মুরাদনগরে বসতঘরের দরজা ভেঙে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক নারীকে ধর্ষণের আলোচিত ঘটনায় প্রধান আসামি ফজর আলীসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন ৫ জন। ধর্ষক ফজর আলী (৩৮) মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের বাসিন্দা। গত বৃহস্পতিবার একই গ্রামে ঘটে ওই ঘটনা। ধর্ষণকাণ্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পরার পর সারাদেশে এ নিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এই ভয়াবহ কাণ্ডের ভিডিও দেখে জনমনে প্রশ্ন জাগে, কে এই ফজর আলী? কোথায় তার ক্ষমতার উৎস।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে মূলত ফজর আলীর সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর আগে থেকেই পরিচয় ছিল। ভুক্তভোগী নারী বলেন, টাকা ধার নেওয়া নিয়ে ফজর আলীর সঙ্গে তাদের পরিবারের পরিচয় ঘটে। এ সূত্র ধরেই ফজর আলী বাড়িতে ঢোকেন।
তিনি জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে স্বামীর বাড়ি থেকে বাহেরচর গ্রামের বাবার বাড়িতে সন্তানদের নিয়ে বেড়াতে আসেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ফজর আলী তার বাবার বাড়ি গিয়ে ঘরের দরজা খুলতে বলেন। এ সময় দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানালে ফজর আলী ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করেন।
এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমাদের হিন্দুপাড়ায় প্রতি সপ্তাহে হরিসেবা অনুষ্ঠান হয়। আমাদের পাশের গ্রামের হিন্দু ধর্মের লোকদের সূত্রে আমরা এখানে পোলাপান হাঁটাহাঁটি করছিলাম। পরে আমাদের এক কাকার কাছে জানতে পারি যে তাদের পাশের ঘরে অনেকে ধস্তাধস্তি করছেন। আমরা গিয়ে দেখি ঘরের দরজা খুলতে গিয়ে দরজা ভাঙা। ঘরে ঢুকে দেখি আমাদের গ্রামের মুসলমান একটা ছেলেসহ দুজন ওই নারীকে জোর করে ধর্ষণ করার চেষ্টা করছে। পরে মেয়েটারে আমরা হেফাজতে নিয়ে ছেলেটারে আমরা সবাই আটকে রেখে তার ফ্যামিলির খবর দেই। তার ফ্যামিলি আসে কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত হলেও তাদের অন্য একটা শক্তি আছে। প্রভাবশালী লোকদের সঙ্গে থাকে। বিশেষ করে আমাদের ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আপনার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আর বিএনপি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সে অ্যাক্টিভ। যদিও কোনো কমিটি না হওয়াতে সে কোনো পদে নাই কিন্তু বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে পুরাপুরি অ্যাকটিভ।’
এ প্রসঙ্গে মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন দাবি করেন, ‘বিএনপির সঙ্গে ফজর আলীর কোনো সম্পর্ক নেই। এ ছাড়া এ ঘটনায় জড়িতরা বিএনপির কর্মীও না। সে আওয়ামী লীগ করে যা আমাদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করতেছে। তারা খোকন চেয়ারম্যানের লোক।‘
রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া খোকন বলেন, ‘আমি একজন চেয়ারম্যান। আমার কাছে যে কেউ আসতেই পারে। উনি (বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন) যে কীভাবে বলল আমি জানি না। আমার বলতে আমি একা প্রায়। আমি কোনো আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান না। আমি জনগণের মনোনীত চেয়ারম্যান। আমার কাছে খারাপ সব লোকে আসে। বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াত, এনসিপি সবাই আসে।‘
এদিকে সোশাল অ্যাকটিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘ফজর আলী আগে আওয়ামী লীগ করত সেটি নিয়ে কারো মধ্যে দ্বিমত নেই। তবে ৫ আগস্টের পর সে কাদের ইশারায় কাদের ব্যাকআপে এলাকায় আছে সেটি জানা তো আহামরি কঠিন কিছু না। ব্যাকআপ না থাকলে তো সে লীগ হিসেবেই একপ্রকার দৌড়ের ওপর থাকত।’
এ ঘটনার মূল হোতা ফজর আলী গ্রেপ্তারের পর বর্তমানে হাসপাতালে রয়েছেন। তার জবানবন্দি নেওয়ার পরই হয়ত খোলাসা হবে সবকিছু।
মেহেদী/অমিয় /