ঠাকুরগাঁওয়ে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ছে গবাদিপশুর ভাইরাসজনিত লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি)। জেলার বিভিন্ন উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে এখন পর্যন্ত সরকারি হিসাবে প্রায় সাড়ে চার হাজার গরু এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং ৭৫টির মতো গরুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
তবে স্থানীয়রা বলছেন, প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। কারণ প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা অনেক সময় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে যান না, নিজে নিজে চিকিৎসা করেন বা গরু মারা গেলেও সেটা আর রিপোর্ট হয় না। ফলে অনেক ঘটনা পরিসংখ্যানে ধরা পড়ে না।
লাম্পি ভাইরাসে আক্রান্ত গরুর শরীরে বড় বড় গুটি, ক্ষত, জ্বর, চোখ ও নাক দিয়ে পানি পড়া, দুর্বলতা ও খাওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। গরুর দুধের উৎপাদন কমে যাওয়া, গর্ভপাত এবং মৃত্যু হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক ও খামারিরা।
জেলার হরিপুর উপজেলার মিদনী সাগর গ্রামের কৃষক আব্দুল আল মামুন বলেন, ‘লাম্পি ভাইরাসে আমার তিনটি গরু আক্রান্ত হয়েছে, একটি গরু মারা গেছে। একই গ্রামের আরও কয়েকজন কৃষকের গরুও আক্রান্ত হয়েছে।’
বালিয়াডাঙ্গীর বড় পলাশবাড়ী ইউনিয়নের আব্দুস সবুর বলেন, ‘এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরে প্রথমে গরুর জ্বর হয়, পরে গুটির মতো হয়ে যায়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করালেও কাজ হয়নি, পরে প্রাণিসম্পদ অফিসে গিয়েও চিকিৎসা পাইনি।’
খামারি খোরশেদ আলম বলেন, ‘আমার খামারে ১০টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে তিনটিতে গুটি উঠেছে। স্থানীয় ওষুধে কাজ না হওয়ায় এখন উপজেলা ভেটেরিনারি অফিসে চিকিৎসা করাচ্ছি।’
জেলায় প্রায় ৫০০টি খামারে ১০ লাখ ৪১ হাজার গরু রয়েছে, যা কৃষি পরিবারগুলোর জীবিকার প্রধান উৎস। এ অবস্থায় জরুরি টিকা সরবরাহ, ওয়ার্ড পর্যায়ে মনিটরিং, ফিল্ড টিম গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সহায়তা প্যাকেজ চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত কর্মকর্তা ডা. মো. রেজয়ানুর হক বলেন, ‘লাম্পি স্কিন রোগের টিকা এখনো বাজারে আসেনি। তবে দ্রুত টিকা পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। আক্রান্ত গরু আলাদা রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশারির ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’