জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে সন্তুষ্ট নন তার বাবা মকবুল হোসেন।
তিনি বলেন, ‘দুইজনকে ফাঁসি দিয়েছে তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। এতে আমি সন্তুষ্ট নই। আরও লোকের ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল। তবে ১নং হলো পোমেল বড়ুয়া। উনি কিন্তু সাংঘাতিক দোষী। ছেলেকে বিনা দোষে অপদস্ত করেছে গলাটিপে ধরেছিল। ছাত্রলীগের লিডার আমার ছেলের গালে বুকে থাপড়াইছে। আমার ছেলে রোকেয়া ভার্সিটির সমন্বয়ক হিসেবে বক্তব্য দিয়েছিল। বলেছিল আমি কোনো সরকারবিরোধী আন্দোলনে বক্তব্য দিচ্ছি না। আমি অধিকার আদায়ের জন্য বক্তব্য দিচ্ছি। যার কারণে এসে গলাটিপে ধরেছিল এই পোমেল বড়ুয়া। এই রায়ে আমি সন্তুষ্ট হতে পারলাম না।’
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আবু সাঈদের মামলার রায় ঘোষণার পর রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবুনপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে এভাবেই প্রতিক্রিয়া জানান মকবুল হোসেন।
কেন সন্তুষ্ট না আর জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অপরাধীরা বেছে বেছে বাদ গেল। তাই আমি সন্তুষ্ট না। আমারে সাজা দেওয়া উচিত ছিল।’
মামলার রায়ে দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড, তিন পুলিশ সদস্যের যাবজ্জীবন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি মহানগর কমিশনারসহ ৫ জনকে ১০ বছরের সাজা, ৮ জনকে ৫ বছরের সাজা, ১১ জনকে ৩ বছরের সাজার রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এই মামলার মোট আসামি ৩০ জন। তারা হলেন- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশিদ, গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান ও লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ, রংপুরের কমিশনার মনিরুজ্জামান, এডিসি আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, এডিসি শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ওরফে সুমন, এসি আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন, বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব, এএসআই (সশস্ত্র) আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, রাফিউল হাসান রাসেল, হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান, মো. মনিরুজ্জামান পলাশ, পোমেল বড়ুয়া, মাহাফুজুর রহমান শামীম, ফজলে রাব্বী, আখতার হোসেন, সেজান আহম্মেদ ওরফে আরিফ, ধনঞ্জয় কুমার ওরফে টগর, বাবুল হোসেন, ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ, মাসুদুল হাসান ওরফে মাসুদ, মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নূর আলম মিয়া, মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, একেএম আমির হোসেন ওরফে আমু, আনোয়ার পারভেজ ও ডা. সারোয়াত হোসেন ওরফে চন্দন।
তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশিদ, গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান ও লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই তিন আসামি বর্তমানে পলাতক।
তাছাড়া, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন পুলিশ সদস্য আরিফুর জামান জীবন, নয়ন ও মাধব পলাতক রয়েছেন।
এছাড়া রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টু ও বেরোবি ছাত্রলীগ সভাপতি পামেল বড়ুয়ার ১০ বছর কারাদণ্ড; গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা এমরান আকাশ, এডিসি আবু মারুফ হোসেন টিটু, এডিসি শাহা নুর আলম পাটোয়ারী, আওয়ামী লীগ সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিপের রংপুরের সভাপতি ডা. মো. সারোয়াত হোসেন ওরফে চন্দন, তুফান, আমু, বাবু, নুরুর আলম, নুরুন্নবী মন্ডল ও মাসুদুর হাসানের ৫ বছর কারাদণ্ড; মনিরুজ্জামান পলাশ, মাসুদুর শামিম, ফজলে রাব্বি, আরিফ, আকতার, ধনজয়, বাবুল হোসেন ও রাসেলের ৩ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বেরোবির সাবেক প্রক্টর মো শরীফুল ইসলামকে খালাস পেয়েছেন।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালী রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্কের মোড়ে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ।
সেলিম সরকার/অমিয়/