ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রাজশাহী বিভাগীয় উন্নয়ন সমন্বয় সভা: প্রকল্প বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে আইএমইডি পৃথিবীর গঠন অধ্যায়ের ১৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র বাংলাদেশে জ্যাক মোটরস-এর একমাত্র ডিস্ট্রিবিউটর র‍্যানকন গ্লোবাল ট্রাকস মানুষ স্বপ্ন দেখে কেন? বিজ্ঞান যা বলছে সারা দেশে হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু বজ্রপাত থেকে বাঁচাতে দৃষ্টান্তমূলক কার্যক্রম নাতির প্রতি নানার অনন্য ভালোবাসা, যুবরাজের মর্যাদায় বাড়ি ফেরা মুখ আড়াল করার নতুন বিতর্ক ও ফিফার নিয়ম বাজারে আসছে ভালভের নতুন স্টিম মেশিন বিদ্যুৎ-বিভ্রাট, পেমেন্ট ও প্রিপেইড মিটার সমস্যা রাজবাড়ীতে ১ লাখ ৫৪ হাজার শিশু পাবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বাজেট বড় কিন্তু উদ্বেগ কমেনি সাজগোজের অনন্য যাত্রা দেশজুড়ে ওয়ালটন প্লাজায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও সার্বক্ষণিক হটলাইন বেইজিং পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী আমাদের নিজেদের উজার করে দিতে হবে: হাইতি কোচ প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর এবং আমাদের প্রত্যাশা ইউনিলিভার বাংলাদেশের উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত জয়পুরহাটে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন চট্টগ্রামে সড়কে মাছ ফেলে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ ইন্টারভিউয়ে যে বিষয়গুলো এড়িয়ে চলবেন ঘর সাজুক মনের মতো আগে প্লাস্টিকের মতো বাজেট বাড়ানো হতো: শিল্পমন্ত্রী রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য অস্ট্রেলিয়া-ইউনিসেফের চুক্তি পড়ে পাওয়া গল্পের ৭টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা চট্টগ্রামে গ্রেপ্তারের এক দিন পর যুবলীগ নেতার মৃত্যু মরক্কোর লক্ষ্য গ্রুপ সেরা হওয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বন্ধুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের দলিল: আলী বাঘেরি গোপালগঞ্জে মাদক, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ

পঞ্চগড়ে মাতৃত্বকালীন ভাতা বেহাত ৬০২ অন্তঃসত্ত্বার

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:১৪ পিএম
পঞ্চগড়ে মাতৃত্বকালীন ভাতা বেহাত ৬০২ অন্তঃসত্ত্বার
মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি

পঞ্চগড়ে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় অন্তঃসত্ত্বা দরিদ্র নারীদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল মা ও শিশুর পুষ্টি ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা। কিন্তু এক বছর ধরে এ কর্মসূচির আওতায় তালিকাভুক্ত ৬০২ অন্তঃসত্ত্বা এক টাকাও পাননি। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একটি প্রতারক চক্র মোবাইল ব্যাংকিং পদ্ধতির অপব্যবহার করে এই টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনায় হতাশা ও ক্ষোভে ফুঁসছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার ৫৭৭ জন, বোদা উপজেলার ২২ জন এবং দেবীগঞ্জ উপজেলার ৩ অন্তঃসত্ত্বা প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে জেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি মাসে একজন অন্তঃসত্ত্বার ৮০০ টাকা ভাতা পাওয়ার কথা। কিন্তু দীর্ঘ এক বছর ধরে ওই নারীরা টাকা পাননি। অনেকে একবার ভাতা পেলেও পরে আর পাননি। অথচ সরকারি নথিপত্রে দেখা গেছে, তাদের নামেই টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

চতুরতার সঙ্গে প্রতারণাকরা হয়েছে। ভাতাভোগীদের মোবাইল নম্বর বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে হস্তক্ষেপ করে চক্রটি বিকাশ/নগদ/রকেটের মাধ্যমে টাকা তুলে নিয়েছে। এতে করে ভুক্তভোগীরা কিছু না জেনেই বঞ্চিত হচ্ছেন তাদের প্রাপ্য অর্থ থেকে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের সর্দারপাড়া এলাকার ফাতেমা বানু বলেন, ‘কার্ড হওয়ার পর একবার টাকা পেয়েছিলাম, এরপর আর পাইনি। পরে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরে গিয়ে জানতে পারি, আমার নামে অন্য কেউ মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা তুলেছে। আমরা তো গরিব মানুষ, এই টাকাটা অনেক বড় সহায়তা ছিল। এখন চাই দোষীরা যেন শাস্তি পায়।’

একই অভিযোগ করেন শিউলি আক্তার নামে আরেক ভুক্তভোগী। তিনি বলেন, ‘আমরা ভাতার টাকা পাচ্ছি না। কারা যেন আমাদের নাম ব্যবহার করে টাকা তুলেছে। সরকার যেন আমাদের টাকা ফিরিয়ে দেয় এবং দোষীদের শাস্তি দেয়, এটাই আমাদের দাবি।’

সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইয়েদ নূর-ই-আলম বলেন, ‘যাদের ভাতা পাওয়ার কথা, তারা অভিযোগ করছেন, টাকা পাচ্ছেন না। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলেছি। কমবেশি প্রতিটি ইউনিয়নে এমন সমস্যা দেখা দিয়েছে।’

জেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ঢাকা অফিস থেকেও এ নিয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের তালিকা তৈরি করে তাদের মোবাইল নম্বর ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংশোধনের কাজ শুরু করেছি। আশা করছি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন না হয়, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রাজশাহী বিভাগীয় উন্নয়ন সমন্বয় সভা: প্রকল্প বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে আইএমইডি

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
রাজশাহী বিভাগীয় উন্নয়ন সমন্বয় সভা: প্রকল্প বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে আইএমইডি
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিভাগের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সময়ানুগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।

বুধবার (২৪ জুন) সকালে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে জুম প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় এসব নির্দেশনা তুলে ধরা হয়।

সভায় আইএমইডির প্রতিনিধি বলেন, সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের শিথিলতা গ্রহণযোগ্য হবে না। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে ইলেকট্রনিক প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ই-পিএমআইএস)-এ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী একটি বিশেষ ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবেন।

তিনি বলেন, কোনো মন্ত্রণালয়ের চলমান প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি সন্তোষজনক না হলে নতুন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেওয়া হতে পারে। যেসব প্রকল্পের অগ্রগতি ৩০ শতাংশের নিচে রয়েছে, সেগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে।

এছাড়া নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়া প্রকল্পগুলোর বিলম্বের কারণ ও সম্ভাব্য অনিয়ম চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিলম্বের জন্য দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়।

সভায় আরও বলা হয়, কোনো প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন হলে নির্ধারিত সময়ের অন্তত তিন মাস আগে আইএমইডিতে প্রস্তাব পাঠাতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা কমাতে প্রতি তিন মাস অন্তর প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটি (পিএসসি) ও প্রজেক্ট বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভা আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনলাইনভিত্তিক এ সভায় রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, জেলা প্রশাসকসহ শতাধিক কর্মকর্তা অংশ নেন। তারা নিজ নিজ প্রকল্পের অগ্রগতি, বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ এবং সমন্বয়ের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ প্রকল্প বাস্তবায়নে অযথা বিলম্ব পরিহার এবং সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের ব্যয় না বাড়িয়ে শুধু সময় বাড়ানো হয়েছে—এমন ধারণা বাস্তবে সঠিক নয়। কারণ সময় বৃদ্ধি পেলে পরোক্ষভাবে ব্যয়ও বেড়ে যায়।’

তিনি জনস্বার্থে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মত কাজ সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করে আইএমইডি, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ ও পরিকল্পনা কমিশনের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের আহ্বান জানান।

এনায়েত করিম/এসএন

নাতির প্রতি নানার অনন্য ভালোবাসা, যুবরাজের মর্যাদায় বাড়ি ফেরা

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
নাতির প্রতি নানার অনন্য ভালোবাসা, যুবরাজের মর্যাদায় বাড়ি ফেরা
ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে বাড়িতে গেলেন মুসালিন ছবি: খবরের কাগজ।

নাটোরের সিংড়া উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের জোরমল্লিকা গ্রামের শৌখিন মানুষ আব্দুল হান্নান (৫০)। তার সংসারে যেন নেই কোন হতাশা। স্বপরিবারেই তিনি সুখী এমনই তার চাল-চলন।

তবে বাতির নীচেই অন্ধকারের মতো সদা আনন্দ-ফুর্তিতে থাকা ওই মানুষটির কোনো পুত্র সন্তান নেই। তার একটি কন্যাসন্তান। নাম পান্না খাতুন (৩২)।  ওই কন্যাকেই তিনি পুত্রস্নেহে বড় করেছেন।

কখনও তার কোন শখ-আবদার অপূর্ণ রাখেননি তিনি। একমাত্র সন্তান বিধায় মেয়ে পান্নাকে  বিয়ে দিয়েছেন একই ইউনিয়নের শাহবাজপুর গ্রামে। জামাই মনির হোসেন ও মেয়ে পান্নার ঘরেও প্রথম সন্তান মেয়ে। 

স্থানীয়রা জানান, একটি ছেলের জন্য হান্নানের দীর্ঘ আশা থাকলেও তা পূরণ হয়নি। এরপর মেয়ের ঘরে একটি নাতির আশা নিয়ে প্রায়ই স্বজনদের কাছে ইচ্ছা পোষণ করতেন তিনি। অবশেষে প্রথম সন্তান জন্মের ১২ বছর পর মেয়ের কোল আলোকিত আর নানার আশার প্রতিফলন ঘটায় নাতি আব্দুর রহমান বিন মুসালিন। নিজ আনন্দ আর আশা পূরণ হওয়ার আনন্দে ওই নাতিকে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে, গানের বাজনার তালে মিষ্টি বিতরণের মধ্য দিয়ে যুবরাজ সম্মানে ঘোড়ার গাড়িতে বাড়ি পাঠালেন নানা।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে রাজকীয় সম্মানে নিজ বাড়ি পৌঁছে ওই নাতি। জামাই মনির হোসেন জানান, তার ছেলের বয়স এখন ৭ মাস। বুধবার সকাল ১০ টার দিকে তার শ্বশুর নাতি মুসালিনকে ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে নিজ বাড়ি থেকে তার বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন। ওই সময় নাচ-গানের সাথে ৩ হাজার পিস মিষ্টি বিতরণ করেন তার শ্বশুর।

নাতির আনন্দে বাবার এমন ব্যতিক্রমী আনন্দোনুষ্ঠানে সন্তোষ প্রকাশ করেন পান্না খাতুন।  ছেলের ভবিষ্যৎ মঙ্গল কামনায় তিনি সকলের দোয়া কামনা করেন।

শিশুর নানা হান্নান বলেন, আমার কোনো পুত্র সন্তান নাই। মহান আল্লাহ্ তায়ালা আমাকে একটি নাতি উপহার দিয়ে মনের আশা পূরণ করেছেন। সেজন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায়ের পাশাপাশি নাতিকে রাজকীয় সম্মানে বাড়ি পৌঁছাতে স্বজন ও গ্রামবাসীদের নিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেছি।

স্থানীয়দের দাবী, নাতির আনন্দে খুশি হন সকল নানী-নানী। তবে নাতিকে বাবার বাড়িতে পৌছাতে হান্নান যা করলেন তার নজির বিরল। ওই নাতি বড় হয়ে ওই নানাসহ স্বজন এবং এলাকাবাসীর সম্মান বাড়াবে, দেশের কল্যাণে কাজ করবে এমন দোয়া করেন তারা।

কামাল মৃধা/এসএন

রাজবাড়ীতে ১ লাখ ৫৪ হাজার শিশু পাবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
রাজবাড়ীতে ১ লাখ ৫৪ হাজার শিশু পাবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল
ছবি: খবরের কাগজ

রাজবাড়ী জেলায় এ বছর ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। আগামী রবিবার (২৮ জুন) জেলার ৪২টি ইউনিয়নের ১২৬টি ওয়ার্ডের মোট ১ হাজার ৬৬টি কেন্দ্রে থেকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে রাজবাড়ী জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ও জাতীয় পুষ্টিসেবার বাস্তবায়নে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী রবিবার (২৮ জুন) দিনব্যাপী জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে। এতে রাজবাড়ী জেলার মোট ২ হাজার ১৩২ জন স্বেচ্ছাসেবকের তত্বাবধানে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ২০ হাজার ১০০ জন শিশুকে নীল রঙের ১টি করে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়স পর্যন্ত ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯০০ জন শিশুকে ১টি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

এতে করে জেলায় মোট ১ লাখ ৫৪ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। পাশাপাশি ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে কিভাবে শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানো যায়, প্রয়োজনীয় ভিটামিন সমৃদ্ধ খাদ্যভ্যাস গড়ে তোলা সহ এসব শিশুদের স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রদান করা হবে।

সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন এস এম মাসুদ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন, এবং মো. সোহেল শেখ।

সুমন/আমান

জয়পুরহাটে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
জয়পুরহাটে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন
ছবি: খবরের কাগজ

‘করবো মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করবো বারো মাস’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে জয়পুরহাটে তিন দিনব্যাপী শুরু হয়েছে জাতীয় ফল মেলা।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এই মেলার উদ্বোধন করা হয়। পরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক  এ. কে. এম সাদিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক  আল-মামুন মিয়া, জেলা পরিষদের প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাফসিয়া জাহান।

​মেলার স্টলগুলোতে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদিত নানাবিধ পুষ্টিকর ও বিলুপ্তপ্রায় ফলের প্রদর্শন করা হয়। মেলা পরিদর্শনের সময় অতিথিরা ফল চাষের আধুনিক প্রযুক্তি এবং বারো মাস ফল সংরক্ষণের বিভিন্ন উপায় নিয়ে কথা বলেন এবং সাধারণ মানুষকে বেশি করে ফলদ বৃক্ষ রোপণের আহ্বান জানান।

মেলাটি স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে ফল চাষ ও পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।

সাগর/আমান

চট্টগ্রামে সড়কে মাছ ফেলে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৪:২১ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
চট্টগ্রামে সড়কে মাছ ফেলে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের হালিশহরের রানী রাসমনি ঘাটে সড়কে মাছ ফেলে প্রতিবাদ করেছেন জেলেরা।

বুধবার (২৪ জুন) সকালে ঘাটসংলগ্ন সড়কে চাঁদাবাজি ও খাস কালেকশনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন জেলে সম্প্রদায়ের সদস্যরা।

জানা যায়, চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে সড়কে মাছ ফেলে বিক্ষোভ করেন মৎস্যজীবী ও মাছ ব্যবসায়ীরা। এ কর্মসূচির কারণে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র মাছ পরিবহন ও বাজারজাতকরণের সময় বিভিন্ন অজুহাতে তাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায় করে আসছে। একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় তারা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নামেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী মাছবোঝাই যানবাহন থেকে মাছ নামিয়ে সড়কে ছড়িয়ে দেন। পরে তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় চাঁদাবাজি বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

এ সময় মাছ ফেলে এবং বরফ ও গ্যাস সিলিন্ডার রেখে প্রতিবাদ জানান তারা। জেলেদের হাতে বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। রানী রাসমনি জেলে ইলিশ ঘাটের জেলে, ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নেওয়া জেলেরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ঘাটে মাছ অবতরণ, নৌকা ভেড়ানো, জাল, রশি, বরফ, গ্যাস সিলিন্ডার ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসার ক্ষেত্রে টাকা আদায় করা হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, ‘দেশের মৎস্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘাট হওয়া সত্ত্বেও এখানে কর্মরত জেলেরা নানা ধরনের হয়রানি ও চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। প্রতিদিন মাছ নিয়ে ঘাটে আসার পর বিভিন্ন অজুহাতে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়।’

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মৎস্যজীবী ব্যবসায়ী শিবু জলদাস বলেন, ‘আমরা বৈধভাবে ব্যবসা করছি। তারপরও পথে পথে চাঁদা দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

জেলে হরিলাল জলদাস বলেন, ‘আমাদের কাছ থেকে খাস কালেকশনের নামে টাকা আদায় করা হয়। এ টাকা পরিশোধ করার পর আমাদের আর লাভ থাকে না। আমরা মাঝিদের কাছে মাছ বিক্রি করি, কিন্তু ন্যায্য দাম পাই না। আমাদের দাবি, খাস কালেকশন বন্ধ করা হোক।’

জেলেরা আরও অভিযোগ করেন, নৌকার মাঝি, ঘাটে কর্মরত শ্রমিক, মাছ ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর ক্ষুদ্র বিক্রেতারাও একই ধরনের অবৈধ অর্থ আদায়ের শিকার হচ্ছেন। তারা অবিলম্বে এসব কার্যক্রম বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

মানববন্ধনে জেলে সম্প্রদায়ের শতাধিক সদস্য অংশ নেন। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি শেষে প্রতিবাদকারীরা তাদের দাবি-সংবলিত স্মারকলিপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়ার ঘোষণা দেন।

খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাদের আশ্বাসের পর বিক্ষোভকারীরা সড়ক ছেড়ে গেলে রানী রাসমনি ঘাট এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

রিফাত/