উপকূলীয় জেলা ভোলায় মা-ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরুর পর নিবন্ধিত জেলেরা প্রণোদনার (ভিজিএফ) চাল পেতে শুরু করেছেন। জেলার সাত উপজেলার জেলেদের মাঝে একযোগে গত সোমবার থেকে এ চাল বিতরণ করা শুরু হয়েছে। চাল পেয়ে খুশি জেলেরা। তারা ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার অঙ্গীকার করেছেন।
জেলার তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নে গত সোমবার সকাল ১০টায় প্রধান অতিথি ভোলার জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান এ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
এ সময় স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করেন। জেলা প্রশাসক গণমাধ্যমকে বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জেলার সব উপজেলায় জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ সম্পন্ন করা হবে। নিবন্ধিত কোনো জেলে যেন চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে নজর রাখবে মৎস্য বিভাগের নির্ধারিত টাস্কফোর্স।
এ সময় জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেনসহ মৎস্যদপ্তর সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ৪ অক্টোবর থেকে মা-ইলিশ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরুর তৃতীয় দিনেই প্রণোদনার চাল পেয়ে সন্তুষ্ট ভোলার জেলেরা। তারা বলেন, বিগত সরকারের আমলে আমরা সঠিকভাবে ভিজিএফের চাল না পাওয়ায় আটক আর জেল-জরিমানার তোয়াক্কা না করেই নদীতে নেমে মা-ইলিশ ধরতে বাধ্য হতাম।
তজুমদ্দিন উপজলার চাঁদপুর ইউনিয়নের মেঘনা পাড়ের জেলেপল্লিতে গিয়ে কথা হয় সেখানকার জেলে সালাম মাঝি, শাহে আলম, ফরিদ, নিবারন ও নিতাই লাল মাঝির সঙ্গে। তাদের সবার মুখে একই সুর একই জবাব। তারা বলেন, আমরা বিগত ৩৫-৪০ বছর ধরে উত্তাল মেঘনায় মাছ ধরা পেশার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু প্রকৃত জেলে হয়েও অতীতে কখনো জেলে হিসেবে নিবন্ধনের তালিকায় নিজেদের নাম উঠাতে পারিনি। ফলে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে আমাদের ভাগ্যে সরকারি চালের একটি দানাও জুটত না।
তারা আরও বলেন, বিগত স্বৈরশাসকের আমলে আমরা কখনো নিবন্ধিত জেলের স্বীকৃতি পাইনি। আমাদের সেই চাল লুটে নিত আ’লীগ দলীয় এমপি নুরনবী চৌধুরী শাওনের লোকেরা। তবে সময় ও দিনবদলের কারণে এবার আমরা প্রকৃত জেলের তালিকাভুক্ত হতে পেরেছি। গতকাল সরকারের প্রণোদনার চাল পেয়েছি। এ জন্য আমরা সবাই খুশি। তারা নিজেদের এমন স্বীকৃতি পাওয়ায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জেলা সদরের তুলাতুলি জেলেপল্লিতে গিয়ে কথা হলো মৎস্যজীবী সুফিয়ান মাঝি, রুস্তম মাঝি, নরেন্দ্র মাঝি ও অনীল মাঝির সঙ্গে। তারা বলেন, আমরা ভেবেছিলাম মা-ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞার মধ্যে চাল পাব না, কিন্তু আমরা আজকে চাল পেয়ে খুবই আনন্দিত। তারা বলেন, আমরা সঠিক সময়ে চাল পেয়েছি। তাই আমরা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে মেনে চলার অঙ্গীকার করছি।
উল্লেখ্য, ভোলায় সরকার নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১ লাখ ৭১ হাজার। তবে বেসরকারি হিসেবে এ সংখ্যা দুই লক্ষাধিক বলে দাবি এখানকার জেলে ও মৎস্যজীবী সংগঠনগুলোর।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বাসসকে জানান, জেলার ৭ উপজেলায় ১ লাখ ৭১ হাজার নিবন্ধিত জেলের মধ্য ১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৩৮ জেলে পরিবারের জন্য ২৫ কেজি করে ৩৫৮৫.৯৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ হয়েছে। নানাবিধ কারণে অন্যসব জেলেদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করার পর তাদেরও চাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন জেলা মৎস্য বিভাগের এ কর্মকর্তা। সূত্র: বাসস