ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সামরিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান সেনাপ্রধানের উখিয়ায় আইওএমের গাড়ির চাপায় অজ্ঞাত শিশুর মৃত্যু ভার্চুয়াল জুয়ার ফাঁদে সমাজ এসএসএফকে জনগণের সঙ্গে সংযোগ অটুট রাখার নির্দেশ তারেক রহমানের গানেই লিজার ব্যস্ততা প্রয়াত বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের নামে আমন্ত্রণপত্র আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ আবার জ্বলে ওঠো জার্মানি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২০০ জাতের আম নিয়ে মেলা শুরু পাহাড়, বন আর নীল জলের অপূর্ব মিলন ৪টি চলচ্চিত্র নিয়ে ‘সামার বাংলা হিট ফেস্ট’ তিন নাটকে প্রশংসিত হিমি পুশ-ইন সমস্যা সমাধানের দাবিতে সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের প্রবাসী নিহত তপ্ত গরমে পশুপাখির প্রতি সদয় হোন সিনচিয়াংয়ে সংস্কৃতি ও পর্যটন উন্নয়ন সম্মেলন অনুষ্ঠিত সংঘাত নয়, হোক সম্প্রীতির উদযাপন কানসাসের দাবদাহে ‘কুলিং ভেস্টে’ অনুশীলন আর্জেন্টিনার চীনের ছাংছুনে অপটিক্স ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির বিপ্লব বাংলাদেশের বাজারে এল টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো খোকসায় ২০ বছর ধরে অচল কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, ভোগান্তিতে কৃষক-খামারি কেইনই ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সেরা স্ট্রাইকার: লিনেকার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইন, সংলাপের পরামর্শ জাতিসংঘের গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল পরিদর্শন করলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ কৃষিকাজে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র নতুন অ্যান্ড্রয়েড ১৭ সংস্করণে গুগলের বড় চমক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান রাখায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সনদ পেল মার্কেন্টাইল ব্যাংক এবি ব্যাংক পিএলসির ৪৪তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত ডিজিটাল পরিসরে নারীর নিরাপত্তা ও সহিংসতার স্বরূপ রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যা! একটি জাতির অবক্ষয়ের নির্মম চিত্র!

কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার
নিহত বুলেট বৈরাগী

কুমিল্লায় মহাসড়কের পাশ থেকে বুলেট বৈরাগী (২৫) নামে এক কাস্টমস কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণে গিয়ে ফেরার পথে নিখোঁজ হওয়ার ১২ ঘণ্টা পর শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকার একটি হোটেলের পাশের ফুটপাত থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ।

নিহত বুলেট বৈরাগী কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ছিলেন। চট্টগ্রামে তিনি ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।

শনিবার দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোমিন।

নিহতের পারিবারিকসূত্রে জানা যায়, বুলেট বৈরাগী গত ১১ এপ্রিল সরকারি প্রশিক্ষণে চট্টগ্রামে যান। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে প্রশিক্ষণ শেষে তিনি চট্টগ্রামের অলঙ্কার মোড় থেকে বাসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। পথে পরিবারের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে কথা হয়। সবশেষ রাত ২টা ২৫ মিনিটের দিকে তিনি ফোন করে জানান, তিনি কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছেন।

তবে তার মা নীলিমা বৈরাগী জানান, শেষবার কথা বলার সময় তার কণ্ঠ অপরিচিত মনে হয়েছে।

তিনি জানান, কথা বলার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা কল দিলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পান। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তার কোনো হদিস না পেয়ে শনিবার সকালে বাবা সুশীল বৈরাগী কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোমিন জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ মহাসড়কের আইরিশ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পাশের ফুটপাত থেকে অজ্ঞাত মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে দুপুর ১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে মরদেহটি বুলেট বৈরাগীর বলে শনাক্ত করেন।

ওসির দেওয়া তথ্যমতে, মরদেহে বড় কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও মুখমণ্ডল কিছুটা রক্তাক্ত ছিল।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার খবরের কাগজকে জানান, নিখোঁজের বিষয়ে পরিবার শনিবার সকালে অভিযোগ করেছিল। পরে মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনরা তা শনাক্ত করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বুলেট বৈরাগীর বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায়। চাকরির সূত্রে তিনি পরিবার নিয়ে কুমিল্লায় বসবাস করতেন। তার ৯ মাস বয়সী এক সন্তান রয়েছে।

অমিয়/

নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গণপিটুনি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গণপিটুনি
ছবি: খবরের কাগজ

নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মিন্টু গাজীকে (৪৫) গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। তাকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) রাত ১২টার দিকে পৌরসভার দুর্গাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটক মিন্টু গাজী দুর্গাপুর এলাকার খালেক গাজীর ছেলে ও সম্পর্কে শিশুটির সৎবাবা।

পুলিশ ও ​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল পৌরসভার দুর্গাপুর এলাকার মিন্টু গাজী বুধবার রাত ১২টার দিকে সৎমেয়েকে (১২) নিয়ে মাছ ধরার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। দুর্গাপুর রেলষ্টেশনের পাশে নিয়ে তাকে যৌন হয়রানি করে। এ সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ তাকে আটক করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে হাসপাতালের বারান্দায় পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা চলছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সদর থানার ভরাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ’এ ঘটনায় সদর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

​শরিফুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/

চট্টগ্রামের নিখোঁজের ২ দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:০২ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
চট্টগ্রামের নিখোঁজের ২ দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের পটিয়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর পাঁচ বছর বয়সী শিশু মো. জায়হানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে পটিয়া পৌরসভার দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকার একটি ময়লার ভাগাড় থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিহত জায়হান স্থানীয় গ্যারেজ ব্যবসায়ী শাহজাহানের একমাত্র ছেলে। সে এলাকার একটি নূরানি মাদরাসায় পড়াশোনা করত।

পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিরা একই পরিবারের সদস্য এবং তাদের বসতঘরের পেছনের অংশ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে বাড়ির সামনের সড়কে খেলতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় জায়হান। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান মেলেনি। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেন, হয়তো সে পাশের পুকুরে পড়ে গেছে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুকুরে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি পটিয়া থানাকে অবহিত করে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর শাহজাহানের ঘরে একটি হাতে লেখা চিঠি পাওয়া যায়। সেখানে শিশুটিকে ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ চিঠিটি জব্দ করে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।

স্বজনদের দাবি, অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছিল। পরে ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে হত্যা করে মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করা হয়। তাদের অভিযোগ, সন্দেহভাজনরা পুরো সময়জুড়ে পরিবারের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার ভান করে গেছে।

পটিয়া থানার  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং জড়িত থাকার সন্দেহে আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

রাফিউল আলভী/খাদিজা রুমি/

লৌহজংয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:২০ এএম
লৌহজংয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা
ছবি: খবরের কাগজ

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে সোহেল মুন্সী (৩৯) নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (১৭ জুন) রাতে উপজেলার গাওদিয়া ইউনিয়নের কালুরগাঁও গ্রামে নিজ বাড়ির উঠানে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলেও আগুন দেওয়া হয়।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, নিহত সোহেল বুধবার রাতে রাতে খেয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। সন্তান নিয়ে পাশের ঘরে শ্বাশুড়ির সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন তার স্ত্রী নুপুর। গভীর রাতে বাড়ির ওঠানে আগুন দেখতে পেয়ে সোহেলের স্ত্রী ও মা ঘর থেকে বেড়িয়ে এসে দেখেন ওঠানে সোহেলের রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে এবং তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন জলছে। কে বা কারা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর হত্যা করে।

বিষয়টি স্থানীয়রা পুলিশকে জানালে ভোরে পুলিশ গিয়ে সোহেলের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগর-সিরাজদিখান সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনিছুর রহমান জানান, গভীর রাতে ঘর থেকে বের করে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। কি কারণে এ হত্যাকাণ্ড তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মঈনুদ্দীন সুমন/খাদিজা রুমি/

পাওনা টাকার বিরোধেই খুন হন আরিফ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৪০ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:২১ এএম
পাওনা টাকার বিরোধেই খুন হন আরিফ
ছবি: খবরের কাগজ

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার শিলমন্দি এলাকার আলোচিত আরিফ হোসেন (৩৭) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরেই আরিফকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি নুর মোহাম্মদ (৩০) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও কয়েকজনের নাম বলেছেন।

মুন্সীগঞ্জ পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা জাহান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার শিলমন্দি এলাকার বাসিন্দা আরিফ হোসেনের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার চরকিশোরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা নুর মোহাম্মদের ৪৯ হাজার টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধ ছিল। বিরোধের জেরে গত ১৩ জুন রাতে নুর মোহাম্মদ তার সহযোগীদের নিয়ে আরিফকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

তদন্তে জানা যায়, ঘটনার রাতে নুর মোহাম্মদ কৌশলে আরিফকে ডেকে নেন। পরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সহযোগীদের সহায়তায় তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ ঘটনাস্থলের পাশে ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যায়।

পরদিন ১৪ জুন ভোর আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের শিলমন্দি এলাকার একটি ঘাসের জমিতে আরিফের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের মা ফরিদা বেগম বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলাটি অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। তদন্তকারী দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে।

তদন্তের একপর্যায়ে গত ১৬ জুন রাত ৮টা ৪০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর এলাকা থেকে প্রধান আসামি নুর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে তার ভাই আকাশকেও আটক করা হয়।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে নুর মোহাম্মদ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে তিনি পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি তুলে ধরে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং ঘটনায় অংশ নেওয়া অন্যান্য সহযোগীদের নামও প্রকাশ করেন।

নুর মোহাম্মদ ও আকাশ গ্রেপ্তার হলেও বাকি আসামিরা এখনও পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানায় পিবিআই।

মঈনুদ্দীন সুমন/খাদিজা রুমি/

চট্টগ্রামের অপহরণকারীদের হুমকিমূলক চিরকুট,নিখোঁজ শিশু

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:২৩ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৪০ এএম
চট্টগ্রামের অপহরণকারীদের হুমকিমূলক চিরকুট,নিখোঁজ শিশু
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দার খীল এলাকার পূর্বপাড়া গ্রামে ঘর থেকে বের হয়ে খেলতে গিয়েছিল পাঁচ বছরের শিশু জায়হান। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরিবারের উদ্বেগ ধীরে ধীরে রূপ নেয় আতঙ্কে। আর সেই আতঙ্ককে আরও বাড়িয়ে দেয় একটি হাতে লেখা চিঠি, যেখানে শিশুটিকে অপহরণের দাবি করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়েছে দুর্বৃত্তরা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন)  দুপুরে ঘটে এ ঘটনা। অপহরণ করা শিশু মো. জায়হান স্থানীয় গ্যারেজ ব্যবসায়ী শাহজাহানের একমাত্র সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার দুপুরেও বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলাধুলা করছিল জায়হান। দুপুর ১২টার পর তাকে আর দেখা না গেলে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। আশেপাশের বাড়ি, আত্মীয়-স্বজনের বাসাসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও কোনো সন্ধান মেলেনি। এমনকি শিশুটি পুকুরে পড়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাড়ির সামনের পুকুরেও ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু কোথাও তার হদিস পাওয়া যায়নি।

সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন মা-বাবা। একপর্যায়ে বিষয়টি পটিয়া থানাকে জানিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে শিশুটির বাড়িতে ভিড় করেন স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিকেল তিনটার দিকে ঘটে নতুন ঘটনা। পরিবারের সদস্যরা ঘরের সামনের একটি কক্ষের বিছানায় একটি হাতে লেখা চিঠি দেখতে পান। ধারণা করা হচ্ছে, বাড়িতে মানুষের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে অজ্ঞাত কেউ চিঠিটি সেখানে রেখে যায়।

চিঠিতে দাবি করা হয়, শিশুটি অপহরণকারীদের হেফাজতে রয়েছে। তাকে জীবিত ফিরে পেতে হলে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। পাশাপাশি পুলিশ বা অন্য কাউকে জানালে শিশুটির ক্ষতি করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি পরিবারের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয় চিঠিতে।

চিঠি পাওয়ার পর পরিবার ও এলাকাবাসী নিশ্চিত হন যে এটি পরিকল্পিত অপহরণের ঘটনা। খবর পেয়ে পটিয়া থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিঠিসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে এবং তদন্ত শুরু করে।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রযুক্তিনির্ভর একাধিক টিম একযোগে কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিঠিটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অপহরণকারীদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

একমাত্র সন্তানকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় দিন কাটছে শাহজাহান ও তার পরিবারের। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং শিশুটির দ্রুত ও নিরাপদ উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রাফিউল আকরাম আলভী/খাদিজা রুমি/