দিনের স্ত্রী। অন্যজন একই এলাকার বাসিন্দা জোহরা বেগম।
১ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, আশপাশে অনেক মানুষ জড়ো হয়ে আছেন। মাঝখানে সাজেদা বেগম ও জোহরা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ছেলের অপরাধে দুজন মায়ের সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়। তারা অস্বীকার করলেও একপর্যায়ে পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলু হাতে লাঠি নিয়ে অশ্রাব্য বাক্য উচ্চারণ করে দুজনকে নাকে খত দেওয়ান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধ্যম মাথিয়ারা গ্রামের জাহাঙ্গীর সরকারের বাড়ি থেকে কয়েক মাস আগে কবুতর চুরির ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ সপ্তাহখানেক আগে আবারও তার বাড়ি থেকে হাঁস চুরি হয়। এ ঘটনায় রাকিব ও বিজয় নামে দুই যুবককে সন্দেহ করেন তারা। পরে গত বৃহস্পতিবার রাতে মধ্যম মাথিয়ারা এলাকায় খালুর দোকান সংলগ্ন স্থানে সালিশি বৈঠক করা হয়। এতে রাকিবের গলায় ‘আমি চোর’-সংবলিত প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে তার মাকে নাকে খত দেওয়া হয়। সালিশে অভিযুক্ত আরেক যুবক বিজয় উপস্থিত না থাকায় তার মাকেও একইভাবে নাকে খত দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত রাকিবের ভাই সোহেল বলেন, ‘আমরা অনেক বছর আগে লক্ষ্মীপুর থেকে এসে মাথিয়ারা এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছি। তারা আমার ভাইকে মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। তাতেও ক্ষান্ত না হয়ে পরিকল্পনা করে সালিশি বৈঠকে আমার মাকে লাঞ্ছিত ও মারধর করেছে। এতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দেলুর নেতৃত্বে যুবদল নেতা ইব্রাহিম খলিল, ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন সোহাগ, আবদুল জলিল, বেণু, শহিদ, গিয়াসউদ্দিনসহ অনেকে মুখ্য ভূমিকা রাখেন।’
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা নাসরীন কান্তা বলেন, ‘নারীকে এভাবে হেনস্তা করার অধিকার কারও নেই। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দেলু বলেন, এ ঘটনায় কোনো ভুল হয়ে থাকলে তা ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করছি। আমাদের আচরণে বা সিদ্ধান্তে ভুল থাকতে পারে। সামনে নির্বাচন, প্রতিদ্বন্দ্বী কেউ কেউ ঘটনাটি ভিন্নভাবে প্রচার করছে।’
ফেনীর পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ইতোমধ্যে ভিডিওটি নজরে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। ভুক্তভোগী চাইলে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন।’