ঢাকা ৫ শ্রাবণ ১৪৩১, শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪

বগুড়ায় জোড়া খুন: শ্রমিকনেতাসহ ৪ জন কারাগারে

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৪, ০৪:৩৬ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৪, ০৪:৪৮ পিএম
বগুড়ায় জোড়া খুন: শ্রমিকনেতাসহ ৪ জন কারাগারে
নিহত মো. রুমন শেখ-নোমান আহম্মেদ

বগুড়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ সার্জিল আহম্মেদ টিপুর ব্যক্তিগত গাড়ির সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগার ঘটনা কেন্দ্র করে দুই যুবককে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ জুন) সকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শাহীনুজ্জামান আদালতে প্রত্যেকের ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আদালত রিমান্ড আবেদনের শুনানি না করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে মঙ্গলবার (১৮ জুন) রাতে বগুড়া সদর থানায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহত শরিফের মা মোছা. হেনা বেগম।

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন- বগুড়া মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ কবির আহম্মেদ মিঠু, মো. শেখ সৌরভ, মো. নাইম হোসেন ও মো. আজরিন রিফাত।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সায়হান ওয়ালিউল্লাহ জানান, এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে নিহত শরিফের মা মোছা. হেনা বেগম ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে ২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করলে সৈয়দ সার্জিল আহম্মেদের বড় ভাই ও এ মামলার প্রধান আসামি বগুড়া মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদ সৈয়দ কবির আহম্মেদ মিঠু, মো. শেখ সৌরভ, মো. নাইম হোসেন ও মো. আজরিন রিফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার (১৭ জুন) রাতে শহরের নিশিন্দারা এলাকায় মো. রুমন শেখ ও নোমান আহম্মেদ নামে দুই যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

হাসিবুর রহমান/অমিয়/

পুলিশের বেশে পণ্যবাহী গাড়িতে ডাকাতি করত তারা

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৪, ০৩:৪৯ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৪, ০৩:৪৯ পিএম
পুলিশের বেশে পণ্যবাহী গাড়িতে ডাকাতি করত তারা
ছবি : খবরের কাগজ

দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে পুলিশের বেশে পণ্যবাহী গাড়ি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ডাকাতির পৃথক ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

রবিবার (১৪ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

সম্প্রতি নারয়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি ডিমের গাড়ি ডাকাতির ঘটনায় পাঁচজনকে ও সাভারের চান্দিনায় ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ফেরার পথে ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে ডাকাতির ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলো- আসলামুল হক আসলাম ওরফে বেলাল (৩৭), রমজান শেখ ওরফে কালু (৪০), মেহেদী শেখ হিরা (৩৩), জমির খান (৩৬) ও মো. জহিরুল ইসলাম চকিদার (৫০)। অপর দলটি হলো- জাহাঙ্গীর আলম (৪২), মো. মিরন ওরফে সুজন (৫০), মো. মেহেদী হাসান রাজীব (৩০), আব্দুল মতিন (৪২), বাদল মুন্সী (৪৫) ও সাগর ইসলাম (২৪)।

তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন মডেলের পাঁচটি গাড়ি, পুলিশের ওয়্যারলেস, জ্যাকেট জব্দ করা হয়েছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ‘তারা মহাসড়কে ডিবি পুলিশের পোশাক পরে লেজার লাইটের সংকেত দিয়ে পণ্যবাহী গাড়ি থামিয়ে চালক ও হেল্পরের হাত-পা বেঁধে গাড়িসহ পণ্য ডাকাতি করত। এই চক্রটি ধারাবাহিকভাবে মূল্যবান যেকোনো পণ্যবাহী গাড়ি দেখলেই সংকেত দিত। সম্প্রতি রূপগঞ্জে ডিমবাহী গাড়ি থামিয়ে চালকের হাত-পা বেঁধে ডাকাতির ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই চক্রটি ডাকাতি করা পণ্য বিক্রি করত। পাশাপাশি ডাকতি করে নেওয়া গাড়ি দিয়ে তারা আবার ডাকাতি করত।’

হারুন আরও বলেন, ‘আমাদের ধারাবাহিক অভিযানে সাভারের চান্দিনায় এক ব্যবসায়ী ব্যাংক থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার পথে ডাকাতির শিকার হন। এই ঘটনায় করা মামলার তদন্তে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই সকল মামলা তদন্ত করতে গিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির ঘটনা বেশ কয়েকটি মামলা শনাক্ত করা হয়েছে। সে সকল ঘটনায় এই দুই ডাকাত দলের সদস্যরা জড়িত।’

ভুক্তভোগীদের করা মামলায় দেখা গেছে, এই ডাকাত দলের সদস্যরা প্রতিদিনই কোনো না কোনো মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে পণ্যবাহী গাড়ি ডাকাতি করত।

অতিরিক্ত কমিশনার আরও বলেন, আমরা বলতে চাই দেশের কোথাও ডাকাতির ঘটনা ঘটলে অবশ্যই মামলা করবেন। কারণ মামলা হলে তখন এই সব চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশ কাজ করতে পারবে। গ্রেপ্তার হওয়া ডাকাত দলের প্রত্যেক সদস্যের বিরুদ্ধে পাঁচ থেকে ১২টি পর্যন্ত মামলা রয়েছে। তারা সবাই পেশাদার ডাকাত দলের সদস্য।

অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মতিঝিল বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রেপ্তাররা নিজেদের আড়াল করতে অত্যন্ত কৌশলী। তারা নানা প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করত। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

খাজা/জোবাইদা/অমিয়/

এক প্রক্সিপ্রার্থীর খোঁজে এসে ধরা আরেক প্রক্সিপ্রার্থী

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৪, ০৯:৫৮ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৪, ১১:১৮ এএম
এক প্রক্সিপ্রার্থীর খোঁজে এসে ধরা আরেক প্রক্সিপ্রার্থী
অভিযুক্ত কাউসার আলী। ছবি: খবরের কাগজ

নিজেই অন্তত তিনটি সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অন্যের হয়ে প্রক্সি দিয়েছেন। বেশিরভাগ সময়ে দক্ষ প্রক্সিপ্রার্থীও খুঁজে দিয়েছেন জয়পুরহাট জেলার কাউসার আলী। গেল ১০ বছর থেকে সরকারি বিভিন্ন গ্রেডের চাকরির পরীক্ষায় প্রক্সিকাণ্ডে জড়িত এই কাউসার। এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) প্রক্সিপ্রার্থী খুঁজতে এসে শিক্ষার্থীদের হাতে ধরা পড়ছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফলিত পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী দাবি করা এই অভিযুক্ত। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল টিম তাকে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

জানা যায়, শিক্ষক নিবন্ধন লিখিত পরীক্ষার জন্য জয়পুরহাট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক রেজার জন্য ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে ‘প্রক্সি’ পরীক্ষার্থী খুঁজে দেওয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন কাউসার। সবই ঠিক ছিল কিন্তু প্রক্সিদাতার সঙ্গে দেনদরবারে না মেলায় তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতিতে আনা হয় বলে দাবি অভিযুক্ত কাউসার আলীর।

তিনি বলেন, ‘শনিবার এনটিআরটিসির লিখিত পরীক্ষা ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে এক প্রক্সিপ্রার্থীর খোঁজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি। সোলায়মান রবিন নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে এ ব্যাপারে কথাও হয়। সবই ঠিক ছিল, কিন্তু এখানে আসার পর তারা আগে টাকার দাবি করে। আমি বলেছি পরীক্ষা শেষে টাকা দেব। কিন্তু আগে দেওয়ার জন্য জোর করে। পরে দাবিতে রাজি না হলে, শিক্ষার্থীদের কাছে আমাকে তুলে দিয়ে সটকে পড়ে।’

সাংবাদিক সমিতিতে কাউসারকে আনেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছিলেন লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ও বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের কর্মসংস্থান সম্পাদক পল্লব রানা পারভেজ।

পল্লব বলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যায় আমার বন্ধু বিজয় একাত্তর হল ও যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগের শিক্ষার্থী পিয়ার সাকিব সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যেতে বলে এবং সে বলে সেখানে এক প্রশ্নফাঁস চক্রের সদস্যকে ধরা হয়েছে। কয়েকজনকে নিয়ে যেন সেখানে যাই। পরে সেখানে গিয়ে কাউসার নামে ওই লোকের ফোনে ৫০০-এর বেশি চাকরি পরীক্ষার প্রবেশপত্র পাই। পরে আর বোঝার বাকি নেই সে প্রক্সি বা প্রশ্নফাঁস চক্রের সদস্য। পরে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সাংবাদিক সমিতিতে তাকে নিয়ে আসি।’

জড়িত থাকার অভিযোগ ঢাবি-জবিসহ ৯ শিক্ষার্থীর
সাংবাদিকদের সঙ্গে অভিযুক্ত কাউসারের আলাপচারিতায় উঠে আসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বগুড়ার সরকারি আজিজুল কলেজের শিক্ষার্থীদের নাম। যারা কি না এই প্রক্সিচক্রে বেশ সক্রিয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের শিক্ষার্থী আলী আব্বাস ও ইফরাত হোসাইন, বিজয় একাত্তর হলের সোলাইমান রবিন ও ইকবাল হোসাইন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীর রাকিব হাসান।

এ ছাড়া আজিজুল হক কলেজের বাংলা বিভাগের আজিজুল, ইসলামের ইতিহাস বিভাগের রায়হান, ভুগোল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী শিমুল, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের আবুজর গিফারির নামের কথা জানান কাউসার। 

প্রাথমিক চুক্তি ২০ হাজার, টিকলে লাখ টাকা
কাউসারের হোয়াটসঅ্যাপে শত শত চাকরির প্রবেশপত্র মিলেছে। কাউসার জানায়, প্রক্সির এই চুক্তিতে প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার টাকার চুক্তি হয়। যেটিকে টিএ/ডিএ বলছেন তিনি। এ সময়ে পরীক্ষার প্রবেশপত্রও জমা রাখা হয়। টিকলে প্রক্সিপ্রার্থী পাবেন এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা।

জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবির কুয়াতপুরের বাসিন্দা কাউসার বলেন, ‘রেলওয়ের পয়েন্টসম্যান, খালাসি ও ময়মনসিংহ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার পদে ভিন্ন তিনজনের পরীক্ষায় প্রক্সিপ্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছিলাম। গত ২৮ জুন রেলওয়ের পয়েন্টসম্যান পদের পরীক্ষায় ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে অংশ নিয়েছিলাম। এ ছাড়া গত ৪ মে অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার পদের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রিলিমিনারিতে বগুড়া আজিজুল হক কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আমিনুলের মাধ্যমে মুহাম্মদ বুলবুল ইসলাম নামের একজন প্রার্থীর পরীক্ষায় বসিয়েছিলাম। ওই পরীক্ষায় প্রিলিতে পাস হয়েছিল।’

ফোনে প্রশ্ন চেয়ে কাউসারকে একাধিক কল, পুলিশে সোপর্দ
ঢাবি সাংবাদিক সমিতিতে অবস্থানকালে কাউসারের কাছে একাধিক জায়গা থেকে ফোনকল আসে এবং যে কলগুলোতে এনটিআরসিএর বিভিন্ন পরীক্ষার নিয়োগ লিখিত পরীক্ষায় গণিত পরীক্ষার প্রশ্ন পাওয়ার কথা বলা হয়। পরে প্রক্টরিয়াল টিমকে পুরো বিষয়টি জানানো হলে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘শুক্রবার রাতেই আমরা অভিযুক্তকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করি। সে এখন পুলিশ হেফাজতে আছে। তার দেওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তা ছাড়া আটক ওই ব্যক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষার্থীর নাম বলেছে, সেসবেরও খোঁজ নিয়ে যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ওইসব হলের প্রাধ্যক্ষদের কাছে নাম পাঠানো হয়েছে।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হয় শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাজিরুর রহমানের সঙ্গে। মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে ফোনকল ও বার্তা পাঠানো হলে তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

আরিফ জাওয়াদ/সাদিয়া নাহার/অমিয়/

গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৫

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ১২:৩৮ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ১২:৩৮ পিএম
গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৫
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা (মতিঝিল) বিভাগ।

শুক্রবার (১২ জুলাই) দুপুরে ডিবি মতিঝিল বিভাগের অবৈধ অস্ত্র জব্দ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. এরশাদুর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত বুধবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মতিঝিল থানার এজিবি কলোনি এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ ডাকাত সদস্যকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি ডিবির জ্যাকেট, দুটি চাকু, দুটি ডিবি পুলিশ লেখা স্টিকার, একটি প্লাস্টিকের খেলনা পিস্তল, একটি লেজার লাইট, দুটি মোবাইল এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ডাকাত সদস্যরা ডিবি পুলিশ পরিচয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন মহাসড়কের নির্জন স্থানে টার্গেট ব্যক্তি ও পণ্যবাহী গাড়ি আটকে ডাকাতি করে আসছিল। অভিযুক্ত সবাইকে মতিঝিল থানায় ডাকাতির মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পাটখেতে মিলল প্রবাসীর স্ত্রীর গলাকাটা মরদেহ

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ১০:২৭ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ১১:১৪ এএম
পাটখেতে মিলল প্রবাসীর স্ত্রীর গলাকাটা মরদেহ
স্মৃতি আক্তার

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলায় পাটখেত থেকে কাতার প্রবাসীর স্ত্রীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

শুক্রবার (১২ জুলাই) সকালে পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের হালুয়াপাড়া এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

নিহতের নাম স্মৃতি আক্তার (২৪)। তিনি একই এলাকার মানিক মিয়ার মেয়ে এবং উপজেলার মসূয়া এলাকার কাতার প্রবাসী আমিন ভূইয়ার স্ত্রী।

এলাকাবাসী জানান, পাঁচ বছর আগে আমিন ভূইয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় স্মৃতির। পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে দেশে ফিরে স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়িতে রেখে কাতার চলে যান আমিন। এরপর থেকে স্মৃতি বাবার বাড়িতেই থাকতেন। তাদের কোনো সন্তান নেই। শুক্রবার সকালে পাটখেতে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবরে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ স্মৃতির মরদেহ উদ্ধার করে।

স্মৃতি আক্তারের পরিবার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) রাত ৮টা থেকে ৯টার দিকে আমিনের সঙ্গে কথা হয় স্মৃতির। এ সময় স্মৃতিকে আমিনের বাড়িতে চলে যাওয়ার কথা বলেন। শুক্রবার সকালে শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল স্মৃতির। সকালে তার মরদেহ পাওয়া যায়।’

নিহতের বাবা মানিক মিয়া বলেন, “আমার মেয়েকে একই এলাকার মুজিবুরের ছেলে মেহেদী বিরক্ত করত। আমার মেয়েরে জোর কইরা নিয়া যাইতে চাইত। তার সঙ্গে না গেলে আমার মেয়ে ও আমারে মাইরা ফেলার হুমকি দেয় মেহেদী। আমারে মারধরও করতে আসত। মেহেদী বলত, ‘হয়তো ছেরি শেষ হইব, নাহয় বাপ শেষ হইব।’ আমারে মারতে পারে নাই, আমার মেয়েরে মাইরা ফেলছে মেহেদী ও মুজিবুর। এরা একা মারে নাই, এদের সঙ্গে আরও পার্টি ছিল। আমার ছেরির রগ কাটছে, বুক ফারছে, গলা কাটছে।”

নিহতের মা ফেরদৌসী আক্তার বলেন, ‘মেহেদী এই কাজ করছে। আমার মেয়েকে বিয়ে করতে চাইত। আমার মেয়ে রাজি হয় নাই। আমার মেয়েকে বিয়ে না করতে পারায় মেরে ফেলছে।’

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ দাউদ বলেন, ‘৯৯৯ এ ফোন দিয়ে নিহতের চাচা আমাদের জানায় স্মৃতি আক্তারের মরদেহ পাটখেতে পড়ে আছে। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলছে। শিগগিরই এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পারব। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

মিতু/পপি/অমিয়/

ভারতীয় সিনেমা দেখে ব্যারিস্টার সুমনকে হত্যার হুমকি

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৪, ০৯:৩১ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৪, ০৯:০৭ এএম
ভারতীয় সিনেমা দেখে ব্যারিস্টার সুমনকে হত্যার হুমকি
হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন

ভারতীয় সিনেমা দেখে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে হত্যার হুমকির নাটক সাজানো হয়েছিল। সোহাগ মিয়া নামে এক যুবক এমন নাটক সাজান। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি স্বীকার করেছেন তিনি। 

বুধবার (১০ জুলাই) বিকেলে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার আক্তার হোসেন প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার জানান, গত ২৮ জুন হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে হত্যা করতে একটি গ্রুপ মাঠে রয়েছে বলে চুনারুঘাট থানার ওসিকে জানায় অজ্ঞাত এক যুবক। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই ব্যারিস্টার সুমন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে মাঠে নামে পুলিশ। পরে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকা থেকে হুমকিদাতা সোহাগ মিয়াকে (২৭) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার মোবারকপুর গ্রামের বাসিন্দা।

আক্তার হোসেন আরও জানান, পুলিশের কাছে ওই যুবক স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তিনি ভারতীয় একটি সিনেমায় দেখেছিলেন হত্যার হুমকি দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা। এরপর ব্যারিস্টার সুমনকে হুমকি দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু ব্যারিস্টার সুমন বা তার পিএসের মোবাইল নম্বর না পেয়ে থানার ওসির মাধ্যমে হুমকি দিয়েছেন। তার ধারণা ছিল, এতে ব্যারিস্টার সুমন ভয় পেয়ে প্রাণ রক্ষার জন্য তাকে টাকা দেবেন। ব্যারিস্টার সুমন কয়েকটি ফেসবুক লাইভে তার জীবনের ঝুঁকি আছে বলে জানিয়েছিলেন। আর এই সুযোগটাই কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন হুমকিদাতা।

এসপি বলেন, ‘ওই যুবক একাই এই পরিকল্পনা করেছিলেন। তার সঙ্গে আর কেউ জড়িত নন। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’