আমদানি অনুমতির খবরে পাইকারিতে কমতে শুরু করেছে দেশি পেঁয়াজের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটিতে দুই দফা দাম কমেছে। তবে এর প্রভাব পড়েনি খুচরা বাজারে। বিক্রি হচ্ছে আগের বাড়তি দামেই।
চট্টগ্রামে ভোগ্যপণ্যের বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের দাম সবচেয়ে বেশি বাড়ে চলতি মাসের ৯ নভেম্বর। সেদিন পণ্যটি কেজিপ্রতি বিক্রি হয় ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়। একই দিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশিরউদ্দীন জানান, দেশে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। কোনো সংকট নেই, যথেষ্ট মজুত রয়েছে। ইতোমধ্যে পেঁয়াজ আমদানির জন্য ২ হাজার ৮০০ আবেদন পড়েছে। আগামী ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে বাজারের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে না এলে আমদানি অনুমোদন ইস্যু করা হবে। এরপর পেঁয়াজের দাম কমতে থাকে। গত ১৫ নভেম্বর কেজিতে ৫ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়। বর্তমানে কেজিতে আরও ১০ টাকা কমে পাইকারিতে পণ্যটি কেজিপ্রতি বিক্রি হয়েছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকায়।
খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, পেঁয়াজ আমদানির খবরে ফরিদপুর, পাবনা, কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ির কৃষক ও মজুতদাররা দাম কমিয়ে দিয়েছেন। এ কারণে পণ্যটির দাম কমতে শুরু করেছে। মাসখানেক পর দেশে উৎপাদিত মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে চলে আসবে। তাই পণ্যটির দাম আর বাড়ার সম্ভাবনা নেই।
খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস বলেন, ‘বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ ভালোই রয়েছে। দামও কমতে শুরু করেছে। সামনে মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসবে। তখন আরও কম দামে কিনতে পারবেন ক্রেতারা।’
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘দেশি পেঁয়াজের উৎপাদন ও মজুত দুটোই ভালো। দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। কিন্তু সিন্ডিকেট করে দামটা অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হয়েছে। এদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা দরকার।’
এদিকে পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম কমলেও এর প্রভাব পড়েনি খুচরা বাজারে। পাইকারিতে যখন অস্বাভাবিক হারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছিল, তখন খুচরা পর্যায়ে পণ্যটি কেজিপ্রতি বিক্রি হয় ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। বর্তমানে পাইকারিতে দাম কমার পরও খুচরায় আগের দরে বিক্রি হচ্ছে পণ্যটি।