দিনাজপুরের কোরবানির পশুর হাটে এবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘সম্রাট’ নামের বিশালাকৃতির একটি ষাঁড়। শখ করে নাম রাখা এ পশুটিকেই জেলার সবচেয়ে বড় গরু বলে দাবি করেছেন খামারি আব্দুর রাজ্জাক। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে ‘সম্রাট’।
হামিদপুর ইউনিয়নের মধ্যদুর্গাপুর গ্রামে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ‘দিনাজপুরের সম্রাট’ নামের বিশালাকৃতির একটি ষাঁড়।
প্রায় ৩০ মণ ওজনের রাজকীয় গড়নের এ পশুটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনায় এসেছে ‘সম্রাট’। খামারির দাবি, ষাঁড়টির দাম হাঁকা হয়েছে ১২ লাখ টাকা।
প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৌতূহলী মানুষ ভিড় করছেন রাজ্জাকের বাড়িতে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ পরিবার নিয়ে এসে সম্রাটকে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করছেন।
প্রতিবেশী আব্দুল কাদের বলেন, আমরা অনেক বড় গরু দেখেছি, কিন্তু সম্রাটের মতো এত বিশাল আর শান্ত গরু এই এলাকায় আগে দেখিনি।
আরেক প্রতিবেশী রহিমা বেগম বলেন, ছোট-বড় সবাই সম্রাটকে দেখতে আসে। বাচ্চারা খুব আনন্দ পায়। এত যত্ন করে গরু পালন করা সত্যিই প্রশংসার বিষয়। গরুটাকে দেখলেই বোঝা যায় কত আদর দিয়ে বড় করা হয়েছে।
খামার মালিক আব্দুর রাজ্জাক জানান, প্রায় দুই বছর আগে শাহীওয়াল জাতের একটি গাভীর ঘরে জন্ম নেয় সম্রাট। জন্মের পর থেকেই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে বড় করা হয়েছে তাকে। খাদ্য তালিকায় রয়েছে খড়, ঘাস, ছোলা, মসুর ডাল, ভুষি, ভুট্টার আটা, খৈল, খুদের ভাত, ধানের গুঁড়া ও চিটাগুড়। এছাড়াও মৌসুমি ফল হিসেবে কাঁচাকলা, গাজর, আপেল, কাঁঠাল ও পাতাকপিও খাওয়ানো হয়।
তিনি বলেন, সম্রাটকে নিজের সন্তানের মতো করেই বড় করেছি। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা ইনজেকশন ব্যবহার করিনি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করেছি। আশা করছি ভালো দাম পাব।
বিশাল আকৃতির কারণে সম্রাটকে হাটে নেওয়া কঠিন হবে উল্লেখ করে আব্দুর রাজ্জাক জানান, বাড়ি থেকেই গরুটি বিক্রি করতে চান তিনি। তার প্রত্যাশা, ১২ লাখ টাকায় বিক্রি হবে ‘দিনাজপুরের সম্রাট’। তবে ক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে দাম কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।
সুলতান মাহমুদ/আমান