ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
গোল দিয়ে শুরু মরক্কোর জয়ের খোঁজে নেদারল্যান্ডস ফুরফুরে মেজাজে ইংলিশরা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে জয় পেল যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বিধিনিষেধ ফিফার কাছে অভিযোগ করবে ইরান ২-০ গোলে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র শুরুতেই আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিল-হাইতি ম্যাচে অভিষেক হবে স্প্যানিশ হার্নান্দেজের সিরিজ হারের পর বাংলাদেশ শিবিরে দুসংবাদ হোর্হে মেসির গুজব ছড়ানোয় বরখাস্ত তিস্তা মহাপরিকল্পনা শিগগিরই একনেকে পাস হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী চাঁদপুরের সানজিদার বিশ্বজয়, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ কোটি টাকার পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি জাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর আগমনে ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ ধর্ষণের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি মরক্কোর অধিনায়ক হাকিমি গণপিটুনির শিকার চার ডিবি সদস্য গ্রেপ্তার, অপহরণ চেষ্টার মামলা শিশুস্বাস্থ্যে বড় উদ্যোগ, ৬ মাসে চালু ৫ বিশেষায়িত হাসপাতাল জামালপুরে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ বিশ্বকাপে মরক্কোর নতুন বিস্ময় আয়ুব বুয়াদ্দি সংবাদ প্রকাশের জেরে বগুড়ার সাংবাদিক কারাগারে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের ২৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা ব্রাজিল ম্যাচে থাকছে বিরল ৫০০ বছরের পুরোনো ফুটবল লেখক শিবিরের ১৭তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর, স্বস্তির আশা ছারছীনা দরবার শরীফের মরহুম পীর ছাহেব স্মরণে মিশরে আন্তর্জাতিক সেমিনার হিলি স্থবন্দরের পাইকারি বাজারে বেড়েছে চালের দাম অস্ট্রেলিয়ার গতিময় কাউন্টার-অ্যাটাকে সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র নোয়াখালীতে মোটরের তারে জড়িয়ে প্রাণ গেলো মা-ছেলের প্রতিবেশী দেশ মাদক ঢুকিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করতে চায়: প্রতিমন্ত্রী টুকু রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান রাজবাড়ীতে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ইমাম গ্রেপ্তার

বিএনপি নেতা মুসাব্বির হত্যা: রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-আধিপত্য সামনে রেখে তদন্তে পুলিশ

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৩ এএম
আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৩ এএম
বিএনপি নেতা মুসাব্বির হত্যা: রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-আধিপত্য সামনে রেখে তদন্তে পুলিশ
আজিজুর রহমান মুসাব্বির

কয়েক দিন ধরে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি পরিবারকে বললেও তিনি থানায় কোনো জিডি বা অভিযোগ করেননি। এরই মধ্যে প্রকাশ্যে দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে নিহত হলেন মুসাব্বির। একই সময়ে গুলিবিদ্ধ হন কারওয়ান বাজার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সুফিয়ান বেপারি মাসুদ। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে ঘটনাস্থল ও আশপাশের একাধিক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বা এলাকাভিত্তিক আধিপত্য বিস্তারের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তসংশ্লিষ্টরা। 

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চার-পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করেন নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। তিনি অভিযোগ করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন আগে থেকে মুসাব্বিরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। কদিন ধরেই মুসাব্বির বলেছিলেন, আমার অনেক শত্রু হয়ে গেছে, যেকোনো সময় আমাকে মেরে ফেলতে পারে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, দুর্বৃত্তরা যখন মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়, তখন তিনি প্রাণে বাঁচতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। এ সময় মুসাব্বির বলছিলেন, ‘তোরা আমার এ কী করলি..রে…।’  

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকারীরা আগে থেকে এলাকায় অবস্থান নিয়েছিল। পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকারীরা মুসাব্বিরের পরিচিত ছিলেন। গুলি চালানোর সময় মুসাব্বির হয়তো দুর্বৃত্তদের চিনে ফেলেছিলেন। ঘটনাস্থল এবং এর আশপাশের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে ৭ দশমিক ৬৫ বোরের তিনটি গুলির খোশা উদ্ধারসহ অন্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এবং র‌্যাব সমন্বিতভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধনে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ওই হামলার মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। এতে এক পক্ষের আধিপত্য কিছুটা কমে যায়। এ ছাড়া ফার্মগেট এলাকায় একটি গ্যারেজ দখলকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল।

মুসাব্বির হত্যাকাণ্ডের পেছনে এসব ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

এ বিষয়ে গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান খবরের কাগজকে বলেন, বিএনপি নেতা মুসাব্বিরের কনুইতে একটি এবং পেটে একটি গুলি লাগে। আবু সুফিয়ানের একটি গুলি লেগেছে তার পেটে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত হিসেবে ৭ দশমিক ৬৫ বোরের বুলেটের তিনটি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে অস্ত্রধারী দুজনকে দেখা গেছে। তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, প্রাথমিকভাবে তা জানা যায়নি। তবে হত্যাকাণ্ডের মোটিভ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, এলাকার আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজিসহ সব দিক মাথায় রেখে এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান ডিসি ইবনে মিজান। 

এর আগে বুধবার রাত ৮টা ২০ মিনিটে তেজগাঁওয়ের স্টার কাবাবের পেছনে তেজতুরি বাজার এলাকার আহছানউল্লা টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (এআইটিভিইটি) ইনস্টিটিউটের সামনে গুলিবিদ্ধ হন মুসাব্বির এবং আবু সুফিয়ান। পরে তাদের উদ্ধার করে পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে নিলে মুসাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আবু সুফিয়ানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।

যা দেখা গেল সিসিটিভি ফুটেজে
মুসাব্বির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে পুলিশ জানায়, ফুটেজে দেখা গেছে স্টার কাবাবের পেছনের গলিতে বস্তা নিয়ে বসে ছিল দুজন দুর্বৃত্ত। স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মুসাব্বির ও সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদ একসঙ্গে হেঁটে যাচ্ছিলেন। মুসাব্বিরকে দেখামাত্র বস্তার আড়াল থেকে পিস্তল বের করে পেছন থেকে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে মুসাব্বির মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার হাতে থাকা মোবাইলফোন মাটিতে পড়ে যায়। মুসাব্বির আবার উঠে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তখনো গুলি চালানো হচ্ছিল। দুর্বৃত্তদের একজন কিছুক্ষণ থেমে মাটিতে পড়ে থাকা মুসাব্বিরের মোবাইলফোনটি তুলে নিয়ে পালিয়ে যায়।

গতকাল ঘটনাস্থলে আলাপকালে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্বৃত্তরা প্রথমে মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে একটি গুলি করে, সেটি লাগেনি। এ সময় তিনি পাশের একটি গলির ভেতরে ঢুকে পড়েছিলেন। ওই গলিতে বের হওয়ার পথ না থাকায় তিনি অন্য গলিতে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। এ সময় আরেক দফা গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। মুসাব্বিরের গায়ে গুলি লাগলেও তিনি দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। একটা গালি দিয়ে তিনি বলেন, ‘তোরা আমার এ কী কর..লি রে…।’ গলির মাথায় একটি দোকানের সামনে মুসাব্বির মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যান। অন্যদিকে গুলিবিদ্ধ সুফিয়ান ব্যাপারী পেটে হাত দিয়ে ক্ষত চেপে ধরে সেখানে পড়ে যান। দুর্বৃত্তরা এলাকা ছেড়ে তখন মূল সড়কে উঠে পালিয়ে যায়। 

থানায় মামলা
মামলার এজাহারে মুসাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম উল্লেখ করেন, বুধবার ৭ জানুয়ারি রাতে কাওরান বাজারের সুপারস্টার হোটেলের দ্বিতীয় তলায় প্রতিদিনের মতো বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন মুসাব্বির। আড্ডা শেষে ৮টা ১০ মিনিটে মাসুদকে নিয়ে বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। ৮টা ২০ মিনিটে তেজতুরি বাজারে আহসানউল্লাহ ইনস্টিটিউটের সামনে পাকা রাস্তায় পৌঁছালে ওত পেতে থাকা অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজন তাদের গতিরোধ করে পিস্তল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। এতে মুসাব্বিরের ডান হাতের কনুই, পেটের ডান পাশে গুলি লাগে। রক্তাক্ত জখম নিয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে বাঁচাতে সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদ এগিয়ে গেলে তাকেও গুলি করে হামলাকারীরা।

গতকাল তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৈশন্যু মারমা বলেন, সব দিক বিবেচনায় রেখে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় পুলিশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য ইউনিটও কাজ করছে। 

নয়াপল্টনে মুসাব্বিরের জানাজা-আজিমপুর গোরস্তানে দাফন
গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ জোহর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বিরের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব রবিন, ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর, যুববিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী শফু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াসিন আলীসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। পরে মুসাব্বিরের লাশ কারওয়ান বাজারে তার বাসভবন গার্ডেন ভিউতে নেওয়া হয়। বাদ আছর কারওয়ান বাজারে দ্বিতীয় জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

আগামী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে মুসাব্বিরের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা জড়িত তারা যারাই হোক, গ্রেপ্তার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। 

এদিকে মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে শনিবার ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে স্বেচ্ছাসেবক দল। 

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ডিএমপি

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ডিএমপি
ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কোনো ধরনের শঙ্কা না থাকলেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যাতে কোনো সভা, সমাবেশ বা মিছিল করতে না পারে, সে লক্ষ্যে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতীতের মতোই প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

ডিএমপির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, রাজধানীতে সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে। অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালতে সোপর্দ করা হবে।

অন্তরা/

মাগুরায় নবজাতককে বিক্রি করলেন বাবা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
মাগুরায় নবজাতককে বিক্রি করলেন বাবা
ছবি: খবরের কাগজ

মাগুরায় নিজের সদ্যোজাত মেয়েকে স্ত্রীর অজান্তে বিক্রি করে দেওয়ার মতো এক  চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ নাটকীয়তা ও প্রতারণার পর, অবশেষে জেলা পুলিশের তৎপরতায় শিশু টুকটুকিকে (১ মাস ২৫ দিন) উদ্ধার করে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত ৮টায় এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য জানান মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম-সেবা।

প্রেস ব্রিফিংয় সূত্রে জানা গেছে, মাগুরা সদর থানাধীন বেরইল পলিতা ইউনিয়নের রামদেরগাতী এলাকার বাসিন্দা মো. সাগর হোসেন (৩৪) গত ২৭ মে ২০২৬ তারিখে তার স্ত্রী তানজিলা খাতুনের অজান্তে তাদের নবজাতক সন্তানকে অবৈধভাবে বিক্রি করে দেন। তিনি মাত্র ২৫,০০০/- (পঁচিশ হাজার) টাকার বিনিময়ে একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে সন্তানটিকে মঘী ইউনিয়নের দক্ষিণ বীরপুর এলাকার দম্পতি মো. শাহাবুর (২৮) ও মনিরা খাতুন (২৫)-এর নিকট হস্তান্তর করেন।  

সন্তানকে না পেয়ে মা তানজিলা খাতুন ব্যাকুল হয়ে খোঁজ করতে থাকলে, অভিযুক্ত পিতা সাগর হোসেন ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এক অবিশ্বাস্য নাটকের আশ্রয় নেন। তিনি স্ত্রীকে বিভ্রান্ত করতে মিথ্যা তথ্য ছড়ান যে, শিশুটিকে 'জ্বীনে' নিয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, জ্বীনের মাধ্যমেই সন্তানকে ফিরিয়ে আনা হবে—এমন ভুঁয়া আশ্বাস দিয়ে তিনি দীর্ঘ প্রায় দুই মাস অতিবাহিত করেন।  

পরবর্তীতে এ ঘটনাটি মাগুরা জেলা পুলিশের নজরে আসলে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় শত্রুজিৎপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই শুভংকর রায় তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে নামেন। পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে প্রকাশ্যে ও গোপনে নিবিড় তদন্ত শুরু করে। 

ধারাবাহিক তদন্ত, উন্নত তথ্যপ্রযুক্তি এবং স্থানীয় সোর্সের সহায়তায় আজ দুপুরে পুলিশ শিশুটির ক্রেতা শাহাবুর ও মনিরা খাতুনের বাড়ি থেকে শিশু টুকটুকিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধারের পর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অবুঝ শিশুটিকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, এ জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। 

কাসেমুর রহমান/নাঈম

টঙ্গীতে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
টঙ্গীতে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার হওয়া হানি ট্র্যাপ চক্রের তিন সদস্য। ছবি: খবরের কাগজ

গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রেমের প্রলোভনে ফাঁদে ফেলে আটকে রেখে যুবকদের মারধর এবং টাকা আদায়ের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ হানি ট্র্যাপ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ ঘটনায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ জুন টঙ্গীর মুদাফা এলাকার কনসেপ্ট গার্মেন্টস সংলগ্ন একটি ছয়তলা ভবনের চতুর্থ তলায় ভুক্তভোগী সালেহীন মিয়া (২৮) ও তার বন্ধু টিটু মিয়াকে এক নারী সদস্যের মাধ্যমে প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা তাদের একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ ৭৬ হাজার টাকা ও একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয় হানি ট্রাপ চক্র।

এর আগে টঙ্গী পশ্চিম থানায় পেনাল কোডে মামলা করা হয়। মামলার তদন্তে নেমে এসআই এসএম মেহেদী হাসান তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সঙ্গীয় ফোর্সের নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচ সদস্যের হানি ট্র্যাপ চক্রের মধ্যে দুই নারী ও এক পুরুষ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের কাছে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, গ্রেপ্তাররা একটি সংঘবদ্ধ হানি ট্র্যাপ চক্রের সদস্য এবং এর আগেও তারা একই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। হানি ট্র্যাপসহ যেকোনো ধরনের প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। সাধারণ মানুষকে এ ধরনের প্রতারণামূলক ফাঁদ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। কোনো সন্দেহজনক ঘটনার শিকার হলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করছি।

পলাশ প্রধান/নাঈম

নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গণপিটুনি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গণপিটুনি
ছবি: খবরের কাগজ

নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মিন্টু গাজীকে (৪৫) গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। তাকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) রাত ১২টার দিকে পৌরসভার দুর্গাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটক মিন্টু গাজী দুর্গাপুর এলাকার খালেক গাজীর ছেলে ও সম্পর্কে শিশুটির সৎবাবা।

পুলিশ ও ​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল পৌরসভার দুর্গাপুর এলাকার মিন্টু গাজী বুধবার রাত ১২টার দিকে সৎমেয়েকে (১২) নিয়ে মাছ ধরার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। দুর্গাপুর রেলষ্টেশনের পাশে নিয়ে তাকে যৌন হয়রানি করে। এ সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ তাকে আটক করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে হাসপাতালের বারান্দায় পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা চলছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সদর থানার ভরাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ’এ ঘটনায় সদর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

​শরিফুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/

চট্টগ্রামের নিখোঁজের ২ দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:০২ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
চট্টগ্রামের নিখোঁজের ২ দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের পটিয়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর পাঁচ বছর বয়সী শিশু মো. জায়হানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে পটিয়া পৌরসভার দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকার একটি ময়লার ভাগাড় থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিহত জায়হান স্থানীয় গ্যারেজ ব্যবসায়ী শাহজাহানের একমাত্র ছেলে। সে এলাকার একটি নূরানি মাদরাসায় পড়াশোনা করত।

পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিরা একই পরিবারের সদস্য এবং তাদের বসতঘরের পেছনের অংশ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে বাড়ির সামনের সড়কে খেলতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় জায়হান। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান মেলেনি। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেন, হয়তো সে পাশের পুকুরে পড়ে গেছে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুকুরে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি পটিয়া থানাকে অবহিত করে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর শাহজাহানের ঘরে একটি হাতে লেখা চিঠি পাওয়া যায়। সেখানে শিশুটিকে ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ চিঠিটি জব্দ করে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।

স্বজনদের দাবি, অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছিল। পরে ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে হত্যা করে মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করা হয়। তাদের অভিযোগ, সন্দেহভাজনরা পুরো সময়জুড়ে পরিবারের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার ভান করে গেছে।

পটিয়া থানার  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং জড়িত থাকার সন্দেহে আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

রাফিউল আলভী/খাদিজা রুমি/