পবিত্র রমজান মাসে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ কমে গিয়ে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সরকারি নির্ধারিত দাম ১,৩০৬ টাকা হলেও বাজারে সিলিন্ডারের দাম দাঁড়িয়েছে ১,৬৫০ থেকে ১,৭০০ টাকায়। এতে রোজাদাররা সেহরি ও ইফতারের রান্না নিয়ে উদ্বিগ্ন।
সরবরাহ কম, দাম ঊর্ধ্বমুখী
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সরকারি দাম কাগজে থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে না। দোকানগুলোতে গ্যাস সিলিন্ডার খুব সীমিত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে। যারা সিলিন্ডার পাচ্ছেন, তারা বাধ্য হয়ে উচ্চমূল্যে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চুলা কিনছেন, যদিও বিদ্যুতের লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও জটিল করছে।
মাদরাসা শিক্ষক মো. জুনাইদ বলেন, 'সরকার দাম নির্ধারণ করলেও বাজারে কেউ তা মানছে না। কয়েকদিন ধরে গ্যাস খুঁজে পাইনি। যেখানে পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে ১,৭০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। এত বেশি দামে কেনা মানে অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে হার মানা।'
কৃত্রিম সংকট ও ভোক্তাদের দুর্ভোগ
ভোক্তারা জানান, ডিলারদের অনিয়মিত সরবরাহ এবং সম্ভাব্য মজুতদারির কারণে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীরাও উচ্চমূল্যে সিলিন্ডার তুলতে দ্বিধায় আছেন। হঠাৎ দাম কমে গেলে লোকসান হওয়ার আশঙ্কায় সরবরাহ আরও কমে যাচ্ছে।
বহুতল ভবনের বাসিন্দারা বিশেষভাবে বিপাকে পড়েছেন। বিকল্প জ্বালানির সুযোগ না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার কিনছেন। নিম্নআয়ের পরিবারগুলো লাকড়ির চুলায় রান্না করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
পেকুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম মাহবুব জানিয়েছেন, 'বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। কেউ যদি গ্যাস মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করে, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
স্থানীয়রা দাবি করছেন, রমজানের মতো সংবেদনশীল সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে এমন অস্থিরতা রোধে কঠোর বাজার মনিটরিং ও নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
রকিবুল হাসান/সুমন/