দশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে রাঙামাটির বরকল উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার জেরে প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিন দিনের ব্যবধানে রুজু করা হয়েছে সাধারণ ডায়েরিও। বরকল উপজেলার ভুষণছড়া ইউনিয়নের হরিণা বাজারের ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক পৃথকভাবে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনাল ও বরকল থানায় এই মামলা করেন।
মামলায় বরকলের কলাবুনিয়া গ্রামের মো. আজিমুদ্দিনের ছেলে মো. নূর হোসেন (৩৪)কে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইবুনালের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আর সাধারণ ডায়েরির বিষয়ে তদন্তের পর আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন বরকল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা (সাইবার পিটিশন নং-১৩৯/২০২৬) করেন ওই ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। মামলায় বলা হয়- বরকল উপজেলার দক্ষিণ এরাবুনিয়া গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে জামায়াত সেক্রেটারি মো. রবিউল ইসলাম(২৮) সহ আসামী নুর হোসেন বিভিন্ন সময় অনৈতিক সুবিধা দাবি করে আসছে। না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিজেদের ফেসবুক আইডিতে ও ফেইক আইডি থেকে মামলার বাদী মোজাম্মেলকে চোরাকারবারী, অবৈধ ব্যবসায়ী উল্লেখ করে পোস্ট দেন। একইসাথে সীমান্তে প্লাস্টিক পণ্য, গ্যাস সিলিন্ডারসহ বিভিন্ন পণ্য পাচার ও অবৈধভাবে সেগুন কাঠ পাচারের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করে মানহানি ও ব্ল্যাকমেইল করছেন।
বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করলে মামলার বাদী মোজাম্মেল হকের কাছে দশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন আসামি মো. রবিউল ইসলাম ও মো. নূর হোসেন। নইলে আরও নামে-বেনামে ফেসবুক আইডি দিয়ে তার মান-সম্মান ক্ষুন্ন করবে বলে হুমকি দেয়।
মোজাম্মেল হকের আইনজীবী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইবুনালের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বরকল উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, বরকল উপজেলার ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে যে সব চোরাচালান হয় এর মূল হোতা মোজাম্মেল হক। মূলত এসব চোরাচালানের জন্য বরকল উপজেলার দুর্নাম ঘোছাতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইবুনালে মামলা হওয়ায়, পিবিআইসহ আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী আরো বাহিনী দিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে সাইবার ট্রাইব্যুনালে করা মামলা দায়েরের বিষয়টি জানার পর তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং তাকে নানাভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন মামলার বাদী মোজাম্মেল হক। ব্যক্তিগত নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হওয়ায় বুধবার (২২ এপ্রিল) বরকল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন এই ভুক্তভোগী|
বরকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, 'মোজাম্মেল হক নিজের নিরাপত্তার জন্য সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি তদন্তের পর আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে'।
জিয়াউর রহমান জুয়েল/এসএন