ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত? আরেক ধাক্কা খেলেন মমতা ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন পেছাল ১২৭ বার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের জোক্সস, ‘ভাবছি মেসিকে ব্রাজিল দলে নিব’ প্রাথমিকে 'ম্যাথ ল্যাব' প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: ববি হাজ্জাজ উন্নয়নের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ গড়ব: প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ আইসিইউতে চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার পঞ্চগড়ে বালি-পাথরে পাওয়া গেলো মর্টার শেল অনুশীলনে ড্রোন আতঙ্ক, বিরক্ত কোরিয়ান কোচ হামে সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭১ রাবির জিএস আম্মারের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ মুন্সীগঞ্জে আরিফ হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও থানায় বিক্ষোভ অগ্ন্যুৎপাতে বইছে আগুনের স্রোত, ভাইরাল ভিডিও স্নায়ুচাপ কাটিয়ে জয়ে চোখ মেক্সিকো কোচের গাজীপুরে পোশাক কারখানায় পানি পান করে অসুস্থ ২ শতাধিক শ্রমিক ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ১২০ মোড়ে বসছে এআই ক্যামেরা বিধিনিষেধ আরোপ সময়ের দাবি রাঙামাটির বরকল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে রসুন ও সার জব্দ নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গণপিটুনি মেসিকে ছাড়িয়ে গেলেন হ্যারি কেইন রিজার্ভ চুরিতে জড়িত ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশের ১০ জন কানাডায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু সীমানা পুনর্নির্ধারণের জন্য এনডিএর আর ৬ ভোট লাগবে টুকটুক ও চিকু পাঠ থেকে ৩টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর , ৩য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক শিশু নিহত চট্টগ্রামের নিখোঁজের ২ দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার টিভিতে আজকের খেলা দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ‘মুখ বন্ধ রাখতে’ বললেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ যেভাবে নির্ধারিত হবে সেরা ৮ ‘তৃতীয় দল’
Nagad desktop

নারীঘটিত কারণে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিবকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৬, ১০:৪১ এএম
নারীঘটিত কারণে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিবকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩
নিহত রাকিব। ছবি: সংগৃহীত

নারীঘটিত কারণে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিব ইসলামকে (২১) কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্য পেয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে শাহবাগ থানার পুলিশ। 

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলেছেন, রাকিবকে হত্যার ঘটনায় হামলাকারী এক যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে সাধারণ জনতা। পরে ওই যুবকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত আরও দুজনকে শনাক্তের পর গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। যেকোনো সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে। 

বিরোধের বিষয়ে তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলেছেন, একাধিক প্রেমের সম্পর্ক ও হামলাকারীদের একজনের স্ত্রীকে নিজের স্ত্রী বানানোর চ্যালেঞ্জ করার ক্ষোভ থেকে হত্যার পরিকল্পনা সাজানো হয় বলে জানা যায়। তবে নিহতের স্বজনদের দাবি, অন্য একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের মাদক কারবারের কথা জেনে যাওয়ায় পরিকল্পিতভাবে রাকিবকে হত্যা করা হয়েছে। 

গতকাল সোমবার এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, পরে গ্রেপ্তার করা দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে নারীঘটিত কোনো বিষয় রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। 

এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল রাকিবের বাবা তরিকুল ইসলাম খোকন বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাকিবের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় অন্তত ১০টি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়া দুটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। একটি গুলি মাথার ডান পাশে কানের ওপর দিয়ে ঢুকে বাম পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। দ্বিতীয় গুলিটি পিঠের ডান পাশ দিয়ে শরীর ভেদ করে। 

গতকাল ঢামেক মর্গের সামনে রাবিকের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রাকিবের স্ত্রী হাবিবা আক্তার বলেন, ‘বগুড়ায় এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিয়েতে গিয়ে জান্নাত মুন নামে অন্য এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গ আমার স্বামীর পরিচয় হয়। এরপর থেকে জান্নাত আমাদের বাসায় যাতায়াত করতেন। সে সময় রাকিব জানতে পারে ওই নারী কার সঙ্গে যেন ফোনে মাদক পরিবহনের বিষয়ে কথা বলতেন। এ বিষয়টি নিয়ে জান্নাতের বয়ফ্রেন্ড আমার স্বামীকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। ওই ঘটনার কিছুদিন পরে ফেসবুকে কমেন্ট করা নিয়েও মুনের বয়ফ্রেন্ড আবারও হুমকি দেয় রাকিবকে। এরপর কাজের প্রস্তাব দিয়ে খিলগাঁও ডাকলে আমাদের সন্দেহ হয়। তখন গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়। গত রবিবার রাতে এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে শহিদ মিনার এলাকায় দেখা করতে গেলে হুমকি দেওয়া ওই ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে রাকিবকে হত্যা করে থাকতে পারে।’ 

ছেলের মৃত্যুতে আহাজারি করতে করতে রাকিবের মা রাজিয়া বেগম জানান, তার বুকের মানিককে সন্ত্রাসীরা কেড়ে নিয়েছে। রাকিবের সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল না। কোনো ঝগড়া-বিবাদও ছিল না। কী কারণে তার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো, তিনি জানেন না। সরকারের কাছে হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। 

এর আগে রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে রাকিবকে গুলি করে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা। ঘটনার পর কয়েকজন পথচারী তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। 

রাকিব পুরান ঢাকার শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পুরান ঢাকার বংশালের নাজিমুদ্দিন রোডে একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী হাবিবাকে সঙ্গে নিয়ে থাকতেন। রাকিবের গ্রামের বাড়ি ভোলা সদর থানার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে। রাকিবের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হলের অফিস সহায়ক। তার মা শেখ বোরহানুদ্দিন কলেজের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখার অফিস সহায়ক।

নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গণপিটুনি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গণপিটুনি
ছবি: খবরের কাগজ

নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মিন্টু গাজীকে (৪৫) গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। তাকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) রাত ১২টার দিকে পৌরসভার দুর্গাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটক মিন্টু গাজী দুর্গাপুর এলাকার খালেক গাজীর ছেলে ও সম্পর্কে শিশুটির সৎবাবা।

পুলিশ ও ​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল পৌরসভার দুর্গাপুর এলাকার মিন্টু গাজী বুধবার রাত ১২টার দিকে সৎমেয়েকে (১২) নিয়ে মাছ ধরার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। দুর্গাপুর রেলষ্টেশনের পাশে নিয়ে তাকে যৌন হয়রানি করে। এ সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ তাকে আটক করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে হাসপাতালের বারান্দায় পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা চলছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সদর থানার ভরাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ’এ ঘটনায় সদর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

​শরিফুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/

চট্টগ্রামের নিখোঁজের ২ দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:০২ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
চট্টগ্রামের নিখোঁজের ২ দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের পটিয়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর পাঁচ বছর বয়সী শিশু মো. জায়হানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে পটিয়া পৌরসভার দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকার একটি ময়লার ভাগাড় থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিহত জায়হান স্থানীয় গ্যারেজ ব্যবসায়ী শাহজাহানের একমাত্র ছেলে। সে এলাকার একটি নূরানি মাদরাসায় পড়াশোনা করত।

পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিরা একই পরিবারের সদস্য এবং তাদের বসতঘরের পেছনের অংশ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে বাড়ির সামনের সড়কে খেলতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় জায়হান। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান মেলেনি। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেন, হয়তো সে পাশের পুকুরে পড়ে গেছে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুকুরে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি পটিয়া থানাকে অবহিত করে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর শাহজাহানের ঘরে একটি হাতে লেখা চিঠি পাওয়া যায়। সেখানে শিশুটিকে ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ চিঠিটি জব্দ করে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।

স্বজনদের দাবি, অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছিল। পরে ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে হত্যা করে মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করা হয়। তাদের অভিযোগ, সন্দেহভাজনরা পুরো সময়জুড়ে পরিবারের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার ভান করে গেছে।

পটিয়া থানার  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং জড়িত থাকার সন্দেহে আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

রাফিউল আলভী/খাদিজা রুমি/

লৌহজংয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:২০ এএম
লৌহজংয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা
ছবি: খবরের কাগজ

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে সোহেল মুন্সী (৩৯) নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (১৭ জুন) রাতে উপজেলার গাওদিয়া ইউনিয়নের কালুরগাঁও গ্রামে নিজ বাড়ির উঠানে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলেও আগুন দেওয়া হয়।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, নিহত সোহেল বুধবার রাতে রাতে খেয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। সন্তান নিয়ে পাশের ঘরে শ্বাশুড়ির সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন তার স্ত্রী নুপুর। গভীর রাতে বাড়ির ওঠানে আগুন দেখতে পেয়ে সোহেলের স্ত্রী ও মা ঘর থেকে বেড়িয়ে এসে দেখেন ওঠানে সোহেলের রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে এবং তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন জলছে। কে বা কারা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর হত্যা করে।

বিষয়টি স্থানীয়রা পুলিশকে জানালে ভোরে পুলিশ গিয়ে সোহেলের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগর-সিরাজদিখান সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনিছুর রহমান জানান, গভীর রাতে ঘর থেকে বের করে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। কি কারণে এ হত্যাকাণ্ড তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মঈনুদ্দীন সুমন/খাদিজা রুমি/

পাওনা টাকার বিরোধেই খুন হন আরিফ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৪০ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:২১ এএম
পাওনা টাকার বিরোধেই খুন হন আরিফ
ছবি: খবরের কাগজ

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার শিলমন্দি এলাকার আলোচিত আরিফ হোসেন (৩৭) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরেই আরিফকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি নুর মোহাম্মদ (৩০) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও কয়েকজনের নাম বলেছেন।

মুন্সীগঞ্জ পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা জাহান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার শিলমন্দি এলাকার বাসিন্দা আরিফ হোসেনের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার চরকিশোরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা নুর মোহাম্মদের ৪৯ হাজার টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধ ছিল। বিরোধের জেরে গত ১৩ জুন রাতে নুর মোহাম্মদ তার সহযোগীদের নিয়ে আরিফকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

তদন্তে জানা যায়, ঘটনার রাতে নুর মোহাম্মদ কৌশলে আরিফকে ডেকে নেন। পরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সহযোগীদের সহায়তায় তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ ঘটনাস্থলের পাশে ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যায়।

পরদিন ১৪ জুন ভোর আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের শিলমন্দি এলাকার একটি ঘাসের জমিতে আরিফের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের মা ফরিদা বেগম বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলাটি অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। তদন্তকারী দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে।

তদন্তের একপর্যায়ে গত ১৬ জুন রাত ৮টা ৪০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর এলাকা থেকে প্রধান আসামি নুর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে তার ভাই আকাশকেও আটক করা হয়।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে নুর মোহাম্মদ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে তিনি পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি তুলে ধরে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং ঘটনায় অংশ নেওয়া অন্যান্য সহযোগীদের নামও প্রকাশ করেন।

নুর মোহাম্মদ ও আকাশ গ্রেপ্তার হলেও বাকি আসামিরা এখনও পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানায় পিবিআই।

মঈনুদ্দীন সুমন/খাদিজা রুমি/

চট্টগ্রামের অপহরণকারীদের হুমকিমূলক চিরকুট,নিখোঁজ শিশু

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:২৩ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৪০ এএম
চট্টগ্রামের অপহরণকারীদের হুমকিমূলক চিরকুট,নিখোঁজ শিশু
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দার খীল এলাকার পূর্বপাড়া গ্রামে ঘর থেকে বের হয়ে খেলতে গিয়েছিল পাঁচ বছরের শিশু জায়হান। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরিবারের উদ্বেগ ধীরে ধীরে রূপ নেয় আতঙ্কে। আর সেই আতঙ্ককে আরও বাড়িয়ে দেয় একটি হাতে লেখা চিঠি, যেখানে শিশুটিকে অপহরণের দাবি করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়েছে দুর্বৃত্তরা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন)  দুপুরে ঘটে এ ঘটনা। অপহরণ করা শিশু মো. জায়হান স্থানীয় গ্যারেজ ব্যবসায়ী শাহজাহানের একমাত্র সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার দুপুরেও বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলাধুলা করছিল জায়হান। দুপুর ১২টার পর তাকে আর দেখা না গেলে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। আশেপাশের বাড়ি, আত্মীয়-স্বজনের বাসাসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও কোনো সন্ধান মেলেনি। এমনকি শিশুটি পুকুরে পড়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাড়ির সামনের পুকুরেও ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু কোথাও তার হদিস পাওয়া যায়নি।

সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন মা-বাবা। একপর্যায়ে বিষয়টি পটিয়া থানাকে জানিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে শিশুটির বাড়িতে ভিড় করেন স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিকেল তিনটার দিকে ঘটে নতুন ঘটনা। পরিবারের সদস্যরা ঘরের সামনের একটি কক্ষের বিছানায় একটি হাতে লেখা চিঠি দেখতে পান। ধারণা করা হচ্ছে, বাড়িতে মানুষের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে অজ্ঞাত কেউ চিঠিটি সেখানে রেখে যায়।

চিঠিতে দাবি করা হয়, শিশুটি অপহরণকারীদের হেফাজতে রয়েছে। তাকে জীবিত ফিরে পেতে হলে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। পাশাপাশি পুলিশ বা অন্য কাউকে জানালে শিশুটির ক্ষতি করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি পরিবারের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয় চিঠিতে।

চিঠি পাওয়ার পর পরিবার ও এলাকাবাসী নিশ্চিত হন যে এটি পরিকল্পিত অপহরণের ঘটনা। খবর পেয়ে পটিয়া থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিঠিসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে এবং তদন্ত শুরু করে।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রযুক্তিনির্ভর একাধিক টিম একযোগে কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিঠিটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অপহরণকারীদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

একমাত্র সন্তানকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় দিন কাটছে শাহজাহান ও তার পরিবারের। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং শিশুটির দ্রুত ও নিরাপদ উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রাফিউল আকরাম আলভী/খাদিজা রুমি/