চট্টগ্রাম নগরের প্রবর্তক মোড়ে আবারও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা। এবার মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় প্রবর্তক মোড়। এতে ওই স্থান দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ৫০ মিটার জায়গাটি রিকশায় পারাপার হতে গুনতে হচ্ছে একশ টাকা।
শনিবার (২ মে) বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা বৃষ্টি হয়। এতে প্রবর্তক মোড়ের কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানি জমে থাকায় যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই এই এলাকায় একই চিত্র দেখা যায়। দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা নিরসনের নানা প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও বাস্তবে তেমন কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।
অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে ভারী বর্ষণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।
অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল দখল ও নিয়মিত পরিষ্কারের অভাব জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। এছাড়া পাহাড়ি ঢল ও জোয়ার-ভাটার প্রভাবও পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার দুপুরের পর হঠাৎ কালো মেঘে আকাশ ঢেকে যায়। একইসঙ্গে মেঘাচ্ছন্ন হয়ে সন্ধ্যার আবহ নেমে আসে। বিকেল ৪টায় শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। প্রায় এক ঘণ্টা বৃষ্টিপাত হয়। এতে নগরীর কাতালগঞ্জ, প্রবর্তক মোড়, রহমতগঞ্জ ও আগ্রাবাদসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েন পথচারীরা।
নগরীর রহমতগঞ্জ এলাকার জলাবদ্ধতার ভিডিও পোস্ট করে ফেসবুকে আবদুল্লাহ আল মাসুম লিখেছেন, ‘চট্টগ্রামে নাকি পানি ওঠে না। কতক্ষণ বা হলো বৃষ্টি শুরু, এখনই এই অবস্থা।’
পথচারী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী, আপনি এখন এসে প্রবর্তক মোড় দেখে যান। এখন সাঁতার কাটতে হবে। আপনি বলেছেন পানি ওঠে না, কিন্তু আমরা পানিতে ভাসছি।’
অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শনিবার সন্ধ্যায় বৃষ্টি বন্ধ হলে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখেন। কয়েক দিনের মধ্যে কয়েকটি খালের বাঁধ খুলে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই পানি জমে যাচ্ছে। এর একমাত্র কারণ খালে বাঁধ। এ বাঁধ সরানোর জন্য আমরা বলেছি। বাঁধ সরে গেলে পানি থাকবে না।’
এদিকে, চট্টগ্রাম মহানগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে ১৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব আশফিকুন নাহারের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ কমিটি গঠন করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়রকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
এর আগে ২৯ এপ্রিল বুধবার জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগের কারণে নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই দিন সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর প্রবর্তক এলাকায় ও হিজড়া খালের সম্প্রসারণ কাজ পরিদর্শনে আসেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় প্রবর্তক মোড়ের বদনা শাহর মাজারের সামনে গোড়ালি থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত পানি জমে ছিল।
এ সময় মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরী পানির ওপর ভাসছে না। শুষ্ক মৌসুমে যেমন থাকে, তেমনই আছে। প্রবর্তক মোড়ে খাল নির্মাণের কারণে একটু জলাবদ্ধতা হয়েছিল। তবে এখন নিষ্কাশন হয়েছে। কারণ, আমি নিজে পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে এসেছি।’ মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।
চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে ১৪ হাজার কোটি টাকার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড।
রিফাত/