দিনাজপুরে ‘ডেভিল হান্ট অপারেশন ফেজ-২’-এর অভিযানে হত্যা, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিসহ একাধিক মামলার কুখ্যাত শীর্ষ সন্ত্রাসী শেখ মোহাম্মদ শাহ আলমকে (৩৯) গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে দিনাজপুর পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার শাহ আলমের বিরুদ্ধে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিসহ মোট সাতটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় তিনি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি।
আটক শেখ মোহাম্মদ শাহ আলম দিনাজপুর পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের কাঞ্চন কলোনি মহল্লার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে আত্মগোপনে ছিলেন।
ডিবি পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে গত ১৫ ডিসেম্বর নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার সৈয়দপুর শহরের একটি রিসোর্ট সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে এই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের সময় রামদা হাতে নিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে শাহ আলমের বিরুদ্ধে। তখন তার ভূমিকার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান।
সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির এক নেতার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে আলোচনায় আসেন শাহ আলম। এরপর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, পলাতক ফ্যাসিস্ট ও তাদের দোসর সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চালানোর অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে তাকে মুলতবি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের তথ্য, অপরাধচক্রের নেটওয়ার্ক এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পুলিশ রিমান্ড আবেদন করেছে।
দিনাজপুর পুলিশ সুপার (এসপি) জেদান আল মুসা বলেন, “অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে অভিযান চলমান থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিবি পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সুলতান/নাঈম