হাটজুড়ে মানুষের ভিড়। কোথাও দরদামের উত্তাপ, কোথাও গরুর দড়ি ধরে দাঁড়িয়ে বিক্রেতার অপেক্ষা। শত শত গরুর ভিড়ে হঠাৎ করেই চোখ আটকে যায় কালো এক বিশাল গরুর দিকে।
তার চলনে যেন দাপট, দাঁড়িয়ে থাকাতেই যেন রাজকীয় ভঙ্গি। আর তাই মালিকও নাম রেখেছেন ‘রাজাবাবু’।
ঈদুল আজহা সামনে রেখে শুক্রবার (২২ মে) আখাউড়া শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজ মাঠের পশুর হাটে তোলা হয় গরুটিকে।
হাটে আসা মানুষের ভিড়ের বড় একটি অংশকে দেখা যায় ‘রাজাবাবু’কে ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকতে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ হাত বুলিয়ে দেখছেন, আবার কেউ দাম শুনে অবাক হচ্ছেন।
গরুটির মালিক রুহুল আমীন। তিনি জানান, ‘রাজাবাবু’ নেপালি-সাহিওয়াল সংকর জাতের গরু। প্রায় দুই বছর ধরে যত্ন করে বড় করেছেন তিনি গরুটির ওজন প্রায় ১৫ মণ।
রুহুল আমীন বলেন, গরুটাকে নিজের সন্তানের মতো করে লালন করেছি। নিয়মিত ঘাস, ভুসি, খৈল, ভুট্টা আর উন্নত খাবার দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করিনি।
হাটজুড়ে সকাল থেকেই ছিল ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। কেউ পশুর দাঁত দেখে বয়স যাচাই করছেন, কেউ আবার দরদামে ব্যস্ত। ছোট আকারের গরু থেকে শুরু করে বিশালাকৃতির দেশি-বিদেশি নানা জাতের গরু উঠেছে হাটে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার পশুর সরবরাহ ভালো হলেও খাবার ও লালন-পালনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা বেশি। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ একই, গত বছরের তুলনায় পশুর দাম অনেকটাই চড়া।
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ উল ইসলাম বলেন, হাটে সার্বক্ষণিক পুলিশ টহল রয়েছে। যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক আছি।
জুটন বনিক/আমান