চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের মাদামবিবিরহাট শাহজাহান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ বি এম গোলাম নুরের ওপর মব সৃষ্টি করে আবারও হামলা করেছে বিদ্যালয়ের সভাপতিসহ স্থানীয় ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী। এতে জড়িত রয়েছে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকও।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
মব সৃষ্টিতে হামলার শিকার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ, বি, এম গোলাম নুর বলেন, গত ১৮ আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারী নামে বিদ্যালয়ের সভাপতি বিএনপি নেতা সাহাব উদ্দিন ও বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক মিলে মব সৃষ্টি করে হামলা করে। এ সময় কোনোমতে প্রাণে রক্ষা পাই। পরবর্তীতে সভাপতি প্রধান শিক্ষকের পদ ছাড়তে বাধ্য করলেও আমি তাতে রাজি হয়নি। তৎকালীন সভাপতি বিদ্যালয়ের নীতিমালা উপেক্ষা করে গত চার মাসে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা বিদ্যালয়ে অ্যাকাউন্টে না রেখে অনিয়ম করছে। এ ছাড়া প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে যেতে না দিয়ে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়েছেন অপর এক শিক্ষককে।
এদিকে ইয়াছিন চৌধুরী ও জিহাদসহ কয়েকজন ছাত্র তাদের পূর্বের ভুল বুঝে অনুতপ্ত হয়ে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে নিয়ে যান। এ সময় মব সৃষ্ট করে আবারও হামলা করে সেই প্রধান শিক্ষকের ওপর।
তারা বলেন, বিদ্যালয়ের সভাপতি দাবিদার সাহাব উদ্দিনসহ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও ছাত্রদল নেতা সাইফ আলী আরমান ও জিহাদ নামে বহিরাগতরা মব সৃষ্টি করে হামলা করে প্রধান শিক্ষকের ওপর। এ সময় তাদের (ইয়াছিন চৌধুরী ও জিহাদ) মোবাইল ছিনিয়ে নেয় বিদ্যালয়ের শিক্ষক সালাউদ্দিনসহ ছাত্রদল নেতারা। পরে হামলার শিকার প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
তারা বলেন, গত ১৮ আগস্ট বিদ্যালয়ের সভাপতি ও কয়েকজন শিক্ষকের প্ররোচনায় মব সৃষ্টি করে হামলা করেছিলাম। পরে আমরা ভুল বুঝে প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে ক্ষমা চেয়েছি।
ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সোহেল রানা বলেন, খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল থেকে আহতাবস্থায় প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করেছে।
বিএনপি নেতা সাহাবউদ্দিন বিদ্যালয়ের সভাপতি দাবি করে বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পৃষ্ঠপোষক, পতিত স্বৈরাচারের অবৈধ মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদের আস্থাভাজন ছিলেন তিনি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণকারী, অর্থ লোভী। অনতিবিলম্বে তার পদত্যাগ চাই স্থানীয়রাসহ বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যালয়ে সভাপতি বর্তমানে আমি, কেউ সভাপতি বলার সুযোগ নাই। প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
মুসলেহ উদ্দীন/সুমন/