ময়মনসিংহে মামলার এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ১৭৯ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে এবং সাত জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতভর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন, মো. সাগর আলী হাজী (৬০), তার ছেলে এ. কে. এম রেজাউল করিম (৩৫), সুজন মিয়া (২৭), তার ভাই নাজিম উদ্দিন (৩৭), মো. জয়নাল উদ্দিন (৪২), মো. খলিলুর রহমান (৪০) ও মো. নাজিম উদ্দিন (৪২)। তারা সবাই নগরীর দিঘারকান্দা এলাকার বাসিন্দা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুস সাকিব বলেন, পুলিশের ওপর হামলা চালানোর ঘটনায় রাতে কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. আরিফুল ইসলাম বাদি হয়ে ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে ১৪০-১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। পরে রাতভর অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত থাকায় ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ঘটনার পর একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নগরীর দিগারকান্দা ফিশারি মোড় এলাকায় কয়েকদিন আগে স্থানীয় রাসেল নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে আরিফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা। রাসেল বর্তমানে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়। ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আরিফুল।
মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (এসআই) ফরিদ আহমদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি পুলিশ দল দিগারকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আরিফুলকে গ্রেপ্তার করে। তাকে নিয়ে আসার সময় আরিফুলের বাবা সাগর আলীর নেতৃত্বে কয়েকশ লোক লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে আরিফুলকে হাতকড়াসহ তারা ছিনিয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনায় আহত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের ওপর হামলায় বাকি জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।
কামরুজ্জামান/নাঈম