কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শত শত শেল্টারসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা পুড়ে গেছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে উখিয়া পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহ কাটা এলাকায় অবস্থিত ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি–৪ ব্লকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, ডি- ৪ ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ আনিছ রাত আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে গ্যাসের চুলায় পানি গরম করে ঘুমিয়ে পড়েন। দীর্ঘ সময় চুলা জ্বলতে থাকায় পানি শুকিয়ে যায় এবং একপর্যায়ে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের শেল্টারগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। গভীর রাত হওয়ায় আগুন দ্রুত বিস্তৃত হলে পুরো ক্যাম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তাদের সঙ্গে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৩০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করেন এবং রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরাও সহযোগিতা করেন।
উখিয়া উপজেলার শফিউল্লাহ কাটা এলাকার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি ব্লকের হেড মাঝি মোহাম্মদ রিয়াজ জানান, এ অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তার মতে, আগুনে মোট ৪৪৮টি শেল্টার, দুটি মসজিদ, ১০টি স্কুল এবং একটি মাদরাসা সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। তবে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শফিউল্লাহ কাটা ডি–৪ ব্লকে সংঘটিত এ ঘটনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শেল্টার ও বিভিন্ন স্থাপনা পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।
এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর সকালে ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুনে একটি হাসপাতাল পুড়ে যায়। এছাড়া ২৫ ডিসেম্বর রাতে কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০টির বেশি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শাহীন/অমিয়/