কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার আমিরাবাদ থেকে চাঁদপুরের সাচার কচুয়া হয়ে সদর পর্যন্ত ৬৩ কিলোমিটার সড়কে চলতি বছরেই ঘটেছে ৮০টির বেশি দুর্ঘটনা। এতে আটজন নিহত ও ৬০০-এর অধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। অর্ধশতাধিক তীক্ষ্ণ বাঁক, সড়কের ওপর গড়ে ওঠা বাজার ও অপর্যাপ্ত সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কম সময়ে কুমিল্লা ও রাজধানী ঢাকা পৌঁছাতে এই সড়কটি ব্যবহার করছেন নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, চাঁদপুর, শরীয়তপুর, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, কচুয়া, মতলব দক্ষিণ ও কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দারা। প্রতিদিন হাজারও যাত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে চরম ঝুঁকি ও আতঙ্ক নিয়ে যাতায়াত করছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চাঁদপুর থেকে কম সময়ে ঢাকায় পৌঁছানো সম্ভব হওয়ায় প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ হাজার ছোট-বড় যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করে। সড়কজুড়ে অন্তত অর্ধশতাধিক বাঁক এবং প্রায় ২০টি বাজার গড়ে উঠেছে। বাঁকগুলোর কারণে অনেক স্থানে বিপরীত দিকের যান দেখা যায় না। ফলে চালকদের হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যা প্রায়ই সংঘর্ষ, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি উল্টে যাওয়া এবং প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আমিরাবাদ, শায়েস্তানগর, হাটখোলা, পিপিয়াকান্দি, বায়েক, দোঘোর থেকে সাচার-কচুয়া পর্যন্ত একাধিক বাঁক এতটাই তীক্ষ্ণ যে সামনের দৃশ্য আড়াল হয়ে যায়। দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোর মধ্যে রয়েছে- সাচার বাজারে ৪টি, বাড়ীপাড়ায় ১১টি, আমিরাবাদে ৫টি, হাটখোলায় ১২টি, বায়েক মোড়ে ১১টি, শায়েস্তানগর ব্রিজের ৩০ মিটারের মধ্যে ৩টি, দোঘোরে ১টি, পিপিয়াকান্দিতে ৮টি ও নারিকেল তলায় ৪টি বাঁক। এসব স্থানে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে, অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানিও হচ্ছে।
ট্রাকচালক মজিব মিয়া বলেন, ‘দাউদকান্দি উপজেলার আমিরাবাদ ও সাচার-কচুয়া হয়ে চাঁদপুর সড়কটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক। অতিরিক্ত বাঁক ও সড়কসংলগ্ন বাজার গড়ে ওঠায় আমাদের বেশ অসুবিধা হয়। অনেক সতর্ক থাকার পরেও ঘটছে দুর্ঘটনা।’
সুরমা পরিবহনের চালক আবদুল খলিল মিয়া বলেন, ‘সড়কটি যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। চোখের সামনে দুর্ঘটনা ঘটে। প্রায়ই দেখি গাড়ি উল্টে যাচ্ছে। মানুষের প্রাণহানি ঘটলেও কোনো সমাধান দেখছি না।’
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘বেশির ভাগ বাঁকে সামনের দৃশ্য দেখা যায় না। বড় যানবাহনের চালকরা গাড়ি সামাল দিতে হিমশিম খান। সড়কটিতে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ রয়েছে। ঝুঁকি নিয়েই চলতে হচ্ছে।’
নিসচার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এই মহাসড়কে ৮০ থেকে ৯০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অন্তত আটজনের প্রাণহানি হয়েছে এবং প্রায় ৬৫০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কের বাঁকের সমস্যাগুলো সবার নজরে থাকলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন সিগন্যাল ও চিহ্ন বসানো হবে। তবে বাঁকগুলো সরল করা ব্যয়বহুল ও কঠিন কাজ। বাঁকগুলো সোজা করতে হলে নানা প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে এবং সময়ের প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাব।’
সড়কটি জেলার অন্যতম দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়ক হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়রা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে বাঁক সরলীকরণ এবং যথাযথ সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।