ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কেমন গেল বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড ১৯ জুন ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি স্কটিশদের হিসাব মেলানোর রাত পুলিসিচকে ঘিরে উদ্বেগ লাল কার্ডের পর বসনিয়ার জালে সুইজারল্যান্ডের গোল উৎসব অসুস্থ মেসির বাবা, গুজব ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ পরিবার গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে সুইজারল্যান্ড-বসনিয়া অবশেষে কাটল ভিসা জটিলতা, কানাডায় খেলতে পারবেন ওয়াহি বিশ্বকাপে সহজ ম্যাচ বলে কিছু নেই: ডগলাস সান্তোস বিশ্বকাপে সৌদি আরবের জন্য ভিন্ন নিয়ম পেনাল্টি গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে রুখে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা অপ্সরার আন্তর্জাতিক অভিষেক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা গণপিটুনির শিকার তিন ডিবি সদস্য, উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি মেনে নাও, মেসি সেরা: রোনালদো নাজারিও কেইনের প্রেরণা এমবাপ্পে-হালান্ড কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ড: গ্রেপ্তার শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল টাঙ্গাইলে প্রতিমন্ত্রী টুকুর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে চেক প্রজাতন্ত্র টাকার অভাবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত, সহায়তার আবেদন রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ নেইমার ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ সাবেক মন্ত্রী হারুণ অর রশীদ অর নেই কুমিল্লায় মাদক মামলায় কারাবন্দি যুবদলকর্মীর মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হাইতির বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিলকে সুখবর দিল ফিফা ওয়ালটন পিসিবিএ'র রপ্তানি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ কনফারেন্স ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, গণপিটুনির শিকার তিন পুলিশ বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার

ককটেলে শেষ সিয়ামের বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন

প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৩৬ এএম
ককটেলে শেষ সিয়ামের বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন
ছবি: সংগৃহীত

সাদামাটা জীবনযাপন করতেন সিয়াম মজুমদার (২১)। পরিবারের দারিদ্র্য ঘোচাতে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো একটি দেশে গিয়ে কাজ করার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু ককটেলের আঘাতে এক মুহূর্তে তার সেই স্বপ্নের যবনিকাপাত ঘটেছে। জীবনটাই চলে গেছে সিয়ামের। তার মৃত্যুতে পরিবার দিশেহারা। এখন এ পরিবারকে দেখবে কে?

গত ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর মগবাজার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ডের সামনে ককটেল বিস্ফোরণে সিয়াম নিহত হন।

বাংলামোটর এলাকায় ‘জাহিদ কার ডেকোরেশন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন সিয়াম। নিউ ইস্কাটনের ‘দুই হাজার গলির’ একটি ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। সকালে বাসা থেকে কর্মস্থলে যেতেন এবং কাজ শেষে রাতে ফিরতেন বাসায়। নিজের উপার্জনের পুরো টাকা তিনি মা-বাবার হাতে তুলে দিতেন। ছোট ভাই সিজান মজুমদারও এই এলাকার কে এম কার ডেকোরেশনে চাকরি করেন।

গতকাল শনিবার মুঠোফোনে কথা হয় নিহত সিয়ামের ছোট ভাই সিজান মজুমদারের সঙ্গে। ভাইয়ের প্রসঙ্গে কথা শুরু করতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন সিজান। নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়ে নানা ক্ষোভ জানিয়ে সিজান খবরের কাগজকে বলেন, ‘বাবা রিকশাচালক। তার একার আয়ে সংসার চলত না। তাই আমরা দুই ভাইও কাজ করতাম। তবে সিয়ামের স্বপ্ন ছিল সে বিদেশ যাবে, সেখানে গিয়ে কাজ করে অনেক টাকা রোজগার করবে। ওই টাকা দিয়ে গ্রামে নতুন বাড়ি করবে এবং সেই বাড়িতে বাবা-মা থাকবেন। এ স্বপ্নের কথা প্রায় আমাদের বলত সিয়াম।’ 

সিজান বলেন, ‘সিয়ামের সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না। নাশতা আনতে গিয়ে ককটেল মাথায় পড়ে আমার ভাইটা মারা গেল। পরিবারে আমরা দুই ভাই ছিলাম, এখন আমি একা। আমাদের পরিবারের কী হবে? এভাবে রাস্তায় দাঁড়ানো নিরীহ একজন মানুষ বোমার আঘাতে মারা গেল, অথচ সরকারের কেউই আমাদের খোঁজ নিল না!

গতকাল নিহত সিয়ামের কর্মস্থল বাংলামোটরের ‘জাহিদ কার ডেকোরেশন’ প্রতিষ্ঠানে গিয়ে জানা গেছে, চার বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানের একজন স্টাফ হিসেবে কাজ করতেন সিয়াম। বেতন পেতেন ১৩ হাজার টাকা। বেতনের পুরো টাকাই তিনি পরিবারের হাতে তুলে দিতেন। 

প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত স্টাফ ওহিদুল হাওলাদার খবরের কাগজকে বলেন, ‘সিয়াম আমাদের প্রতিষ্ঠানে স্টাফদের মধ্যে বয়সে সবার ছোট ছিল। তার আচার-ব্যবহার খুব ভালো ছিল। যে কাজ দেওয়া হতো, সেটি আন্তরিকভাবে করত। ঘটনার দিন সিয়াম আমাদের সবার জন্য নাশতা আনতে গিয়েছিল। সঙ্গে একটি কেটলি নিয়ে যায়, চা আনতে। ওই চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে থাকতেই আকস্মিকভাবে দুর্বৃত্তদের ছোড়া ককটেল পড়ে সিয়ামের মাথায়। সিয়ামের মৃত্যুর খবর শুনেই আমরা দ্রুত সেখানে ছুটে যাই। কিন্তু তার এমন অবস্থা আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলাম না।’

তিনি বলেন, ‘সিয়ামের পরিবার অনেক গরিব। আর্থিক সংকট ও ঋণগ্রস্ত হবার কারণে পরিবারকে ঢাকা নিয়ে এসেছিল বলে আগে জানিয়েছিল সিয়াম। ঘটনার পর আমরা সিয়ামের পরিবারকে সহযোগিতা করেছি। সিয়ামের বাবাকে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে আরও সহযোগিতা আমরা করব। কারণ সিয়াম আমাদের স্টাফ ছিল, খুব ভালো ছেলে ছিল।’

গত ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে ইস্কাটন-মগবাজার সড়কের ‘মিডিয়া গলির’ সামনে ফ্লাইওভার থেকে দুর্বৃত্তদের ছোড়া ককটেল মাথায় পড়লে ঘটনাস্থলেই মারা যান পথচারী সিয়াম মজুমদার। এই ঘটনায় নিহতের বাবা আলী আকবর মজুমদার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা করেন। ঘটনার চারদিন পার হলেও কোনো আসামি শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ বলছে, আসামিদের শনাক্তে একাধিক অভিযান চলছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল ও আশপাশের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে, তা বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে। 

পুলিশ জানায়, ধারণা করা হচ্ছে মোটরসাইকেলযোগে দুর্বৃত্তরা ফ্লাইওভার থেকে ককটেলটি ছুড়ে মেরে পালিয়ে যায়। ফ্লাইওভারের যে স্থান থেকে ককটেলটি নিক্ষেপ করা হয়েছিল, ওই স্থানে কোনা সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না। যে কারণ আসামি শনাক্তে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইদুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের বেশ কিছু সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে আসামি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে থানার একাধিক টিম বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে। 

গতকাল ইস্কাটন-মগবাজারের ওই ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মিডিয়া গলির সামনে ফুটপাতের পাশে বালি ফেলে রক্তের দাগ ঢেকে রাখা হয়েছে। ফুটপাতের পাশে সেই ফারুক টি-স্টলটি এই কদিন বন্ধ থাকলেও গতকাল বিকেল থেকে আবার চা-বিক্রি শুরু হয়। দোকানি বারবার তাকাচ্ছিলেন সিয়ামের পড়ে থাকা স্থানটিতে। চা খেতে এসে অনেকেই ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞেস করছিলেন দোকানিকে, কিন্তু তিনি মলিন মুখে কিছুই বলছিলেন না।

চা নেওয়ার জন্য সিয়াম যে কেটলিটি এনেছিলেন, সেটি ওই চা দোকানে থাকতে দেখা গেছে। দোকানি মো. ফারুক হোসেন গতকাল খবরের কাগজকে বলেন, ‘ছেলেটা (সিয়াম) আমার দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল, আমি চা বানাচ্ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ আর ধোঁয়া। দেখলাম মাটিতে সিয়াম উপুড় হয়ে পড়ে আছে। মাথা দিয়ে রক্ত ঝরছিল। সেই দৃশ্য এখনো মনে হয়, রাতে ঘুম ঠিকমতো হয় না। এতদিন দোকান বন্ধ রাখছিলাম, কিন্তু পেটের দায়ে খুলতে হলো।

মাগুরায় নবজাতককে বিক্রি করলেন বাবা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
মাগুরায় নবজাতককে বিক্রি করলেন বাবা
ছবি: খবরের কাগজ

মাগুরায় নিজের সদ্যোজাত মেয়েকে স্ত্রীর অজান্তে বিক্রি করে দেওয়ার মতো এক  চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ নাটকীয়তা ও প্রতারণার পর, অবশেষে জেলা পুলিশের তৎপরতায় শিশু টুকটুকিকে (১ মাস ২৫ দিন) উদ্ধার করে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত ৮টায় এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য জানান মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম-সেবা।

প্রেস ব্রিফিংয় সূত্রে জানা গেছে, মাগুরা সদর থানাধীন বেরইল পলিতা ইউনিয়নের রামদেরগাতী এলাকার বাসিন্দা মো. সাগর হোসেন (৩৪) গত ২৭ মে ২০২৬ তারিখে তার স্ত্রী তানজিলা খাতুনের অজান্তে তাদের নবজাতক সন্তানকে অবৈধভাবে বিক্রি করে দেন। তিনি মাত্র ২৫,০০০/- (পঁচিশ হাজার) টাকার বিনিময়ে একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে সন্তানটিকে মঘী ইউনিয়নের দক্ষিণ বীরপুর এলাকার দম্পতি মো. শাহাবুর (২৮) ও মনিরা খাতুন (২৫)-এর নিকট হস্তান্তর করেন।  

সন্তানকে না পেয়ে মা তানজিলা খাতুন ব্যাকুল হয়ে খোঁজ করতে থাকলে, অভিযুক্ত পিতা সাগর হোসেন ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এক অবিশ্বাস্য নাটকের আশ্রয় নেন। তিনি স্ত্রীকে বিভ্রান্ত করতে মিথ্যা তথ্য ছড়ান যে, শিশুটিকে 'জ্বীনে' নিয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, জ্বীনের মাধ্যমেই সন্তানকে ফিরিয়ে আনা হবে—এমন ভুঁয়া আশ্বাস দিয়ে তিনি দীর্ঘ প্রায় দুই মাস অতিবাহিত করেন।  

পরবর্তীতে এ ঘটনাটি মাগুরা জেলা পুলিশের নজরে আসলে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় শত্রুজিৎপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই শুভংকর রায় তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে নামেন। পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে প্রকাশ্যে ও গোপনে নিবিড় তদন্ত শুরু করে। 

ধারাবাহিক তদন্ত, উন্নত তথ্যপ্রযুক্তি এবং স্থানীয় সোর্সের সহায়তায় আজ দুপুরে পুলিশ শিশুটির ক্রেতা শাহাবুর ও মনিরা খাতুনের বাড়ি থেকে শিশু টুকটুকিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধারের পর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অবুঝ শিশুটিকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, এ জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। 

কাসেমুর রহমান/নাঈম

টঙ্গীতে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
টঙ্গীতে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার হওয়া হানি ট্র্যাপ চক্রের তিন সদস্য। ছবি: খবরের কাগজ

গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রেমের প্রলোভনে ফাঁদে ফেলে আটকে রেখে যুবকদের মারধর এবং টাকা আদায়ের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ হানি ট্র্যাপ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ ঘটনায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ জুন টঙ্গীর মুদাফা এলাকার কনসেপ্ট গার্মেন্টস সংলগ্ন একটি ছয়তলা ভবনের চতুর্থ তলায় ভুক্তভোগী সালেহীন মিয়া (২৮) ও তার বন্ধু টিটু মিয়াকে এক নারী সদস্যের মাধ্যমে প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা তাদের একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ ৭৬ হাজার টাকা ও একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয় হানি ট্রাপ চক্র।

এর আগে টঙ্গী পশ্চিম থানায় পেনাল কোডে মামলা করা হয়। মামলার তদন্তে নেমে এসআই এসএম মেহেদী হাসান তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সঙ্গীয় ফোর্সের নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচ সদস্যের হানি ট্র্যাপ চক্রের মধ্যে দুই নারী ও এক পুরুষ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের কাছে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, গ্রেপ্তাররা একটি সংঘবদ্ধ হানি ট্র্যাপ চক্রের সদস্য এবং এর আগেও তারা একই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। হানি ট্র্যাপসহ যেকোনো ধরনের প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। সাধারণ মানুষকে এ ধরনের প্রতারণামূলক ফাঁদ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। কোনো সন্দেহজনক ঘটনার শিকার হলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করছি।

পলাশ প্রধান/নাঈম

নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গণপিটুনি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গণপিটুনি
ছবি: খবরের কাগজ

নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মিন্টু গাজীকে (৪৫) গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। তাকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) রাত ১২টার দিকে পৌরসভার দুর্গাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটক মিন্টু গাজী দুর্গাপুর এলাকার খালেক গাজীর ছেলে ও সম্পর্কে শিশুটির সৎবাবা।

পুলিশ ও ​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল পৌরসভার দুর্গাপুর এলাকার মিন্টু গাজী বুধবার রাত ১২টার দিকে সৎমেয়েকে (১২) নিয়ে মাছ ধরার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। দুর্গাপুর রেলষ্টেশনের পাশে নিয়ে তাকে যৌন হয়রানি করে। এ সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ তাকে আটক করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে হাসপাতালের বারান্দায় পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা চলছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সদর থানার ভরাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ’এ ঘটনায় সদর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

​শরিফুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/

চট্টগ্রামের নিখোঁজের ২ দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:০২ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
চট্টগ্রামের নিখোঁজের ২ দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের পটিয়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর পাঁচ বছর বয়সী শিশু মো. জায়হানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে পটিয়া পৌরসভার দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকার একটি ময়লার ভাগাড় থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিহত জায়হান স্থানীয় গ্যারেজ ব্যবসায়ী শাহজাহানের একমাত্র ছেলে। সে এলাকার একটি নূরানি মাদরাসায় পড়াশোনা করত।

পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিরা একই পরিবারের সদস্য এবং তাদের বসতঘরের পেছনের অংশ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে বাড়ির সামনের সড়কে খেলতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় জায়হান। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান মেলেনি। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেন, হয়তো সে পাশের পুকুরে পড়ে গেছে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুকুরে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি পটিয়া থানাকে অবহিত করে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর শাহজাহানের ঘরে একটি হাতে লেখা চিঠি পাওয়া যায়। সেখানে শিশুটিকে ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ চিঠিটি জব্দ করে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।

স্বজনদের দাবি, অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছিল। পরে ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে হত্যা করে মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করা হয়। তাদের অভিযোগ, সন্দেহভাজনরা পুরো সময়জুড়ে পরিবারের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার ভান করে গেছে।

পটিয়া থানার  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং জড়িত থাকার সন্দেহে আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

রাফিউল আলভী/খাদিজা রুমি/

লৌহজংয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:২০ এএম
লৌহজংয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা
ছবি: খবরের কাগজ

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে সোহেল মুন্সী (৩৯) নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (১৭ জুন) রাতে উপজেলার গাওদিয়া ইউনিয়নের কালুরগাঁও গ্রামে নিজ বাড়ির উঠানে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলেও আগুন দেওয়া হয়।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, নিহত সোহেল বুধবার রাতে রাতে খেয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। সন্তান নিয়ে পাশের ঘরে শ্বাশুড়ির সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন তার স্ত্রী নুপুর। গভীর রাতে বাড়ির ওঠানে আগুন দেখতে পেয়ে সোহেলের স্ত্রী ও মা ঘর থেকে বেড়িয়ে এসে দেখেন ওঠানে সোহেলের রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে এবং তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন জলছে। কে বা কারা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর হত্যা করে।

বিষয়টি স্থানীয়রা পুলিশকে জানালে ভোরে পুলিশ গিয়ে সোহেলের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগর-সিরাজদিখান সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনিছুর রহমান জানান, গভীর রাতে ঘর থেকে বের করে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। কি কারণে এ হত্যাকাণ্ড তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মঈনুদ্দীন সুমন/খাদিজা রুমি/