ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্যারাগুয়ে ম্যাচের আগে অস্ট্রেলিয়া শিবিরে পরিবর্তনের আভাস ফ্রান্সে দাবদাহে ৬৮ হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন ৪৬ বছর বয়সে ফুটবল পায়ে ফিরছেন রোনালদিনহো নারীর জীবনে ইমপোস্টার সিন্ড্রোমের প্রভাব ‘না’ বলার শক্তি: সীমা নির্ধারণেই মানসিক স্বাধীনতার শুরু শিক্ষামন্ত্রীর গ্রামের সড়ক সংস্কার কাজ ঝুলে আছে, ভোগান্তিতে পথচারীরা রৌমারী সীমান্তে পুশইনের পর ২ জন নিখোঁজ, জানে না বিজিবি ফেনীতে গাছের সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কা, প্রাণ গেল কিশোরের মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ হোক দালিয়ান থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুরে বিজিবির হাতে পুশব্যাক করা ৪ বাংলাদেশি বাগাতিপাড়ায় বাবা-মায়ের সামনেই রিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেল সন্তানের জয় পেলেও শিষ্যদের উন্নতির তাগিদ ক্রোয়াট কোচের চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউ মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড শরীয়তপুরে চাঁদাবাজি ও লুটপাটের মামলায় ছেলেসহ কারাগারে বিএনপি নেতা ব্যবস্থাপনার ধারণা অধ্যায়ের ১৮টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র সীতাকুণ্ডে চিরকুট লিখে মসজিদের ইমামের আত্মহত্যা চাকরি দেবে অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার, সপ্তাহে ২ দিন ছুটি স্কুল-কলেজের অর্ধ-বার্ষিক ও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষার নতুন সময়সূচি ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে চীনের দখলে বিশ্বের দ্রুততম সুপারকম্পিউটার সমর্থকদের আস্থা রাখতে বললেন ইংল্যান্ড কোচ নরসিংদীতে মৃত ভেবে গুমের চেষ্টা, মাইক্রোবাসচালক আটক ২০২৮ সাল থেকে শিক্ষা কারিকুলাম পরিবর্তন করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ১ মণ পেঁয়াজের দামে মিলছে না ১ কেজি গরুর মাংস নৌবাহিনীকে পরমাণু অস্ত্রে সাজাচ্ছেন কিম, আসছে দানবীয় যুদ্ধজাহাজ চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন ট্রাম্প তাত্ত্বিক গবেষক অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হক পপ গানে নিউ অরলিন্সের জ্যাজ ফিউশন, ‘ক্লাউডসেভ’ এর বাজিমাত আখতার-উল-আলম: সাংবাদিকতা, সাহিত্য ও জাতীয় চেতনার অগ্রসেনানী

স্কুল ফেলে বাবার পেশায়, মন বসছে না জয় রবিদাসের

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:৪৮ এএম
আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:১৭ এএম
স্কুল ফেলে বাবার পেশায়, মন বসছে না জয় রবিদাসের
বাবার আসনে জুতা সেলায়ের কাজ করছেন জয় রবিদাস। ছবি: খবরের কাগজ

রংপুরের তারাগঞ্জের থানা রোডের কসমেটিকসের দোকানের সামনেই তপ্ত রোদে জুতা সেলাইয়ের কাজ করছে জয় রবিদাস। এখানেই পাঁচ বছর জুতা সেলাইয়ের কাজ করতেন মব কিলিংয়ের শিকার জয়ের বাবা রূপলাল দাস। গত ৯ আগস্ট ওই উপজেলার বুড়িরহাট এলাকায় মব সৃষ্টি করে বিনা দোষে হত্যা করা হয় রূপলাল দাসকে। জয় রবিদাসের এখন স্কুলে থাকার কথা থাকলেও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বোনের বিয়ে, ভাইয়ের পড়াশুনাসহ পরিবারের খরচ সামলাতে তাকে এখন বসতে হয়েছে বাবার আসনে।

জয় রবিদাস তারাগঞ্জ ও/এ মডেল উচ্চ বিদ্যালয় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। শিক্ষাজীবনে সহপাঠী ও শিক্ষকদের কাছে ভালো ছাত্র হিসেবে পরিচিত সে। হঠাৎ বাবা না থাকায় বিপাকে পড়েছে জয়। সংসারের চাপে বাবার পেশাকে বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে সে। বাবার স্মৃতি বারবার মনে পড়ায় জুতা সেলাইয়ের কাজে বসলেও মন বসাতে পারছে না সে।

রবিবার (৩১ আগস্ট) তারাগঞ্জ বাজারে গিয়ে কথা হয় জয়ের সঙ্গে। জয় বলে, ‘তারাগঞ্জের  বুড়িরহাটে মব সৃষ্টি করে আমার বাবাকে বিনা দোষে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভাবের তাড়নায় আমি কাজ করা শুরু করছি। পড়াশোনা বাদ দিয়ে এখন কাজ করছি। আমার বোনের বিয়ে দিতে হবে, তাই টাকা উপার্জন করতে হচ্ছে। আগে আমার বাবা একাই কাজ করত, ছয়জনে খাইতাম তাই, আগে থেকেই রডের কাজ করে পড়াশোনা করি।’

বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জয় রবিদাস বলেন, ‘এখন কাজে মন বসছে না। এই দোকানে বসেই আমার বাবা কাজ করত যখন মনে পড়ে, তখন মন ঠিক থাকে না। আমার বাবা এদিক দিয়ে ঘোরাঘুরি করতো অনেক কিছুই মনে পড়ে। যার জন্য কাজে মন বসাতে পারছি না।’

জয় আরও বলেন, ‘এই কাজে তেমন আয় নাই। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জুতা সেলাই করি। আয় হয় ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। বর্ষাকাল হাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে কাজ করায় মাঝে কাজ বন্ধ রাখতে হয়। ফলে আয়ের সুযোগ কম। তারপরেও সংসার বাঁচাতে এই কাজ করতেই হবে। আমার বাবার হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’

ওই মার্কেটের কসমেটিকের দোকানি মহিমা রঞ্জন বলেন, ‘রূপলাল খুব ভালো মানুষ ছিল। প্রতিদিন আমার দোকান খুলি দেয়। নির্দোষ ছেলেটাক মারি ফেলাইলো। ওইদিন বিকেলে কাজ বন্ধ করি চলে গেছে। পরদিন বিয়া হওয়ার কথা। রাইতোতে এই ঘটনা।’

ওই স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবিদ হাসান বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমাদের এক বন্ধু জয়ের বাবা মারা গেছেন। ফলে আমার বন্ধু চাপে পড়ে গেছে। তার বাবা মুচির কাজ করত। যেহেতু বাবা নাই, সংসার চালাতে এখন পড়াশোনা বাদ দিয়ে মুচির কাজ বেছে নিয়েছে সে। আমরা চাই, আমাদের বন্ধু আবার স্কুল আসুক। ও খুব ভালো ছাত্র। তাই ওর জন্য সরকারি-বেসরকারি সাহায্য কামনা করছি।’

জয়ের বন্ধু মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘জয়ের বিষয়ে অনেকদিন ধরে শুনছি। ওর বাবা থাকতে বোনের বিয়ের খরচ যোগাতে স্কুলের পাশাপাশি রাজমিস্ত্রির কাজ করত।’ 

তারাগঞ্জ ও/এ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক মো মুছা সরকার বলেন, ‘জয়ের বাবা মবের হাতে নিহত হয়েছেন। তার আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। তার ভাই বোন আছে, তাই সে তার বাবার পেশা বেছে নিয়েছে। আমি চাই সে আমাদের স্কুলে ফিরে আসুক, পড়াশোনা করুক। এজন্য সরকারি-বেসরকারি সংস্থা এবং প্রশাসনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’

নিহত রূপলালের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্ত্রী মালতী রবিদাস বিলাপ করছেন। তিনি বলেন, ‘সুখের মুখত আসি ভগবান সুখ কাড়ি নিবে স্বপ্নেও ভাবো নাই। ছাওয়া জুতা সেলাই করি ১৫০/১০০ টাকা পায় তাতে সংসারে চলে না। জয়ের বাবা নিহতের পর ছেলে এখন দোকানে যাচ্ছে। পেট না বাসলে পড়াশোনা হবে না। আমার ইচ্ছা ছেলে-মেয়েকে ঠিকভাবে পড়াশোনা করাবো। যাতে করে নিজের পায়ে নিজেরাই দাঁড়াতে পারে। বাবা না থাকায় ও দোকানে গেছে। আয় দিয়ে যে সংসার চলবে সেটা সম্ভাবনা নাই। সেলাইয়ের কাজ ছাড়া আর কিছুই জানে না। মেয়ের বিয়ে, সংসার চালানো, সব মিলিয়ে বিপদে পড়ে গেছি।’

রূপলালের মেয়ে নুপুর রবিদাস বলেন, ‘আমার ছোট ভাই বাধ্য হয়ে জুতা সেলাই করতে যাচ্ছে। তার রোজগার দিয়ে সংসার চালানো কষ্ট হয়ে যায়। আমার বিয়ে, ওদের সংসার চালানোতে ওর পড়াশোনা সম্ভব নয়। আপাতত আমাদের বাড়িতে সমস্যা তাই ও দোকানে গেছিল। ও আসলে সব কাজ পারে না। সবাই যদি আমাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করে এবং আমাদের দায়িত্ব নেয় তাহলে ও ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারবে, সংসারও চলবে।

রূপলালের মা লাছিয়া রানী রবিদাস বলেন, ‘আমার বুকের ধন চলি গেইছে, সংসারত কেউ নাই, খাই কি। বাধ্য হয়ে নাতি দোকানে গেইছে। মানুষ যখন বাপের কথা আসি কয়, এটা নিয়ে নাতির কষ্ট হয়। ওইটুকু কাজ না করলে, না খায়া মারা যাইবে।’

এর আগে গত ৯ আগস্ট রাতে অজ্ঞানপার্টি সন্দেহে উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলী এলাকায় ভ্যানসহ দুইজনকে আটকের পরে তাদের কাছ থেকে পাওয়া চোলাই মদ ও বিভিন্ন ওষুধ পান স্থানীয়রা। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ সেখানে উপস্থিত হন। এক পর্যায়ে গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হন তারা। পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে তারাগঞ্জ হাসপাতালে নেয়। সেখানে  আহত রূপলাল রবিদাসকে (৪০) মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে মারা যান প্রদীপ লাল (৪৫)।

এ ঘটনায় রূপলালের স্ত্রী মালতি রানী ওরফে ভারতী রানী অজ্ঞাত ৫০০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ‍পুলিশ। এরই মধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করার কথা বলেছে পুলিশ।

তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল রানা বলেন, ‘আমরা উনাদেরকে ডেকেছি। এর আগে এক লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। ডিসি স্যারের নির্দেশনা আছে, তাদের কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায় কিনা। আমাদের চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।

সেলিম সরকার/সুমন/

শিক্ষামন্ত্রীর গ্রামের সড়ক সংস্কার কাজ ঝুলে আছে, ভোগান্তিতে পথচারীরা

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম
শিক্ষামন্ত্রীর গ্রামের সড়ক সংস্কার কাজ ঝুলে আছে, ভোগান্তিতে পথচারীরা
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার গোহট দক্ষিণ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বাড়ির সামনের ৩.৪ কিলোমিটার এলজিইডির গ্রামীণ সড়ক সংস্কার কাজ শুরু করে বন্ধ রেখেছে ঠিকাদার। 

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে এক মাস অতিবাহিত হলেও কাজ শেষ করার কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও পানি জমে থাকায় চলমান বর্ষা মৌসুমে স্থানীয়দের দুর্ভোগ বেড়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী বলছেন, ঠিকাদারকে দিয়ে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। তা সম্ভব না হলে চুক্তি বাতিল করে অন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হবে।

উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ জানায়, ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর ঠিকাদার মাছুম বিল্লাহকে কাজ শুরুর জন্য কার্যাদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী গত ১১ মে সংস্কার কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে উপজেলা প্রকৌশলী কয়েকবার তাগিদ দিলেও তিনি কাজ শেষ করতে পারেননি। শিক্ষামন্ত্রীর বাড়ির সামনে থেকে রহিমানগর-কৈটবা-আমুজান সড়কের রহিমানগর বাজার অংশ পর্যন্ত ৩.৪ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কটি সংস্কারের জন্য দুই পাশে ইট দিয়ে এজিং করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ইট ভেঙে রাখা হলেও কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। সড়কটির শুরু থেকে রহিমানগর পর্যন্ত বেশ কয়েকটি স্থানে গর্ত ও পানি জমে আছে। ফলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ পথচারীদের প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এটি উপজেলা সদরে যাওয়ার প্রধান সড়ক হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বিকল্প সড়ক ব্যবহার করলে প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হয়।

গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু রায়হান ও মিসবাহ উদ্দিন বলেন, ‘কয়েক মাস আগে সড়কের এজিং করা হলেও এরপর আর কোনো কাজ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার হয়নি। বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দারা বর্তমানে কেশরকোট গ্রামের সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করছেন। মন্ত্রীর বাড়ির সামনের এই সড়ক বহু বছর ধরে সংস্কার হয়নি। এখনো কাজ বন্ধ থাকায় এলাকাবাসীকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করতে হচ্ছে।’

সড়কের সংস্কার কাজ বন্ধ রাখার কারণ জানতে ঠিকাদার মাছুম বিল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কাজের মেয়াদ শেষ হলেও তিনি কাজটি সম্পন্ন করবেন। অর্থসংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।’

এ সময় তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছর কোথায় ছিলেন? আপনি কি প্রধান প্রকৌশলী? কাজ সম্পর্কে এত প্রশ্ন করেন কেন?’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কচুয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. আলমগীর লিটনের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে তার দপ্তরে গেলে তিনি জানান, ঠিকাদারকে দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ঠিকাদার শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন কাজও করেন। সেখান থেকে বিল পেলে তিনি এ কাজ পুনরায় শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘সড়কটির সংস্কার কাজ শেষ না হওয়ায় শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকেও চাপ রয়েছে। ঠিকাদারকে বারবার অনুরোধ করার পরও কাজ শেষ হয়নি। দ্রুত কাজ সম্পন্ন না হলে বিধি অনুযায়ী বিকল্প ঠিকাদারের মাধ্যমে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা হবে।’

ফয়েজ/রিফাত/

রৌমারী সীমান্তে পুশইনের পর ২ জন নিখোঁজ, জানে না বিজিবি

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০১:২৫ পিএম
রৌমারী সীমান্তে পুশইনের পর ২ জন নিখোঁজ, জানে না বিজিবি
ছবি: খবরের কাগজ

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে বিএসএফের পুশইন করা বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে আরও দুইজনের খোঁজ মিলছে না। প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে দুই যুবক রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। বিজিবি বলছে, ওই দুই যুবক কোথায় গেছেন, সে বিষয়ে তারা কিছু জানে না। নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সীমান্তে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে, একই উপজেলার ভুন্দুরচর সীমান্তে এখনও খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন পুশইনের শিকার আরও তিন যুবক।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুর ১টার দিকে রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তে অবস্থানরত দুই ব্যক্তি ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাত স্থানে চলে যান। পরে বিজিবি খোঁজাখুঁজি চালালেও তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

নিখোঁজ দুই ব্যক্তি হলেন- ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার কংশেরকুল এলাকার লিটন মিয়ার ছেলে মো. সজিব হোসেন (২৫) এবং একই গ্রামের মৃত শামসুল হকের ছেলে মো. হিমেল মিয়া (১৮)।

এদিকে, রৌমারী সদর ইউনিয়নের ভুন্দুরচর সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক পুশইন করা আরও তিন যুবক অবস্থান করছেন।

তারা হলেন- সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার কাউকান্দি গ্রামের জহিরুল ইসলাম (২৬), নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার সাওতা গ্রামের পারভেজ (২১) এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার কাউছিয়া গ্রামের নাঈম মিয়া (২২)।

এর আগে গত ১৪ জুন ভোরে রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ইজলামারী সীমান্তে পৃথক দুটি ঘটনায় বিএসএফ নয়জন বাংলাদেশি নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে।

এর মধ্যে শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬০ নম্বর মেইন পিলারের ১ নম্বর সাব-পিলার এলাকা দিয়ে ভারতের ঝালুরচর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা এক নারী, তিন পুরুষ ও দুই শিশুসহ ছয়জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয়দের বাধা এবং বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে তাদের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে হয়।

গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই ছয়জনের মধ্যে একই পরিবারের চার সদস্য- ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বেরুনিয়া ইউনিয়নের কংশেরকুল গ্রামের বিল্লাল হোসেন, তার স্ত্রী সুমি আক্তার, পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে ফাতেমা এবং পাঁচ মাস বয়সী শিশু ফাহিমকে মানবিক বিবেচনায় তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বাকি ছিলেন সজিব ও হিমেল। তবে মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে তাদের আর ওই স্থানে দেখা যায়নি।

অপরদিকে, শৌলমারী ইউনিয়নের ভুন্দুরচর সীমান্তে অবস্থানরত জহিরুল, পারভেজ ও নাঈমের বিষয়ে জানা গেছে, তারা গত ১০ জুন সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত দিয়ে সুলতান নামের এক দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। পরে ভারতের গৌহাটিতে ট্রেনে ভ্রমণকালে তারা ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন। পরবর্তীতে ভারতীয় পুলিশ তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করলে ১৮৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মাইনকারচর ক্যাম্পের সদস্যরা গত ১৪ জুন ভোরে জিনজিরা নদীর সেতুর নিচ দিয়ে তাদের পুশইনের চেষ্টা করে। বর্তমানে তারা আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ১০৬৬/৭-এস সংলগ্ন এলাকায় খোলা মাঠে অবস্থান করছেন।

এ বিষয়ে গয়টাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার সকাল থেকে সীমান্তে অবস্থানরত ওই দুই ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে না। তবে তারা কোথায় গেছেন, সে বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।’

সিরাজ/রিফাত/

ফেনীতে গাছের সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কা, প্রাণ গেল কিশোরের

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০১:২৩ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ০১:২৭ পিএম
ফেনীতে গাছের সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কা, প্রাণ গেল কিশোরের
ছবি: খবরের কাগজ

ফেনীতে দ্রুতগতির একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মো. আহসানুল ইসলাম (১৫) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মো. সুমন (৪৫) নামে এক ভ্যানচালক আহত হয়েছেন।

বুধবার (২৪ জুন) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোহাম্মদ আলী বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

নিহত আহসানুল ইসলাম চট্টগ্রামের ভূজপুরের সিকদার খিল গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। সে ওই ট্রাকের হেলপার ছিল। আহত সুমন ফেনী সদর উপজেলার মধুয়াই এলাকার মো. মোস্তফার ছেলে।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ট্রাকটি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। পথে মোহাম্মদ আলী এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এ সময় একটি ভ্যানেও চাপা দেয় ট্রাকটি। স্থানীয়রা ট্রাকের হেলপার আহসানুল ইসলাম ও ভ্যানচালক সুমনকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আহসানকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর ট্রাকের চালক পালিয়ে যান।

এ বিষয়ে মহিপাল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, মরদেহ ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে হস্তান্তর করা হবে। ট্রাকটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

তোফায়েল নিলয়/তামান্না রুপা/

দিনাজপুরে বিজিবির হাতে পুশব্যাক করা ৪ বাংলাদেশি

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ০১:২৪ পিএম
দিনাজপুরে বিজিবির হাতে পুশব্যাক করা ৪ বাংলাদেশি
ছবি:খবরের কাগজ

দিনাজপুর সদর উপজেলার শংকরপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশব্যাক করানো চারজন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও আনসার সদস্যরা তাদের আটক করার পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করেছেন।

বুধবার (২৪ জুন) ভোর ৬টার দিকে সদর উপজেলার বোনতারা-গিলাবাড়ী এলাকার আত্রাই নদী সংলগ্ন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় তাদের আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শংকরপুর ইউনিয়নের সালকি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় আনসার সদস্য আব্দুস সালাম ও জহুরুল ইসলামসহ স্থানীয়রা চারজনকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তাদের ভাষা, আচরণ ও পরিচয় সংক্রান্ত তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি দেখা গেলে সন্দেহ আরও বাড়ে। পরে বিষয়টি বিজিবিকে জানানো হলে সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের হেফাজতে নেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দিনাজপুর সেক্টরের অধীন ফুলবাড়ীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুজ্জামান আরিফ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা নিজেদের যশোর জেলার বাসিন্দা বলে দাবি করেছেন। তারা কয়েকদিন আগে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ভারতে অবস্থানের পর বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে দেশে ফেরার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তারা। একপর্যায়ে আত্রাই নদীপথ ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করলে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশ অভিমুখে পুশব্যাক করে।

বিজিবির অধিনায়ক জানান, আটকদের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি পাওয়া গেছে। তবে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া যায়নি। তারা প্রকৃতপক্ষে যশোর জেলার বাসিন্দা কিনা, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের আরও ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সুলতান মাহমুদ/খাদিজা রুমি/

বাগাতিপাড়ায় বাবা-মায়ের সামনেই রিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেল সন্তানের

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
বাগাতিপাড়ায় বাবা-মায়ের সামনেই রিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেল সন্তানের
ছবি: সংগৃহীত

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে বাবার হাত ছেড়ে মায়ের দিকে ছুটতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরের দিকে শিশুটির দাফন হয়। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বাগাতিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহত শিশুটির নাম আয়েশা (৭)। শিশুটি ওই গ্রামের আব্দুল আলীমের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি স্কুলে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

শিশুটির বাবা ও স্বজনরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে ক্লাস শেষে বাবার সঙ্গে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে বাড়ির দিকে রওনা হয় ওই শিশু। বাড়ির সামনে গাড়ি থামলে বাবা তাকে গাড়ি থেকে রাস্তার পাশে নামান। শিশুটিকে দাঁড়াতে বলে বাবা গাড়ি ভাড়া দিতে পকেট থেকে টাকা বের করছিলেন। ওই সময় শিশুটি মায়ের কাছে ফিরতে একাই দৌঁড়ে রাস্তা পার হতে গেলে একটি দ্রুতগতির ব্যাটারিচালিত রিকশার ধাক্কায় জখম হয়। পরে বাবা ও স্বজনরা শিশুটিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করালে সন্ধ্যায় মৃত্যু হয়।

বাগাতিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান খবরের কাগজকে বলেন, এ ঘটনায় থানায় ইউডি মামলা হয়েছে।

কামাল মৃধা/থিওটোনিয়াস