বগুড়ায় স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় রিকশাচালক বাবা শাকিলকে পিটিয়ে হত্যা করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জিতু ইসলাম। তিনি পদ পাওয়ার পর বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ১০১ সদস্যের কমিটিতে জিতু ইসলামকে সহ-সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, স্বেচ্ছাসেবক দলে বড় পদ পাওয়ায় জিতু ইসলাম বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তার সঙ্গে জেলা যুবলীগের সভাপতি শুভাশীষ পোদ্দার লিটনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এলাকায় বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা করতেন জিতু। বালু ব্যবসা নিয়ে বিরোধে ২০০৩ সালে প্রতিপক্ষ রবিউল ইসলামকে হত্যা করেন তিনি। এ মামলায় তার ১৪ বছরের সাজা হয়। কয়েক বছর আগে জেল থেকে ছাড়া পায় জিতু। এরপর এলাকায় পছন্দের সন্ত্রাসীদের নিয়ে ‘জিতুবাহিনী’ গড়ে তোলেন।
জানা গেছে, রিকশাচালক শাকিল আহম্মেদের নাবালিকা মেয়েকে বিয়ে করতে চান স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ৪৩ বছর বয়সী জিতু ইসলাম। কিন্তু শাকিল রাজি না হওয়ায় তাকে হুমকি দেওয়া হয়। শাকিল আহম্মেদ নির্যাতনের ভয়ে পালিয়ে গিয়ে শিববাটি এলাকায় তার বোনের বাড়িতে আশ্রয় নেন। গত ১৪ জুন দুপুরে জিতু ও তার দলবল শাকিলকে তার বোনের বাড়ি থেকে ধরে ফুলবাড়ি এলাকায় করতোয়া নদীর নয়াঘাট এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ ফেলে পালিয়ে যান। তবে গাছের ডাল দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা পর্যন্ত পুরো ঘটনা ভিডিও করেন জিতুর সহযোগীরা। দুই মিনিট ২৫ সেকেন্ডের সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় শাকিল আহম্মেদের স্ত্রী মালেকা খাতুন গত রবিবার সকালে সদর থানায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ১০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এর আগেই পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জিতু ইসলাম (৪৩), তার সহযোগী মতিউর রহমান মতি (৩২) ও শফিকুল হাসান বিপ্লবকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের ৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। তবে গতকাল সোমবার পর্যন্ত আর কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফুলবাড়ি ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) জোবায়েদ খান জানান, জিতুর বিরুদ্ধে এর আগের একটি হত্যা ও দুটি ডাকাতিসহ ৬টি মামলা রয়েছে।
রিমান্ডে আসামিরা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে কী জানিয়েছে, এ প্রশ্নের জবাবে জোবায়েদ খান বলেন, ‘রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন সোমবার তিনজনই জানিয়েছে, তারা ইচ্ছা করে বা পরিকল্পিতভাবে শাকিলকে হত্যা করেননি। তাকে পেটানো হলে দুর্ঘটনাবশত তিনি মারা যান।’
তিনি জানান, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।