নেত্রকোণার মদন উপজেলায় মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা অভিযোগের মামলার আসামি শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে কোনো কিছুই স্বীকার করেননি বলে নগরের আকুয়া বাইপাস এলাকায় র্যাব-১৪ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ময়মনসিংহের অধিনায়ক নয়মুল হাসান জানান।
এর আগে বুধবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা থেকে র্যাব-১৪ এর একটি দল মাদরাসা শিক্ষক ৩০ বছর বয়সি আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করে।
নয়মুল হাসান বলেন, মদন উপজেলার ‘হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার’ প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গত ২৩ এপ্রিল মামলা দায়ের হয়। এরপর থেকে র্যাব বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে।
তিনি বলেন, “ভুক্তভোগী শিশু ও আসামি একই এলাকার বাসিন্দা। শিশুটির বাবা তাদের ছেড়ে দীর্ঘদিন ধরে নিরুদ্দেশ। জীবিকার তাগিদে শিশুটির মা সিলেটে গৃহ পরিচারিকার কাজ করেন। শিশুটি তার নানির কাছে থেকে ওই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতো। কিছুদিন থেকে শিশুটির মা শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখে ১৮ এপ্রিল ‘মদন মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসকরা জানান, শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।”
“পরে বাদী শিশুটিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারেন, গত বছরের ২ অক্টোবর মাদ্রাসা ছুটি হওয়ার পর শিক্ষকের আদেশে ঝাড়ু দিয়ে মাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদের বারান্দা পরিষ্কার করতে থাকে। সেই মুহুর্তে শিক্ষক শিশুটিকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে।”
সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের ওই কর্মকর্তা বলেন, “ঘটনার পর থেকেই শিক্ষক গ্রেপ্তার এড়াতে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। র্যাব-১৪ ময়মনসিংহ এই চাঞ্চল্যকর মামলার ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।
“এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ময়মনসিংহের গৌরীপুরের সোনামপুর এলাকা থেকে আসামি আমানুল্লাহকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র্যাব।”
তিনি বলেন, “গ্রেপ্তার মাদরাসাশিক্ষক জিজ্ঞাসাবাদে কিছু স্বীকার করেনি। তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে। পরে যদি তদন্ত কর্মকর্তা মনে করেন, রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে তাও করতে পারেন। ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হলে তাও করা হবে।”
গ্রেপ্তার মাদরাসাশিক্ষক নেত্রকোনার মদনে হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও মাদরাসায় শিক্ষকতার পাশাপাশি মসজিদে ইমামতিও করেন। তিনি উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী শিশুটি একই এলাকার বাসিন্দা ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীর একমাত্র সন্তান। জীবিকার তাগিদে শিশুটির মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। শিশুটি তার নানির কাছে থেকে ওই মাদরাসায় লেখাপড়া করতো।
কামরুজ্জামান মিন্টু/এসএন