সম্প্রতি ফরিদপুর শহরের আবাসিক এলাকায় ফ্লাট বাসা ভাড়া নিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ চালানো চক্রের তিন সদস্যকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। আর ওই ফ্লাটটি ভাড়া নেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অফিস সহায়ক আব্দুল আওয়াল।
জানা গেছে, শহরের দক্ষিণ আলীপুরের একটি চারতলা ভবনের নিচের তলার একটি ফ্লাটে বহিরাগত ছেলেমেয়েদের আনাগোনা দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। ফ্লাটে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশে খবর দেন তারা। এরপর কোতোয়ালি থানার এসআই হাসান শিকদারের নেতৃত্বে পুলিশ এসে তাদের আটক করে।
আটকরা হলেন, সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী চুনাঘাটা বেড়িবাঁধ এলাকার মোস্তফাডাঙ্গী গ্রামের জুয়েল বিশ্বাস (৪০), দক্ষিণ টেপাখোলার মুন্সিডাঙ্গীর মাহিয়া (২০) ও কৈজুরি ইউনিয়নের চর মঙ্গলকোটের বাসিন্দা দুলি বেগম (৩৫)। তাদের বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থেকে গণ-উপদ্রব সৃষ্টির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
কোতয়ালী থানার এসআই হাসান শিকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয়রা অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকায় তাদের আটক করে ৯৯৯ এ ফোন দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের আটক করে। আটকরা বিভিন্ন অসামাজিক কাজে লিপ্ত থেকে যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ধাবিত করছিল। এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে ও সাক্ষ্যে অপরাধের সত্যতা পাওয়া গেছে। ইতোপূর্বেও তারা মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়।
স্থানীয় যুবক অন্তু বলেন, ফ্লাটটিতে তখন দুলি ও ২ যুবতী সহ পাঁচজন ছিল। সেখানে তারা ইয়াবা সেবনের জন্য সূচ লাগানো সিরিঞ্ সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম দেখতে পান। কিছুক্ষণ পূর্বে সেবন করা হয়েছে এমন গন্ধও তারা পেয়েছেন। পরে সেখানে আউয়াল উপস্থিত হন। তিনি তাদের ধরিয়ে নেওয়ায় ফ্লাটের অন্যদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
ঘটনার পরপরই জিজ্ঞাসাবাদে দুলি স্বীকার করে, শহরের আরও বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্লাট ভাড়া নিয়ে তাদের এই অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলছে। এই কাজে সে মেয়ে সরবরাহ করে। জুয়েল ও দুলি এর আগে শহরের আলীপুর মোড়ে একটি আবাসিক হোটেল থেকে গ্রেপ্তার হয়।
ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নাজির মুন্সি মোখলেসুর রহমান নিশ্চিত করেন, আব্দুল আউয়াল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অফিস সহায়ক পদে স্থায়ী ভিত্তিতে চাকরি করছেন। ২০২২ সালের ৩ জুলাই মধুখালীতে চাকরি করার সময় রাতের আঁধারে গাছের গলুই চুরির অভিযোগে স্থানীয়রা তাকে আটক করে। ফ্লাট বাসায় এই দেহ ব্যবসার চক্রে তার সম্পৃক্ততা নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।
ওই ফ্লাটের মালিক জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এ মাসেই ফ্লাটটি আব্দুল আউয়াল ৯ হাজার টাকায় ভাড়া নেন।’ তিনি বলেন, ‘আব্দুল আউয়াল ডিসি অফিসে চাকরি করেন, এ বিষিয়টি নিশ্চিত হয়ে তাকে ফ্লাটটি ভাড়া দিই। ওই ফ্লাটে স্ত্রী ও শ্বাশুড়িকে নিয়ে তিনি বসবাস করবেন বলে জানান।’
জাহাঙ্গীর আরও জানান, আগের ভাড়াটিয়া মাস শেষ হলেও তার সব মালপত্র নিয়ে যেতে পারেননি। তিনি কয়েকদিন পর নতুন ভাড়াটিয়াকে ওঠানোর অনুরোধ জানান। তবে তার আগেই গত শনিবার নতুন ভাড়াটিয়া ফ্লাটে উঠে যান। তবে এখন এ ঘটনা জানতে পেরে তাদেরকে ফ্লাট ছেড়ে দিতে বলেছি।
এ বিষয়ে আব্দুল আউয়ালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই ফ্লাট তিনি নন, জুয়েল ভাই ভাড়া নেন।’ ঘটনার দিনে জুয়েল তাকে ফোন করে বিষয়টি জানালে তিনি সেখানে যান দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের ছাড়ানোর জন্য কিছু বলিনি, কাউকে হুমকিধামকিও দেইনি।’ ফ্লাট মালিক তাকেই ভাড়া দিয়েছেন বলে জানিয়েছে, এ কথার জবাবে আউয়াল বলেন, ‘ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি কিছুক্ষণ পরে জানাবেন।’ তবে পরে আর কিছু জানাননি তিনি।
সঞ্জিব দাস/মাহফুজ